ডিসেম্বর ৪, ২০২০

হাইকোর্টের এমন আদেশের জন্য প্রস্তুত ছিলেন না খালেদার আইনজীবীরা

১ min read

নতুন আলো নিউজ ডেস্ক : হাইকোর্টের এই আদেশ তাদের জন্য অনেকটাই ‘আকস্মিক বিচারিক আদালতের নথি আসার পর জামিন প্রশ্নে আদেশ দেয়া হবে- হাইকোর্টের এমন আদেশের প্রেক্ষিতে  বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার আইনজীবী প্যানেলের একাধিক সদস্য জানিয়েছেন, তারা হাইকোর্টের এমন আদেশের জন্য প্রস্তুত ছিলেন না। খালেদা জিয়ার একাধিক আইনজীবী আলাপকালে আমাদের প্রতিনিধি  কে জানান, রোববার খালেদা জিয়ার জামিন হচ্ছে- এ ব্যাপারে তারা খুবই আশাবাদী ছিলেন। তবে, দলীয় চেয়ারপারসনের জামিন না হওয়ায় আইনজীবীদের কেউ কেউ হতাশা প্রকাশ করে জানান, হাইকোর্টের এই আদেশ তাদের জন্য অনেকটাই ‘আকস্মিক’ ছিল। তবে, হাইকোর্টের ওই আদেশের প্রতি তারা শ্রদ্ধাশীল এবং পরবর্তী আইনি পদক্ষেপের জন্য বিচারিক আদালতের নথির অপেক্ষায় রয়েছেন বলে জানান খালেদার আইনজীবীরা। তারা আরো জানান, দলীয় চেয়ারপারসনের কারামুক্তির জন্য তারা আইনি লড়াইয়ের পাশাপাশি রাজনৈতিক আন্দোলনও চালিয়ে যাবেন।
জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলার রায়ে ৫ বছরের কারাদণ্ডপ্রাপ্ত বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার জামিন শুনানি হয় রোববার। ওই দিন শুনানি শেষে হাইকোর্ট উভয়পক্ষের আইনজীবীদের জানান, বিচারিক আদালতের নথি আসার পর জামিন প্রশ্নে আদেশ দেয়া হবে। এর আগে কারাদণ্ডের রায়ের বিরুদ্ধে খালেদা জিয়ার করা আপিল শুনানির জন্য বৃহস্পতিবার গ্রহণ করেন হাইকোর্ট। একই সঙ্গে খালেদাকে বিচারিক আদালতের দেয়া অর্থদণ্ডের আদেশ স্থগিত করেন আদালত। পাশাপাশি খালেদা জিয়ার জামিনের আবেদনের শুনানির জন্য রোববার দিন ঠিক করে দিয়ে এ মামলার বিচারিক আদালতের নথিও তলব করেন হাইকোর্ট। যা ১৫ দিনের মধ্যে দাখিল করতে বলা হয়।
খালেদা জিয়ার অন্যতম আইনজীবী খন্দকার মাহবুব হোসেন মানবজমিনকে বলেন, হাইকোর্টে আমি ৫৪ বছরের আইনি পেশায় আছি। ৫ বছরের কারাদণ্ডের ক্ষেত্রে জামিনের এই ধরনের শুনানি শেষ করার পর নথি আসা সাপেক্ষে আদেশ প্রদানের নজির হাইকোর্ট বিভাগে আজ পর্যন্ত নেই। আমরা এ ধরনের আদেশের জন্য প্রস্তুত ছিলাম না। এটি একটি বিরল আদেশ। আমরা একটি নতুন নজির দেখলাম। রোববার শুনানিতে অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম রাজনৈতিক বক্তব্য দিয়েছেন অভিযোগ করে তিনি বলেন, এখানে ৫ বছরের সাজা। আর আমরা জানি দুদক একটি স্বাধীন সংস্থা। তাদের নিজস্ব আইনজীবী রয়েছেন। তারপরও অ্যাটর্নি জেনারেল শুনানিতে রাজনৈতিক বক্তব্য দিয়েছেন। বেইল অপোজ (জামিনের বিরোধিতা) করার ক্ষেত্রে অপ্রাসঙ্গিক বক্তব্য দিয়েছেন। এটি দুঃখজনক। আমরা তার এই বক্তব্যের প্রতিবাদ জানাতে পারতাম। কিন্তু আদালতের প্রতি সম্মান রেখে এবং আদালতের পরিবেশ যাতে সুস্থ থাকে, সেজন্য তার এসব বক্তব্যের প্রতিবাদ করিনি। এক প্রশ্নের জবাবে খন্দকার মাহবুব হোসেন বলেন, হাইকোর্ট যেহেতু ১৫ দিনের মধ্যে বিচারিক আদালতের নথির জন্য আদেশ দিয়েছেন, আমরা আশা করবো দু-একদিনের মধ্যে নথি আসবে। দ্রুত নথি আসলেই আমরা কোর্টে তা শুনানির জন্য মেনশন করবো। আমরা মনে করি দেশে ন্যায়বিচারের লেশমাত্র যদি এখনো টিকে থাকে, অবশিষ্ট থাকে তাহলে যেহেতু ৫ বছরের সাজা তাই খালেদা জিয়ার সামাজিক অবস্থান সবকিছু বিবেচনা করে এই জামিন না হওয়ার কোনো কারণ নেই।
খালেদা জিয়ার আইনজীবী আব্দুর রেজাক খান মানবজমিনকে বলেন, বিচারিক আদালতের নথি হাইকোর্টে এলে এটি পুটআপ করে আমরা জামিনের চেষ্টা করবো। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আমাদের হতাশার কোনো কারণ নেই। আর বর্তমান পরিস্থিতিতে আমরা কী করবো সেটি অনুমানভিত্তিক বলা যাবে না। বিচারিক আদালতের রেকর্ড আসলেই পরবর্তী করণীয় নির্ধারণ করা হবে। রোববার হাইকোর্টের দেয়া আদেশ খালেদা জিয়ার আইনজীবীদের জন্য আকস্মিক ছিল উল্লেখ করে বিএনপির চেয়ারপারসনের অন্যতম আইনজীবী সানাউল্লাহ মিয়া বলেন, আদালত আদেশ দিয়েছেন। এর বাইরেতো আমাদের যাওয়ার সুযোগ নেই। তিনি বলেন, বিচারিক আদালতের নথি হাইকোর্টে না আসা পর্যন্ত আমরা কিছু বলতে পারছি না। নথি আসলেই করণীয় নির্ধারণ করা হবে।
রোববার হাইকোর্টের আদেশের পর সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির ভবনের সম্মেলন কক্ষে জরুরি বৈঠকে বসেন খালেদা জিয়ার আইনজীবী প্যানেলের সদস্যরা। বৈঠকে পরবর্তী আইনানুগ পদক্ষেপ নির্ধারণে আলোচনা হয়েছে বলে জানান খালেদা জিয়ার একজন প্রবীণ আইনজীবী। তিনি বলেন, খালেদা জিয়ার জামিন এবং কারামুক্তির জন্য রাজনৈতিকভাবেও আমাদের আন্দোলন চলবে এবং আইনানুগভাবেও যতটা সম্ভব আমরা করবো। যেহেতু ৫ বছরের সাজা, আমরা আশা করি তার জামিন অবশ্যই হবে। আর যদি জামিন না হয় তাহলে আমরা উচ্চ আদালতে যাব। এ ছাড়া আমাদের আর কিছু করণীয় নেই। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আমরা হতাশ নই। আমরা অত্যন্ত ধৈর্যসহকারে আছি এবং থাকবো। যতটা সম্ভব সবরকম আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করবো। খালেদা জিয়ার অন্য একজন আইনজীবী বলেন, হাইকোর্টের এ ধরনের আদেশে আমরা হতাশ। আমরা ধরেই নিয়েছিলাম যে খালেদা জিয়ার জামিন হচ্ছে। এখন আমাদেরকে বিচারিক আদালতের নথির অপেক্ষায় থাকতে হবে। নথি এলেই পরবর্তী পদক্ষেপের বিষয়ে আলোচনা হবে।
খালেদা জিয়ার আইনজীবী কায়সার কামাল বলেন, হাইকোর্টের এ ধরনের আদেশের জন্য আমরা কেউ প্রস্তুত ছিলাম না। সচরাচর এ ধরনের আদেশ দেয়া হয় না। তবে, আমরা আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। আমরা আইনের পথেই আছি। যেহেতু হাইকোর্ট বিচারিক আদালতের নথি তলব করেছেন, তাই আমরা কয়েকটা দিন অপেক্ষায় থাকবো এবং নথি আসার পর পরবর্তী আইনানুগ পদক্ষেপ নেয়া হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published.

Copyright © notunalonews24.com All rights reserved. | Newsphere by AF themes.