বৃহঃ. সেপ্টে ২৪, ২০২০

তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচন চায় জাতীয় পার্টি

ঢাকা: সরকারী দল বিরোধী দলকে দমাতে ব্যস্ত থাকে, এজন্য উন্নয়ন কাজে ব্যাঘাত ঘটে বলে মন্তব্য করেছেন বিরোধী দলীয় নেতা রওশন এরশাদ। তিনি বলেন, আমরা যদি একে অপরকে বিশ্বাস না করি তাহলে জনগণ আমাদের বিশ্বাস করে কিভাবে ভোট দেবে। এই কারণে আমরা রাজনৈতিক সরকারের পরিবর্তে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচন চাই।

 

বৃহস্পতিবার দশম জাতীয় সংসদের ১৪তম অধিবেশনের ৩৭তম কার্য দিবসে রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর আনা ধন্যবাদ প্রস্তাবের ওপর সাধারণ আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এসব কথা বলেন।

 

রওশন এরশাদ বলেন, প্রত্যেক দেশে নির্বাচন হয় পলিটিক্যাল গভর্মেন্টের মাধ্যমে, আমাদের দেশে নির্বাচন চাই কেয়ারটেকার গভর্মেন্টের মাধ্যমে। কারণ আমরা একজন আরেক জনকে বিশ্বাস করি না। আমরা যদি একজন আরেক জনকে বিশ্বাস না করি জনগণ আমাদের বিশ্বাস করে ভোট দেবে কি করে?

 

তিনি বলেন, আগে দেখা গেছে, যে দল যখন ক্ষমতায় আসে, তখন বিরোধী দল একটা না একটা কিছু সমস্যা সৃষ্টি করে এবং সরকারি দল তার পেছনে থাকে। এতে উন্নয়ন কাজে ব্যাঘাত ঘটায়। আর সরকারী দল বিরোধী দলকে দমাতে ব্যস্ত থাকে এজন্য উন্নয়ন কাজে ব্যাঘাত ঘটে।

 

বিরোধী দলীয় নেতা বলেন, জনগণের জন্য যতই গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হোক না কেন, কোনো সময় আমরা একমত পোষণ করি না। এটা আমাদের একটি পলিটিক্যালি বিশেষত্ব। এটা আমাদের ছাড়তে হবে। একে অপরের সঙ্গে বসে মিলেমিশে কথা বলতে হবে। জনগণের জন্য দেশের জন্য যেটা ভাল সেটাই করতে হবে। যদি যে কোনো বিষয়ে একমত পোষন করি তাহলে উন্নয়ন কাজে ব্যঘাত ঘটবে না।

 

জাতীয় পার্টিকে গৃহপালিত বিরোধী দল বলায় রওশন বলেন, এখন অনেক আজে বাজে কথা বলা হচ্ছে। আমরা নাকি গৃহপালিত বিরোধী দল। তোমরা কি করেছো? তোমরাতো সংসদে যাও নাই, জনগণের কথা বল নাই। আমরা দেশের মানুষের জন্য কাজ করছি, সরকারের উন্নয়ন কাজে সহযোগিতা করছি সেজন্য তারা ভালোভাবে দেখছে না। প্রধানমন্ত্রী সারাক্ষণ দেশ নিয়ে ভাবছেন। আমরা মিলে মিশে থাকলে দেশতো এগিয়ে যাবেই।

 

তিনি বলেন, বাংলাদেশে প্রচুর খাদ্য উৎপাদিত হচ্ছে। মানুষ না খেয়ে নেই। কিন্তু শরীরের জন্য নিরাপদ, স্বাস্থ্যের জন্য নিরাপদ খাদ্য এখানে নেই। এটাই আমাদের বড় সমস্যা।

 

তিনি বলেন, নিরাপদ খাদ্যের নিশ্চয়তা দিতে পারেন একমাত্র প্রধানমন্ত্রী। তিনি যদি চিন্তা করেন তাহলে এটা সম্ভব। কারণ উনার মায়ের মতো মন আছে। আগামি প্রজন্ম যারা আমাদের দেশ গড়ে তুলবে তারা যদি নিরাপদ খাদ্য না পায় তাহলে দেশের জন্য অবদান রাখবে কিভাবে? তাদের নিরাপদ খাদ্য দিতে না পারলে তারা কোনো অবদান রাখতে পারবে না। নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করার জন্য প্রধানমন্ত্রীকে উদ্যেগ নিতে হবে।

 

রওশন এরশাদ বলেন, ৮টি বিভাগীয় শহরে হাইকোর্টের ৮টি বেঞ্চ করে দেন। তাহলে মামলার জন্য মানুষকে সময় অপচয় ও টাকা খরচ করে ঢাকায় আসতে হবে না। আশা করি প্রধানমন্ত্রী এ ব্যাপারে ব্যবস্থা নেবেন। আমি প্রধান বিচারপতির সঙ্গে কথা বলেছি। প্রধান বিচারপতি বলেছেন প্রধানমন্ত্রী বললে তিনি এটা করে দিতে পারবেন। তাই প্রধানমন্ত্রীর কাছে অনুরোধ করবো আপনি এটা করে দেন।

 

সাংবাদিকদের নবম ওয়েজ বোর্ড গঠণে প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করে বিরোধী দলীয় নেতা বলেন, সরকারি কর্মকর্তাদের বেতন ভাতা বাড়লেও সাংবাদিকদের বেতন ভাতা বাড়েনি। আপনি অনেক বেশী জনদরদী মা, আপনার কাছে অনুরোধ করবো সাংবাদিকদের নবম ওয়েজ বোর্ড গঠণে উদ্যেগী হন।

 

Leave a Reply

Your email address will not be published.

Copyright © notunalonews24.com All rights reserved. | Newsphere by AF themes.