অক্টোবর ২৬, ২০২০

১৪ সালের মতো নির্বাচন করতে গেলে পরিস্থিতি স্বাভাবিক থাকবে না

স্বাধীনতার পতাকা উত্তোলন দিবস’ উপলক্ষে জাতীয় উদ্‌যাপন কমিটির আলোচনা সভায় বিশিষ্ট রাজনীতিকেরা। জাতীয় প্রেসক্লাবে শুক্রবার এই আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।

আলোচনা সভায় বিশিষ্ট রাজনীতিকেরা বলেছেন, ২০১৪ সালের মতো আরেকটি নির্বাচন কেউ চায় না। আবারও সে ধরনের নির্বাচন করতে গেলে দেশের পরিস্থিতি স্বাভাবিক থাকবে না।
২ মার্চ শুক্রবার বিকেলে জাতীয় প্রেসক্লাবে ‘স্বাধীনতার পতাকা উত্তোলন দিবস’ উপলক্ষে জাতীয় উদ্‌যাপন কমিটি আলোচনা সভায় বিশিষ্ট রাজনীতিকেরা এ কথা বলেন। সভায় সাবেক রাষ্ট্রপতি অধ্যাপক এ কিউ এম বদরুদ্দোজা চৌধুরী, বিশিষ্ট আইনজীবী ড. কামাল হোসেন, জেএসডির সভাপতি আ স ম আবদুর রব, নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না বক্তব্য দেন।
নির্বাচন সমানে রেখে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানিয়ে বদরুদ্দোজা চৌধুরী বলেন, ‘আসুন, একবার সোজা হয়ে দাঁড়ানোর চেষ্টা করি। যারা দেশের মালিক (জনগণ), তারা কী বলে একটু শুনি।’ তিনি বলেন, ‘যদি এমন হয়, বাংলাদেশের মানুষ যেমন আছে, তেমনই থাকতে চায়, ধর্ষণ, রাহাজানি চলতে থাক, দুর্নীতি চলতেই থাকবে, ভোটারবিহীন নির্বাচন চলুক, তাহলে কোনো আপত্তি করব না।’
বদরুদ্দোজা চৌধুরী বলেন, ‘কী উদ্দেশ্যে আ স ম রব পতাকা তুলেছিলেন। কথা ছিল গণতন্ত্র থাকবে, মানুষের সব অধিকার থাকবে। কিন্তু পাকিস্তান তা রক্ষা করেনি। তাই পাকিস্তানকে বিদায় করেছিলাম। একইভাবে এখন যেকোনো অগণতান্ত্রিক সরকারকে বিদায় করব।’
ক্ষমতাসীনদের দুর্নীতি, প্রশ্নপত্র ফাঁস, উন্নয়নের নামে লুটপাটের কড়া সমালোচনা করেন বদরুদ্দোজা চৌধুরী। বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মামলার প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, তারা গর্ব করে বলেন ডিজিটাল বাংলাদেশ। এই ডিজিটাল বাংলাদেশে তিন মাইল দূর থেকে হাইকোর্টে নথি ১০ দিনেও আসে না, লজ্জা করে না।
ড. কামাল হোসেন বলেন, ‘আবার আরেকটা ২০১৪ সালের মতো নির্বাচন হোক, এটা আমরা চাই না। কী ধরনের জিনিস চাই, সেটা আমাদের সংবিধানে লেখা আছে। নির্বাচন সুষ্ঠু হোক, যাতে জনগণ মালিক হিসেবে ভূমিকা রাখতে পারে। এবার নির্বাচন শুধু সুষ্ঠু হবে না। নির্বাচনের পর দেশের মালিকানা জনগণের হবে, দেশ মালিকের নিয়ন্ত্রণে কীভাবে রাখা যাবে, সে কৌশলটাও বের করব।’
কামাল হোসেন বলেন, ‘এই দেশ কোনো দল বা ব্যক্তির না, এই দেশে আমাদের সবার। এই দেশে রাজতন্ত্র হতে পারে না। এক ব্যক্তি, একদলীয় শাসন হতে পারে না। এই দেশের ক্ষমতা থেকে আমাদের বঞ্চিত করার কারওই ক্ষমতা নেই, দেশেও নেই, দেশের বাইরেও কারও নেই।’
মাহমুদুর রহমান মান্না বলেন, ‘দেশের সবচেয়ে বড় সমস্যা একটি অংশগ্রহণমূলক ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন। এটা যদি করতে না পারেন, আপনি জনগণের কোনো অধিকার প্রতিষ্ঠা করতে পারবেন না।’ তিনি বলেন, মানতে হবে, আওয়ামী লীগ ও বিএনপি অংশগ্রহণ ছাড়া গ্রহণযোগ্য নির্বাচন হবে না। খালেদা জিয়াকে ছাড়া বিএনপি নির্বাচন না করলে সেটা কি অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন হবে?
আওয়ামী লীগ ও বিএনপির প্রতি ইঙ্গিত করে মান্না বলেন, ‘এই দুইটার বাইরে একটা শক্তি দরকার। মানুষ সেই শক্তি খুঁজছে। সেই কবে থেকে বলছি। মাঝেমধ্যে চিটা পানি গুলিয়ে মনে হয়, মিছরির দানাটা বড় হয়ে তৈরি হবে। আবার কিছুক্ষণ পর দেখা যায়, গরম পানিতে গুটে গুটে দানাটা ছোট হয়ে গেছে, একসঙ্গে হয়নি।’
বিকল্পধারার মহাসচিব আবদুল মান্নান বলেন, ‘গণতন্ত্র কে দেবে, এই শেখ হাসিনার সরকার? প্রশ্নই ওঠে না। তিনি আ স ম রবের উদ্দেশে বলেন, আবার পতাকা উত্তোলন করেন, তার নাম হবে গণতন্ত্রের পতাকা।’
স্বাধীনতার পতাকা উত্তোলক আ স ম আবদুর রব সরকারের উদ্দেশে বলেন, ‘আবার ২০১৪ সালের জানুয়ারি মতো নির্বাচন করতে গেলে বাংলাদেশে অঘটন ঘটবে। দেশের পরিস্থিতি স্বাভাবিক থাকবে না। আশা করি সে দায়িত্ব নেবেন না। এবার নির্বাচন যদি গ্রহণযোগ্য না হয়, দেশ মহাসংকটে পড়বে, বিশৃঙ্খলা দেখা দেবে।’
সভাপতির বক্তব্যে জাফরুল্লাহ চৌধুরী বলেন, পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে দেশে সুশাসন প্রতিষ্ঠা করতে হবে। তিনি বদরুদ্দোজা চৌধুরী ও কামাল হোসেনের নেতৃত্বে যুক্তফ্রন্টকে এগিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানান।

Leave a Reply

Your email address will not be published.

Copyright © notunalonews24.com All rights reserved. | Newsphere by AF themes.