অক্টোবর ২৬, ২০২০

হিজড়াদের চাদাবাজিতে অতিষ্ঠ জগন্নাথপুর বাসী

১ min read

জগন্নাথপুর প্রতিনিধি : সুনামগঞ্জ জেলার জগন্নাথপুর উপজেলার বিভিন্ন স্থানে হিজড়াদের দৌরাত্ম আর চাঁদাবাজিতে অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছেন সাধারণ  মানুষ। বেশ কিছুদিন হয় উপজেলা জুড়ে  দাপিয়ে বেড়াচ্ছে হিজড়া বাহিনী। বিভিন্ন ভাবে বিভক্ত হয়ে গ্রাম -মহল্লা এলাকা থেকে শুরু করে হাট-বাজার, রাস্তাঘাট, দোকানপাট, যানবাহন, বাসাবাড়ি সব যায়গায় চাঁদাবাজি করছে তারা। এছাড়া বিভিন্ন  নাচ-গানের নাম করে পরিবারের কাছ থেকে জোর করে হাতিয়ে নিচ্ছে মোটা অঙ্কের টাকা। ইদানীং তাদের মাত্রাতিরিক্ত অত্যাচারে অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছেন  জগন্নাথপুর উপজেলাবাসী।
প্রতিনিয়তো চাঁদাবাজির অভিযোগ উঠেছে  এই হিজড়া বাহিনীর বিরুদ্ধে । কয়েকজন ভুক্তভোগী অভিযোগ জানাতে গিয়ে বলেন,উপজেলাজুড়ে আজকাল হরহামেশাই চোখে পড়ছে হিজড়া বাহিনীর দৌরাত্ম ।বিশেষ করে বরযাত্রী বহনকারী গাড়ী বাসাবাড়িতে অথবা বিভিন্ন সেন্টারে বিয়ে অথবা যে-কোন অনুষ্ঠানের খবর পেলেই দলবল নিয়ে ‘চাঁদার দাবীতে’ হানা দিচ্ছে হিজড়াদের দল ।
৫-৬জনেরএক একটি গ্রুপ বিভিন্ন ব্যবসা প্রতিষ্ঠান, অফিস, বাসা-বাড়ি, এমনকি সাজানো বিয়ের গাড়িতে ও চাঁদাবাজি করছে। চাঁদার জন্য তারা চিৎকার-চেঁচামেচি, অশ্লীল অঙ্গভঙ্গি করে মোটা অঙ্কের টাকা দাবি করে। প্রয়োজনে তাদের কেউ কেউ বিবস্ত্র হয় এবং এই কৌশলে টার্গেটকে কাবু করে টাকা নিয়ে যায়।
হুট করে হিজড়াদের আক্রমন ও নানা দাবীর মুখে এভাবেই ভয়াবহ রকমের বিব্রত হচ্ছেন অসংখ্য মানুষ।বিভিন্ন সময়ে জগন্নাথপুর হাসপাতাল পয়েন্টে, স্কুল কলেজ এলাকার   সামনে এমনি এক বিব্রত ঘটনার মুখোমুখি হচ্ছেন ছাত্রছাত্রী, ডাক্তার, বরযাত্রী, সাংবাদিক সহ বিভিন্ন পেশার মানুষ । স্থানীয় হিজড়াদের দাবী  বিয়ের গাড়িথেকে তাদের দিতে হবে ৫/৭ হাজার টাকা। হিজড়া বাহিনীর আক্রমনে বিব্রত হবার ভয়ে বরের গাড়িতে থাকা বরযাত্রীরা টাকা ‘উৎকোচ’ দিতে বাধ্য হন । না দিলে হঠাত করেই ৫/৬ জনের একটি হিজড়া বাহিনী বরের গাড়ির সামনে এসে অশ্লীল অঙ্গভঙ্গির সাথে সাথে অকথ্য ভাষায় গালাগালি শুরু করে দেয় বা করতে থাকে। এসময় বরের সাথে বরযাত্রী তাদের চলে যেতে অনুরোধ করলে মারমুখি হয়ে উঠে হিজড়ার দল। অনেক সময় মারধরের মত ঘটনা ঘটে থাকে ।
ভুক্তভোগীরা বলছেন, হিজড়াদের বিরুদ্ধে আইন-শৃঙ্খখলা বাহিনীর কাছে অভিযোগ করেও কোনো সুফল পাওয়া যাচ্ছে না, যে কারণে হিজড়ারা আরো বেপরোয়া হয়ে উঠছে।
এমন চিত্র প্রায় সবখানেই। স্কুল কলেজের সামনে, রাস্তার পাশে দোকানে, ফুটপাতের দোকানে জোর করে তারা চাাঁদবাজি করছে। টাকা না দিলে হিজরাদের কাছে অপমানিত হতে হয় দোকানিদের। বিভিন্ন স্কুলের সামনে অবস্থান করে ছাত্র-ছাত্রীদের জিম্মি করে টাকা আদায়ের ঘটনাও ঘটছে। এমনকি মায়েদের ব্যাগ থেকে জোর করে টাকা নিয়ে যায়।
এছাড়াও বাসাবাড়ি গিয়ে হিজড়ারা চাঁদা চাচ্ছে, টাকা না দিলে হুমকি দেয় তাদের।
এসব ঘটনার প্রেক্ষিতে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর কর্মকর্তারা বলছেন, হিজড়াদের বিরুদ্ধে লিখিতভাবে অভিযোগ পাওয়া গেলে অবশ্যই ব্যবস্থা নেয়া হবে।
জগন্নাথপুর থানার ওসি নতুন আলো নিউজকে  জানালেন , হিজড়াদের টাকা তোলার বিষয়টিকে অনেকে স্বাভাবিক মনে করে থাকেন। এটি নিয়ে কোনো মামলা বা জিডি করা হয় না। মানুষ সাধ্যমতো তাদের টাকা ও বিভিন্ন মালামাল দিয়ে তাদের সহযোগিতা করে আসছে। কিন্তু গত কয়েক মাস থেকে হিজড়াদের আচরণ বদলে গেছে। আগের সাহায্য চেয়ে টাকা তোলা এখন জবরদস্তি চাঁদা আদায়ে পরিণত হয়েছে।
শুধু উপজেলার বাসা-বাড়ি, দোকানপাট, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও বিভিন্ন অফিস-আদালতেই হিজড়াদের চাঁদাবাজি সীমাবদ্ধ নয়, ইদানীং তারা সংঘবদ্ধভাবে চড়াও হচ্ছে অজয়া পাড়া গ্রাম, মহল্লায়ও। বাড়ি-বাড়ি মেয়েদের কাছে হাজির হয়ে তারা ৫০-১০০ টাকা হারে হাতিয়ে নিচ্ছে। জানা গেছে, হিজড়াদের চাঁদা তোলা সহজ তাই অনেক সক্ষম লোকও হিজড়া সেজে এই ব্যবসায় নেমে পড়বে।জগন্নাথপুর উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় হিজড়াদের কমবেশি উৎপাত থাকলেও হাসপাতাল ও কলেজ এলাকায়, হিজরা বেশি অত্যাচার করছে।
হিজড়াদের এমন ভয়াবহ দৌরাত্ম থামাতে প্রশাসনসহ সংশ্লিষ্ট কতৃপক্ষ অতিদ্রুত  কোন কার্যকরি ব্যবস্থা নেবেন,এমনটাই প্রত্যাশা ভুক্তভোগীরা।

Leave a Reply

Your email address will not be published.

Copyright © notunalonews24.com All rights reserved. | Newsphere by AF themes.