ডিসেম্বর ৪, ২০২০

একক ভাবে আগাম নির্বাচনী প্রচারে আওয়ামী লীগ

১ min read

নতুন আলো নিউজ ডেস্ক : প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা হজরত শাহজালাল (রহ:) ও হজরত শাহপরান (রহ:)-এর মাজার জিয়ারতের মাধ্যমে নির্বাচনী প্রচার শুরু করেন। একই দিন সিলেট আলিয়া মাদরাসা ময়দানে স্থানীয় আওয়ামী লীগ আয়োজিত জনসভায় বক্তব্য রাখেন তিনি। ওই জনসভায় নৌকায় আবারো ভোট দেয়ার জন্য উপস্থিত সবাইকে ওয়াদা করান প্রধানমন্ত্রী। এরপর গত ৮ ফেব্রæয়ারি বরিশাল ও ২২ ফেব্রæয়ারি রাজশাহী সফর করেন তিনি। এসব জনসভায় প্রধানমন্ত্রী নৌকার পক্ষে ভোট চান। আজ শনিবার যাচ্ছেন দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমের বিভাগ খুলনায়। সেখানে আওয়ামী লীগ আয়োজিত জনসভায় ভাষণ দেবেন প্রধানমন্ত্রী। আগামী ৭ মার্চ রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে জনসভায় ভাষণ দেবেন তিনি।

এ জনসভায় সর্বোচ্চ উপস্থিতি নিশ্চিত করতে দিন-রাত কাজ করে যাচ্ছেন দলের নেতারা। দফায় দফায় বৈঠক করে যাচ্ছেন তারা। এ জনসভা সামনে রেখে এরই মধ্যে ঢাকা ও এর আশপাশের জেলার এমপি ও দলীয় নেতা এবং সহযোগী সংগঠনের নেতাদের সাথে বৈঠক করেছে আওয়ামী লীগ। পৃথক বৈঠক করে যাচ্ছে মহানগর উত্তর ও দক্ষিণ, যুবলীগ, ছাত্রলীগসহ বিভিন্ন সহযোগী সংগঠন। আজ থেকে রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে আনুষ্ঠানিকভাবে প্রচারপত্র বিলি করবেন দলটির সিনিয়র নেতারা। গতকাল সমাবেশস্থল পরিদর্শন করেছেন দলের সংস্কৃতিবিষয়ক সম্পাদক অসীম কুমার উকিল, উপপ্রচার সম্পাদক আমিনুল ইসলাম আমীন ও মির্জা আজমসহ বিভিন্ন কেন্দ্রীয় নেতারা।

এ ছাড়া আগামী ৯ মার্চ চট্টগাম যাওয়ার কথা রয়েছে প্রধানমন্ত্রীর। এরপর পর্যায়ক্রমে ময়মনসিংহ, রংপুর ও গাজীপুরসহ বিভিন্ন বড় বড় শহর সফর করবেন প্রধানমন্ত্রী।

আওয়ামী লীগ ও সরকারি সূত্রমতে, এ বছর সিলেট থেকে প্রধানমন্ত্রী আনুষ্ঠানিকভাবে নির্বাচনী প্রচার শুরু করলেও মূলত এ প্রচারণা শুরু হয় গত বছর। ওই বছরের ফেব্রæয়ারিতে উত্তরবঙ্গের অন্যতম জেলা বগুড়া থেকে এ আনুষ্ঠানিকতা শুরু করে দলটি। প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা বগুড়ায় দলীয় জনসভায় আগামী নির্বাচনে নৌকা মার্কায় ভোট দিতে সরাসরি জনগণের প্রতি আহবান জানান। এরপর মার্চ মাসের ১৪ তারিখ গপুর জেলা সফর করে জেলা আওয়ামী লীগের জনসভায় ভাষণ দেন। সেখানেও নৌকার পক্ষে ভোট চান প্রধানমন্ত্রী। ২১ মার্চ খুলনা বিভাগের মাগুরায়, ২৮ মার্চ ফরিদপুরে জনসভা করেন তিনি। ৩১ ডিসেম্বর প্রধানমন্ত্রী যশোর জেলা সফর করেন। এ ছাড়া বিভিন্ন উন্নয়নমূলক প্রকল্প উদ্বোধন করতে গিয়ে একাধিকবার নির্বাচনী জনসভা করেছেন চট্টগ্রাম, রাজশাহী, কুড়িগ্রামসহ বিভিন্ন জেলায়। যেসব সিটি করপোরেশনে নির্বাচন হওয়ার কথা, সেগুলো সফর করছেন শেখ হাসিনা।

এরপর গাজীপুর, ময়মনসিংহ ও রংপুর সফরের কথা রয়েছে তার। তবে সেগুলোর তারিখ এখনো চূড়ান্ত হয়নি।
দলীয় সূত্রে জানা গেছে, নির্বাচনকে কেন্দ্র করেই মতাসীন আওয়ামী লীগের দলীয় সব কর্মকাণ্ড ও সরকারের বিভিন্ন পদপে নেয়া হচ্ছে। নির্বাচনের বিষয়টি মাথায় রেখেই প্রধানমন্ত্রীর প্রতিশ্রæতির বাস্তবায়ন ও জনসম্পৃক্ত সরকারি কর্মসূচিগুলোকে অগ্রাধিকার দেয়া হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী নিজেও আগামী নির্বাচনের প্রস্তুতি হিসেবে দলের সংসদ সদস্য ও কেন্দ্রীয় নেতাদের নিজ নিজ এলাকায় যাওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন।

আওয়ামী লীগের নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের সূত্রগুলো জানায়, নীতিগতভাবে আগামী জাতীয় নির্বাচনের জন্য প্রস্তুতি শুরু হয়েছে বেশ আগে থেকেই। সরকারবিরোধী জোট বিএনপিকে চাপে রেখে ২০১৬ সালের অক্টোবর মাসে অত্যন্ত জাঁকজমকের সাথে রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে দুই দিনব্যাপী দলের ২০তম জাতীয় সম্মেলন সফলভাবে শেষের মধ্য দিয়েই এ প্রস্তুতি শুরু করে। দলীয় কাউন্সিলের পর থেকেই প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনার পাশাপাশি দলের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের ও সিনিয়র নেতারা আগামী নির্বাচনের প্রস্তুতি নিতে বারবার নেতাকর্মীদের প্রতি নির্দেশ দিয়ে আসছেন। তবে গত বছর ২৬ ফেব্রæয়ারি বগুড়ার শান্তাহার উপজেলায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার জনসভার মধ্য দিয়েই মূলত এ প্রচার শুরু করে দলটি। এর পর থেকেই সরকারের মন্ত্রী, এমপি ও নির্বাচনে দলীয় মনোনয়নপ্রত্যাশী নেতারা যার যার নির্বাচনী এলাকা চষে বেড়াচ্ছেন। অনেকে সপ্তাহের বেশির ভাগ সময়ই নিজ নিজ এলাকায় ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন। এমনকি দলের তৃণমূল নেতাকর্মীদের পাশে পেতে তারা গ্রাম ও ওয়ার্ডেও দিন-রাত ঘুরে বেড়াচ্ছেন।

আওয়ামী লীগের সম্পাদকমণ্ডলীর একাধিক সদস্য নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, দুর্নীতি মামলায় সরকারবিরোধী জোটনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার সাজা হওয়ায় তিনি বর্তমানে কারাগারে রয়েছেন। বিএনপি এখন তার মুক্তি আন্দোলনেই ব্যস্ত রয়েছে। এ সুযোগকে ভালোভাবে কাজে লাগাতে চায় সরকার। সে জন্য নির্বাচনী প্রচারের গতি বাড়িয়েছে আওয়ামী লীগ। ফাঁকা মাঠে বিএনপির সমালোচনা ও সরকারের উন্নয়ন তুলে ধরে নৌকার পক্ষে ভোট চান তারা। বিভাগীয় সফর শেষে দেশের বড় বড় শহর ও জেলাগুলো সফর করবেন প্রধানমন্ত্রী।

এক নেতা বলেন, বিএনপি নেত্রী কারাগারে থাকলেও শেষ পর্যন্ত বিএনপি নির্বাচনে আসবে বলে মনে করছে সরকার। আর বিএনপি যদি নির্বাচনে আসে তাহলে নির্বাচনী মাঠের চিত্র বদলে যাবে। এ ছাড়া নির্বাচনী তফসিল ঘোষণার পর বিএনপিকে আর এ রকম কোণঠাসা অবস্থায় রাখা সম্ভব হবে না। সে সময় প্রশাসনও খানিকটা নমনীয় ভ‚মিকা পালন করতে পারে। সে জন্য বিএনপিকে চাপে রেখে নির্বাচনী প্রচার আগেভাগে শেষ করতে তড়িঘড়ি করছে আওয়ামী লীগ। এ ক্ষেত্রে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাও বেশ সিরিয়াস।

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুবউল আলম হানিফ নয়া দিগন্তকে বলেন, বিএনপিকে চাপে রাখা নয়, তারা নিজেরাই নিজেদের অপকর্মের জন্য জনগণের কাছে ধিকৃত হয়েছে। দুর্নীতির অপরাধে তাদের নেত্রী জেলে। তারা কিভাবে জনসভা করে জনগণের কাছে ভোট চাইবে? দুর্নীতিগ্রস্ত একটি দল জনগণের সামনে যাওয়ার মতো সেই সাহস নেই। তাই তারা যেতে পারছে না। অন্য দিকে জনগণ আমাদেরকে ম্যান্ডেট দিয়েছে উন্নয়নের জন্য। আমরা তাদের জন্য দেশের জন্য কী কী কাজ করেছি সেসব তাদের সামনে তুলে ধরছি। কারা এ দেশের উন্নয়ন চায় আর কারা লুটেপুটে খায় তা জনগণই আগামী নির্বাচনে বিচার করবে।

সাংগঠনিক সম্পাদক খালিদ মাহমুদ চৌধুরী বলেন, দলীয় কাউন্সিলেই আমাদের সভানেত্রী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নেতাকর্মীদের আগামী নির্বাচনের প্রস্তুতি গ্রহণের নির্দেশ দেন। সেই নির্দেশনার আলোকে আমরা দলের সব সাংগঠনিক সম্পাদকেরা সারা দেশে যার যার দায়িত্বপ্রাপ্ত এলাকায় ছুটে যাচ্ছি। যুগ্ম সাধারণ সম্পাদকেরা যাচ্ছেন। অন্যান্য নেতাও যাচ্ছেন। সবাই মিলে সংগঠনকে শক্তিশালী করছি, নেতাকর্মীদের নির্বাচনের জন্য প্রস্তুত করছি। সে েেত্র প্রধানমন্ত্রীর জনসভাকে নির্বাচনী প্রচারের জনসভা বলা যেতেই পারে।

তিনি আরো বলেন, আওয়ামী লীগ জনগণের দল। দেশের আপামর জনগণের সাথে এ দলের সম্পর্ক সরাসরি ও নিবিড়। তাদের সমর্থন নিয়েই এ দল টানা দ্বিতীয়বারের মতো ক্ষমতায়। সে জন্য তাদের সামনে দেয়া প্রতিশ্রæতির মধ্যে আমরা কী কী পালন করতে পেরেছি তা আমরা এবং প্রধানমন্ত্রী নিজেই জনগণের সামনে তুলে ধরছি।

Leave a Reply

Your email address will not be published.

Copyright © notunalonews24.com All rights reserved. | Newsphere by AF themes.