অক্টোবর ২৩, ২০২০

খালেদার মুক্তির দাবিতে বিভাগীয় শহরে সমাবেশ করবে বিএনপি

১ min read

নতুন আলো নিউজ ২৪.কম : খালেদা জিয়ার মুক্তি ও নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে জাতীয় নির্বাচন- এ দুই দাবিতে চলমান শান্তিপূর্ণ আন্দোলন কর্মসূচির ধারাবাহিকতায় ঢাকাসহ দেশের বিভাগীয় শহরগুলোতে  সমাবেশের সিদ্ধান্ত নিয়েছে দলটি। গতকাল সন্ধ্যায় চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে দলের সিনিয়র নেতাদের প্রায় দুই ঘণ্টাব্যাপী একটি যৌথসভা শেষে সংক্ষিপ্ত ব্রিফিংয়ে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এ কথা জানিয়েছেন। যৌথসভায় দলের নেতারা চেয়ারপারসনের আইনি লড়াই, জামিনে বিলম্ব ও চলমান শান্তিপূর্ণ আন্দোলন কর্মসূচিগুলোর নানা দিক পর্যালোচনা করেছেন। বিভাগীয় শহরগুলোতে সমাবেশ ছাড়াও পদযাত্রা, কেন্দ্রীয় নেতাদের তৃণমূলে সফর, প্রশাসনের সঙ্গে মতবিনিময়সহ বেশকিছু কর্মসূচির প্রস্তাবও দিয়েছেন নেতারা। সেই সঙ্গে খালেদা জিয়ার জামিনে ফের বিলম্ব হলে আন্দোলন কর্মসূচিতে কিছুটা কঠোরতা আনা এবং নেতাকর্মীদের প্রস্তুতি নেয়ার প্রস্তাবও এসেছে। তবে শিগগির দলের স্থায়ী কমিটির বৈঠকে পরবর্তী কর্মসূচিগুলো চূড়ান্ত হবে।

এর আগে গতকাল বিকাল সাড়ে ৪টায় দলের স্থায়ী কমিটি, ভাইস চেয়ারম্যান, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা, যুগ্ম মহাসচিব ও সাংগঠনিক সম্পাদকরা একটি যৌথ বৈঠক করেন। বৈঠক শেষে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফকরুল ইসলাম আলমগীর সাংবাদিকদের বলেন, খালেদা জিয়ার জামিন বিলম্ব ও চলমান কর্মসূচি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। খালেদা জিয়া আইনিভাবে জামিন পাওয়ার যোগ্য কিন্তু সেটা বিলম্ব হওয়ায় নেতারা উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। সেই সঙ্গে অতি দ্রুত আইনি প্রক্রিয়ায় মাধ্যমে চেয়ারপারসনকে মুক্ত করার ব্যবস্থা নেয়ার দিকে জোর দেয়ার কথাও বলেছেন। নেত্রী মুক্ত না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার পক্ষে মত দিয়েছেন। আমরা পরবর্তী কর্মসূচি গ্রহণের সিদ্ধান্ত নিয়েছি। এর মধ্যে বিভাগীয় শহরগুলোতে জনসমাবেশসহ বিভিন্ন কর্মসূচির সিদ্ধান্ত হয়েছে। তিনি বলেন, খুলনার জনসভায় খালেদা জিয়ার সাজা নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যের ব্যাপারে মির্জা আলমগীর বলেন, সম্পূর্ণ মিথ্যা তথ্য ও জালিয়াতকৃত একটা কাগজের ওপর ভিত্তি করে শুধুমাত্র খালেদা জিয়াকে রাজনীতি ও বিএনপিকে নির্বাচন থেকে দূরে সরিয়ে রাখার জন্য বিএনপি চেয়ারপারসনকে সাজা দিয়েছে। সরকার জানে, কখনো একটা সুষ্ঠু নির্বাচন তাদের পক্ষে নেয়া সম্ভব হবে না। সেজন্য এটা (সাজা) দিয়েছেন। জাতিসংঘকে বিএনপি’র চিঠি দেয়ার বিষয়ে মির্জা আলমগীর বলেন, বর্তমানে দেশের যে পরিস্থিতি, দেশনেত্রীকে মিথ্যা মামলায় কারারুদ্ধ এবং আগামী নির্বাচন সম্পর্কে জাতিসংঘকে অবহিত করা হয়েছে। শাহ্‌জালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রফেসর জাফর ইকবালের ওপর সন্ত্রাসী হামলার ঘটনায় নিন্দা জানিয়েছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেন, প্রফেসর ড. জাফর ইকবালের ওপর হামলার ঘটনায় আমরা তীব্র ভাষায় নিন্দা জানাচ্ছি। আমরা কখনোই এই ধরনের সন্ত্রাসের পক্ষে নই। আমরা মনে করি, এটা আরেকটি চক্রান্ত। যারা দেশে এই ধরনের ঘোলা পানিতে মাছ শিকার করতে চায় এটা তাদেরই চক্রান্ত। যারা ঘোলা পানিতে মাছ শিকার করতে চায় এবং আরেকটা চক্রান্ত করতে চায়, তারাই এ ঘটনা ঘটিয়েছে। বৈঠক সূত্র জানায়, রাজধানীর সোহ্‌রাওয়ার্দী উদ্যানে ১২ই মার্চ সমাবেশের অনুমতি চেয়ে ডিএমপিসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে চিঠি দিয়েছে বিএনপি। একইভাবে খুলনায় ১০ই মার্চ জনসভার তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছে। ধারাবাহিকভাবে বাকি ছয় বিভাগীয় শহরেও সমাবেশের দিনক্ষণ চূড়ান্ত হবে। রাজধানীর সমাবেশে বিপুলসংখ্যক কর্মী-সমর্থক ও সাধারণ মানুষের উপস্থিতি নিশ্চিত করতে দলের ঢাকা মহানগর উত্তর-দক্ষিণসহ আশপাশের জেলা ইউনিটগুলোর নেতাদের নির্দেশনাসহ তাগিদ দেয়া হয়েছে। খালেদা জিয়ার অনুপস্থিতিও বিপুল লোকসমাবেশের মাধ্যমে দল ও খালেদা জিয়ার জনপ্রিয়তা সম্পর্কে সরকারসহ আন্তর্জাতিক মহলকে একটি বার্তা দিতে চায় বিএনপি। বৈঠক সূত্র জানায়, চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে কারাগারে পাঠানোর পর শান্তিপূর্ণ কর্মসূচির মাধ্যমে দলের ধারাবাহিক প্রতিবাদের প্রশংসা করেছেন কয়েকজন নেতা। তারা বলেছেন, সরকার মনে করেছিল- কড়া কর্মসূচি দেবে বিএনপি। আর সেটাকে সুযোগ হিসেবে নিয়ে নৈরাজ্য সৃষ্টির মাধ্যমে বিএনপি’র বিরুদ্ধে নতুন করে অপপ্রচার চালাবে। সরকারের এ কৌশলটি যেমন ব্যর্থ হয়েছে, তেমনি বিএনপি’র প্রতি মানুষের সমর্থন বেড়েছে। নেতাদের কয়েকজন স্বস্তি প্রকাশ করে বলেছেন, কথিত দুর্নীতির অভিযোগে খালেদা জিয়াকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বিচার ও সাজা দেয়া হয়েছে। কিন্তু দেশের মানুষ সে বিচারকে গ্রহণ করেনি, ফলে মানুষের কাছে খালেদা জিয়ার ইমেজ ক্ষুণ্ন হয়নি; বরং ইমেজের উন্নতি হয়েছে। বৈঠক সূত্র জানায়, নেতাদের কেউ কেউ মনে করেন অতি শান্তিপূর্ণ আন্দোলনের মাধ্যমে আওয়ামী লীগ সরকারের কাছে দাবি আদায় কঠিন বিষয়। বরং খালেদা জিয়াকে কারাগারে পাঠানোর পর কর্মী-সমর্থকদের আবেগ যে তুঙ্গে উঠেছিল তা ধীরে ধীরে স্তিমিত হয়ে আসবে। রজনীগন্ধা ফুলের স্টিক দিয়ে আওয়ামী লীগের পতন বা তাদের কাছে দাবি আদায় করা যাবে না। দাবি আদায় করতে চাইলে আন্দোলন করতে হবে। বৈঠকে অংশ নেয়া একজন নেতা জানান, এখন পর্যন্ত বিএনপি’র অবস্থান সঠিক পথেই রয়েছে। কিন্তু খালেদা জিয়ার কারামুক্তিতে বিলম্ব ঘটলে এ অবস্থান ধরে রাখা কঠিন। সে জন্য নেতাকর্মীদের রাজপথের আন্দোলনের প্রস্তুতি রাখার নির্দেশনাও দেয়া হবে। বৈঠক সূত্র জানায়, বৈঠকে দলের ভাইস চেয়ারম্যান ব্যারিস্টার শাজাহান ওমর বলেছেন- এভাবে আন্দোলনে খালেদা জিয়ার মুক্তি সম্ভব হবে না। সারা দেশে বিএনপি’র সাংগঠনিক শক্তির বিষয়ে সন্দেহ সৃষ্টি হয়েছে। অনেকে এই দলের সমতা নিয়েও প্রশ্ন তুলছে। সরকারও তার ইচ্ছামাফিক পরিকল্পনা করতে পারছে। তাই এভাবে কর্মসূচি না দিয়ে কঠোর কর্মসূচির দিকে যাওয়ার জন্য নেতাদের প্রতি আহ্বান জানান তিনি। চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আতাউর রহমান ঢালী তার প্রস্তাবনায় খালেদা জিয়ার মুক্তির আন্দোলনে ভিন্নতা সৃষ্টির জন্য দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয় থেকে নেতাকর্মীরা মুখে কালো কাপড় বেঁধে জেলখানা পর্যন্ত যাওয়ার কর্মসূচি দিতে বলেন। তিনি বলেন, দেশের শ্রমিক ও পেশাজীবী সংগঠনগুলোকেও বিএনপি’র গণতান্ত্রিক আন্দোলনে সম্পৃক্ত করার পরিকল্পনা নিতে হবে। উপদেষ্টা তৈমূর আলম খন্দকার বলেছেন, দলের ঐক্য ধরে রাখার জন্য সকলকে প্রচেষ্টা করতে হবে। যার যার দায়িত্ব পালন করতে হবে। ঢাকায় বসে বক্তব্য-বিবৃতি না দিয়ে এলাকায় গিয়ে আন্দোলনে সম্পৃক্ত থাকার কঠোর নির্দেশনা থাকতে হবে দলের। প্রয়োজনে একটি মনিটরিং সেল করে সকলের মূল্যায়ন করতে হবে। যারা দলের এই দুঃসময়ে কাজ করবে না তাদের চিহ্নিত করতে হবে। সাংগঠনিক সম্পাদক শামা ওবায়েদ তার বক্তব্যে মহিলা দলসহ অন্যান্য নারী সংগঠনগুলোকে আরো শক্তিশালী মুভমেন্ট করার প্রস্তাব দেন। এজন্য দেশের প্রতিটি নারী সংগঠনকে ঐক্যবদ্ধ করে আন্দোলনে নিয়ে আসার পরিকল্পনা নেয়ার জন্য নেতাদের জানান। বিএনপি স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেনের সভাপতিত্বে বৈঠকে স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ, ব্যারিস্টার জমিরউদ্দিন সরকার, মির্জা আব্বাস, ড. আবদুল মঈন খান, নজরুল ইসলাম খান ও আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, ভাইস চেয়ারম্যান মেজর (অব.) হাফিজউদ্দিন আহমেদ বীরবিক্রম, আলতাফ হোসেন চৌধুরী, ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু, শাহজাহান ওমর বীরউত্তম, বরকত উল্লাহ বুলু, মোহাম্মদ শাহজাহান, খন্দকার মাহবুব হোসেন, মীর মো. নাসির, রুহুল আলম চৌধুরী, আমিনুল হক, আবদুল আউয়াল মিন্টু, ডা. এজেডএম জাহিদ হোসেন, আহমেদ আজম খান, জয়নাল আবেদীন, নিতাই রায় চৌধুরী, গিয়াসউদ্দিন কাদের চৌধুরী, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা উকিল আবদুস সাত্তার, এজে মোজাম্মদ আলী, লুৎফর রহমান খান আজাদ, সাবিহ্‌উদ্দিন আহমেদ, মনিরুল হক চৌধুরী, মশিউর রহমান, আবুল খায়ের ভূঁইয়া, মাহবুবুর রহমান, জয়নুল আবদিন ফারুক, জয়নাল আবেদিন ভিপি, আবদুর রশিদ, জিয়াউর রহমান খান, তাজমেরী এস. ইসলাম, সাহিদা রফিক, গোলাম আকবর খন্দকার, আবদুল হাই, কবীর মুরাদ, ফজলুল রহমান, আতাউর রহমান ঢালী, সিরাজুল ইসলাম, ড. সুকোমল বড়ুয়া, আবদুল কাইয়ুম, বিজন কান্তি সরকার, তৈমূর আলম খন্দকার, আবদুল মান্নান তালুকদার, প্রফেসর আবদুল বায়েস ভূঁইয়া, ময়নুল ইসলাম শান্ত, মোহাম্মদ শাহজাদা মিয়া, এসএম ফজলুল হক, আবদুল কুদ্দুস, মামুন আহমেদ, ফরহাদ হালিম ডোনার, মুক্তাদির হোসেন, শামসুল আলম, আবদুল হাই শিকদার, যুগ্ম মহাসচিব মাহবুবউদ্দিন খোকন, খায়রুল কবির খোকন, হারুনুর রশীদ, সাংগঠনিক সম্পাদক রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু, ডা. সাখাওয়াত হোসেন জীবন, বিলকিস জাহান শিরিন, শামা ওবায়েদ, প্রচার সম্পাদক শহীদউদ্দিন চৌধুরী এ্যানী ও সহ-দপ্তর সম্পাদক তাইফুল ইসলাম টিপু বৈঠকে অংশ নেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published.

Copyright © notunalonews24.com All rights reserved. | Newsphere by AF themes.