অক্টোবর ২৭, ২০২০

ছাতকে রেলওয়ের বাসাও ভূমি ভাড়া দিয়ে বছরে কোটি টাকা আত্মসাত

১ min read

সুনামগঞ্জ জেলা প্রতিনিধি,ছাতকে রেলওয়ের বাসা-বাড়ি, পুকুর, ভূমি ও অন্যান্য স্থাপনা একশ্রেণীর পেশাদার ভূমিখেকোচক্র ও কতিপয় অসাধু কর্মচারি জবর-দখল করে ভাড়া দিয়ে প্রতি বছর হাতিয়ে নিচ্ছে কোটি কোটি টাকা। আর এসব বাসা, দোকান ও জবর-দখলদারদের ব্যবহৃত বিদ্যুৎ, গ্যাস ও পানির মাসোহারা লাখ লাখ টাকার বিল পরিশোধ করছে রেল কর্তৃপক্ষ। সরকারের প্রতি মাসে বিপুল অংকের টাকার ক্ষতি হলেও এসব যেন দেখার কেউ নেই। জানা যায়, রেলওয়ের বাসা দখলে রয়েছেন দু’সহোদর রেল কর্মচারি মহব্বত আলীও শওকত আলী। তারা কয়েকটি আবাসিক কোয়ার্টার জবর-দখল করে গরুর খামারও সাধারণ মানুষের মধ্যে ভাড়া দিয়ে মাসোহারা হাজার হাজার টাকা হাতিয়ে নিচ্ছেন। এভাবে বাগবাড়ি গ্রামের মৃত নূরুল ইসলামের পুত্র আব্দুস সালাম এসিল্যান্ড অফিসের সামনেই রেলওয়ের একটি আবাসিক কোয়ার্টার জবর-দখল করে ভাড়া দিয়েছে। এসব বাসায় রেলওয়ের বিদ্যুৎ, গ্যাস ও পানি ব্যবহার করা হচ্ছে। এভাবে টিএলআর বাচ্চু মিয়াও ফারুক আহমদ কয়েকটি কোয়ার্টার জবর-দখল করে বসবাস করছেন। যদিও টিএলআরের নামে বাসা বরাদ্ধ দেয়ার সরকারি কোন নীতিমালা নেই। এছাড়া শ্মশানঘাট ও রেস্টহাউজ সংলগ্ন ২য় শ্রেণীর কোয়ার্টারে ৩য় ও ৪র্থ শ্রেণীর কর্মচারি বসবাস করছে। এখানে ১ম শ্রেণীর কর্মকর্তাদের আবাসিক কোয়ার্টারগুলো কর্মকর্তা না থাকায় পরিত্যাক্ত অবস্থায় রয়েছে দীর্ঘদিন থেকে। এসব বাসার দেয়াল ও ছাদে বিভিন্ন প্রজাতির গাছ-গাছালি গজিয়েছে। দরজা-জানালা, গ্রীলগুলো চলে গেছে পেশাদার চোরদের পেটে। রেলওয়ে হাসপাতালে ডাক্তার ও নার্স না থাকায় দীর্ঘদিন থেকে বন্ধ রয়েছে। এতে কর্মকর্তা ও কর্মচারিরা চিকিৎসা সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। এছাড়া রেলওয়ের ভূমি জবর-দখলের রয়েছে চাঞ্চল্যকর তথ্য। খোদ এসিল্যান্ড অফিসের সামনেই রেলওয়ের ভূমিতে পৌরসভার উদ্যোগে গড়ে তোলা হয়েছে একটি সিএনজি-লেগুনা স্ট্যান্ড। স্ট্যান্ডের পাশেই বাগবাড়ি গ্রামের আব্দুস সালাম রেলওয়ের সাল্ডিং লাইন জবর-দখল করে গড়ে তোলেছে সেমিপাকাসহ অর্ধশতাধিক দোকানকোটা। এসব অবৈধ দোকানে কাগজপত্র ছাড়াই বিদ্যুৎ সংযোগ দিয়েছে পিডিবি। রেলওয়ের মালামাল গুদাম জবর-দখল করে রিকশা গেরেজ ও মাদকের আস্তানা গড়ে তোলা হয়েছে। রাতে গেরেজে রেলওয়ের বিদ্যুতে চার্জ দেয়া হয় অর্ধশতাধিক ব্যাটারি চালিত অটো-রিকশা (টমটম)। এতে অবৈধভাবে জবর-দখলকৃত বাসা, দোকানও গুদামের গেরেজে বিদ্যুৎ, গ্যাস ও পানি বাবত মাসোহারা লাখ লাখ টাকা বিল পরিশোধ করছে রেল বিভাগ। জানা গেছে, রেলওয়ে ভূমির শিববাড়িঘাট থেকে শ্মশানঘাট পর্যন্ত সুরমা নদীর তীর এলাকা জবর-দখল করে বিভিন্ন সিমেন্ট কোম্পানী, ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের কাছে ভাড়া দিয়ে বছরে প্রায় কোটি টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে বাগবাড়ি গ্রামের মৃত তোতা মিয়ার চৌধুরির পুত্র ফারুক চৌধুরি। এভাবে শ্মশানঘাট থেকে রেস্ট হাউজ পর্যন্ত রেল ভূমিতে ইট, বালু ও পাথর ব্যবসা করছেন ৭নং ওয়ার্ডের পৌর কাউন্সিলর তাপস চৌধুরি। নির্বাহী প্রকৌশলীর কার্যালয়ের পেছনের পুকুর জবর-দখল করে মাছের খমার গড়ে তোলেছেন বাগবাড়ি গ্রামের মৃত জমসিদ আলীর পুত্র খেলন মিয়া। এছাড়া কংক্রিট স্লিপার কারখানা থেকে রেলওয়ের ১নং ব্রিজ পর্যন্ত রেল লাইনের পশ্চিম পাশে অবৈধভাবে গড়ে তোলা হয়েছে প্রায় শতাধিক স্থাপনা। এসব স্থাপনায় দিন-রাত চলে মদ, জুয়া, গাঁজা, হিরোইন, ইয়াবাসহ অসামাজিক কার্যকলাপ। শওকত আলী বলেন, বাসাগুলো পরিত্যক্ত থাকায় এগুলো সংস্কার করে ভাড়া দিয়েছি। রেলের প্রয়োজনে এসব বাসা ছেড়ে দেবো। এব্যাপারে টিএলআর বাচ্চু মিয়া বলেন, আইডব্লিউ ফারুক আহমদ তার নামে মৌখিকভাবে বাসা বরাদ্ধ করেছেন। আব্দুস সালাম জানান, রেল বিভাগের সিলেটের কর্মকর্তা আসাদুদ্দৌলাকে মাসোহারা দিয়েই তিনি রেলওয়ের জাগায় দোকান নির্মাণসহ সবগুলো ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছেন। ফারুক চৌধুরি, তাপস চৌধুরি ও খেলন মিয়া জানান, রেলওয়ের কাছ থেকে লিজ নিয়েই তারা রেলওয়ের ভূমি ব্যবহার করছেন। রেল কর্মকর্তা আসাদদ্দৌলার বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, আব্দুস সালাম কর্তৃক রেলওয়ের ভূমি জবর-দখলের বিষয়টি তার জানা নেই এবং মাসোহারা আদায়ের বিষয়টিও ভিত্তিহীন বলে জানান। নির্বাহী প্রকৌশলী আহসান জাবির বলেন, তিনি ঢাকা ডিভিশনের দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি ছাতকবাজার রেলওয়ের অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করছেন। এজন্যে রেলওয়ের ভূমি, বাসা ও গুদামসহ অন্যান্য স্থাপনা জবর-দখলের ব্যাপারে তার জানা নেই। তবে খোঁজ নিয়ে এব্যাপারে ব্যবস্থা নিবেন বলে জানান।

 

Leave a Reply

Your email address will not be published.

Copyright © notunalonews24.com All rights reserved. | Newsphere by AF themes.