অক্টোবর ২২, ২০২০

খালেদা জিয়ার মুক্তি দাবিতে বিএনপির মানববন্ধন আজ

১ min read

নতুন আলো নিউজ ডেস্ক  :বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার নিঃশর্ত মুক্তির দাবিতে আজ মঙ্গলবার জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে মানববন্ধন ও বৃহস্পতিবার নয়াপল্টনস্থ বিএনপি কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে অবস্থান কর্মসূচি পালিত হবে। গতকাল সোমবার নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে দলের সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী এ তথ্য জানান। : রিজভী বলেন, বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার নিঃশর্ত মুক্তির দাবিতে আজ মঙ্গলবার বিএনপির উদ্যোগে ঢাকা মহানগরসহ দেশব্যাপী বেলা ১১টা থেকে ১২টা পর্যন্ত মানববন্ধন কর্মসূচি পালিত হবে। ঢাকায় উক্ত মানববন্ধন কর্মসূচি জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে অনুষ্ঠিত হবে। এছাড়া একই দাবিতে আগামী ৮ মার্চ বৃহস্পতিবার বিএনপির উদ্যোগে ঢাকা মহানগরসহ সারাদেশে বেলা ১১টা থেকে ১২টা পর্যন্ত অবস্থান কর্মসূচি পালিত হবে। ঢাকায় নয়াপল্টনস্থ বিএনপি কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে বেলা ১১টা থেকে ১২টা পর্যন্ত উক্ত অবস্থান কর্মসূচি পালিত হবে। বিএনপি এবং এর অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের সকল পর্যায়ের নেতাকর্মীকে যথাসময়ে কর্মসূচিগুলো সফল করার জন্য অনুরোধ করা হলো।  : ড. জাফর ইকবালের ওপর হামলার পেছনে বিএনপি জড়িত আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদকের এমন বক্তব্যর জবাবে রিজভী বলেন, ওবায়দুল কাদের সাহেবের কথা শুনে সারাজাতি বিস্ময়ে বাক্যহারা। তবে জনসাধারণ আওয়ামী লীগের নিখুঁত মিথ্যাচার সম্পর্কে ওয়াকিবহাল। তাই ওবায়দুল কাদেরের বক্তব্যকে পুঁথি সাহিত্যে বর্ণিত উদ্ভট ও সামঞ্জস্যহীন কাহিনীর মতো মনে করে। অনর্গল, উড়ো, অবান্তর প্রচারে নিরন্তর নিবেদিত নেতা ওবায়দুল কাদের। আওয়ামী নেতারা হরদম বিরোধী দলের বিরুদ্ধে এমন কল্পকাহিনী প্রচার করেন শুধুমাত্র নিজেদের নানাবিধ পাপ ঢাকার জন্য। হিংসা-প্রতিহিংসার রাজনীতির মানস হচ্ছে আওয়ামী লীগ। সরকারের ভাবমূর্তি জনমনে এতোই বিরূপ যে, সেখান থেকে জনগণের চোখ সরানোর জন্য দেশের গুণীজনসহ নানা শ্রেণি- পেশার মানুষকে পরিকল্পিতভাবে আঘাত করে হত্যা ও জখম জারি রাখা হয়েছে বলে জনগণ বিশ্বাস করে। লেখক ও শিক্ষাবিদ ড. জাফর ইকবালকে ছুরিকাহত করা আওয়ামী রাজনীতিপ্রসূত সন্ত্রাস। : সংবাদ সম্মেলনে বিএনপির এই নেতা বলেন, আওয়ামী সরকার হত্যা-গুম-খুনের সওদাগর। এদের আমলেই জঙ্গিদের আক্রমণ তীব্র থেকে তীব্রতর হয়েছে, দেশের বিভিন্ন জনপদে রক্ত ঝরছে। আমরা প্রতিনিয়তই দেখছি-জঙ্গিদের আক্রমণে মানুষ খুন হওয়ার সাথে সাথে তা বিএনপির ওপর দোষ চাপানোর অপচেষ্টা করা হয়েছে, তাতে দেশবাসী মনে করে সরকারই এগুলোর নেপথ্য কারিগর। সমাজে সম্মানিত গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদেরকে খুন-জখম করার পর এই যে দ্রুত বিএনপির ওপর দায় চাপানো তাতেই মনে হয়- এদেশের সকল জঙ্গি হামলা যেমন-শিক্ষক, ব্লগার, পুরোহিত, যাজক, প্রকাশক, মসজিদের ইমাম, মোয়াজ্জিন হত্যায় সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা ছিল। তা না হলে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ দায়ের করা হয়নি, তদন্ত হয়নি, প্রকৃত অপরাধী শনাক্ত করা হয়নি, অথচ এই সকল রক্তাক্ত ঘটনায় চট্জলদি আওয়ামী নেতারা বিএনপির ওপর দায় চাপিয়ে দেয়। এতে নিজেদের লোভ-লালসা-ডাকাতি-রাহাজানি-জবরদখলসহ পরিব্যাপ্ত অনাচারে বিদ্ধিষ্ট জনমানসকে বিভ্রান্ত করতেই মোক্ষম চাল হিসেবে বিএনপির ওপর এই দায় চাপানো হয়। আর এভাবে প্রতিটি ঘটনায় বিএনপির ওপর অন্যায় দায় চাপিয়ে প্রকৃত অপরাধীকে খুব সুপরিকল্পিতভাবে আড়াল করে রাখা হচ্ছে। : তিনি বলেন, ড. জাফর ইকবালের ওপর অতর্কিতে ছুরি দিয়ে আঘাত, নাটোরের বড়াইগ্রাম উপজেলা চেয়ারম্যান নুর হোসেন বাবুকে স্থানীয় ছাত্রলীগ-যুবলীগ কর্তৃক ধারালো ছুরি দিয়ে হত্যা করা এবং সশস্ত্র ধাওয়ায় প্রাণ বাঁচাতে  ঊর্র্ধ্বশ্বাসে পলায়নরত কিশোর শ্রমিক বিশ্বজিৎকে ছাত্রলীগের ছুরিকাহত করে হত্যার সাথে ড. জাফর ইকবালকে হত্যা চেষ্টার হুবহু সাদৃশ্য পাওয়া যায়। দেশবাসী বিশ্বাস করে, বিএনপি চেয়ারপারসনকে কারাবন্দি করার পর ক্ষুব্ধ প্রতিবাদী জনতার দৃষ্টিকে অন্যদিকে সরানোর জন্যই খ্যাতিমান লেখক ও শিক্ষক ড. জাফর ইকবালকে হত্যার চেষ্টা করা হয়েছে। কারণ এখন আঘাতকারীর যতো পরিচয় পাওয়া যাচ্ছে ততোই আওয়ামী কানেকশন সুস্পষ্ট হয়ে উঠছে। : সংবাদ সম্মেলনে আরো উপস্থিত ছিলেন বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আবুল খায়ের ভূইয়া, আতাউর রহমান ঢালী, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুস সালাম আজাদ, সহ-দফতর সম্পাদক তাইফুল ইসলাম টিপু, বেলাল আহমেদ, নির্বাহী কমিটির সদস্য শামসুজ্জামান সুরুজ প্রমুখ। :

Leave a Reply

Your email address will not be published.

Copyright © notunalonews24.com All rights reserved. | Newsphere by AF themes.