অক্টোবর ৩১, ২০২০

ঐক্যবদ্ধ হয়ে দেশ ও গণতন্ত্রকে মুক্ত করতে আন্দোলনের আহ্বান ফখরুলের

১ min read
নতুন আলো নিউজ ডেস্ক :খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে মানববন্ধনে দেশের সব মানুষ, রাজনৈতিক দলকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে দেশ ও গণতন্ত্রকে মুক্ত করতে আন্দোলনের আহ্বান জানিয়েছেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেছেন, সরকার ষড়যন্ত্র করছে। এই চক্রান্তের ফলে দেশ অকার্যকর হয়ে যাবে।
আজ মঙ্গলবার বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে মানববন্ধনে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এ মন্তব্য করেন। বেলা ১১টায় মানববন্ধন শুরুর কথা থাকলেও আধা ঘণ্টা আগে মানববন্ধন শুরু করে বিএনপি।
বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে মানববন্ধন করে বিএনপি। ছবি: হাসান রাজাবিএনপির আজকের মানববন্ধন প্রেসক্লাবের সামনের প্রবেশপথ এবং বহির্গমন পথ—এই দুই জায়গায় সীমাবদ্ধ করে দেয় পুলিশ। ফলে খুব অল্প জায়গায় গাদাগাদি করে দাঁড়ান নেতা-কর্মীরা। বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতারা রাস্তার মাঝে দাঁড়িয়ে বক্তব্য দেন। এ সময় পুলিশ তাঁদের ঘিরে রাখে। বিএনপি নেতাদের বক্তব্য চলার সময় দুপুর পৌনে ১২টার সময় হঠাৎ নেতা-কর্মীশূন্য হয়ে যায় মানববন্ধন। স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি শফিউল বারী বাবুকে পুলিশ আটক করেছে—এই খবর পাওয়ার পর নেতা-কর্মীরা গ্রেপ্তার এড়াতে সবাই তাড়াহুড়া করে মানববন্ধন স্থান ত্যাগ করেন।
মানববন্ধনে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, দেশ চক্রান্তের মধ্যে আছে। এর কারণ হলো, দেশের সবচেয়ে জনপ্রিয় লেখক, বিজ্ঞানী এবং সাহিত্যিক ড. জাফর ইকবালকে প্রকাশ্য দিবালোকে ছুরিকাঘাত করা হলো। অথচ কোনো তদন্ত না করে বলে দেওয়া হলো, বিএনপির এর জন্য দায়ী। যাদের ধরা হয়েছে, তারা সবাই আওয়ামী লীগের লোকজন। আজকে স্বাভাবিকভাবেই এই প্রশ্ন আসে যে শুধু ক্ষমতায় টিকে থাকার জন্য আওয়ামী লীগ হীন উদ্দেশে এই দেশকে কি একটি অকার্যকর রাষ্ট্রে পরিণত করতে চায়? একটি জঙ্গি রাষ্ট্রে পরিণত করতে চায়?
মানববন্ধনে এক ব্যক্তি খালেদা জিয়াকে মা উল্লেখ করে তাঁর মুক্তি দাবি করে প্ল্যাকার্ড তুলে ধরে। ছবি: হাসান রাজাফখরুল ইসলাম বলেন, শিক্ষাব্যবস্থা শেষ। প্রশ্নফাঁস এখন নিয়মিত ব্যাপার হয়ে দাঁড়িয়েছে। স্বাস্থ্যব্যবস্থা ভেঙে পড়েছে। ব্যাংকগুলো মুখ থুবড়ে পড়েছে। এই অবস্থার পরিপ্রেক্ষিতে দেশকে রক্ষা করতে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। তিনি বলেন, ‘স্বাধীনতার মাসে আমরা তাঁদের শ্রদ্ধা জানাই, যাঁদের রক্তের বিনিময়ে এই দেশ স্বাধীন হয়েছিল।’
মির্জা ফখরুল অভিযোগ করেন, দেশের সেই স্বাধীনতাকে বিপন্ন করে ফেলা হচ্ছে। নতজানু রাষ্ট্রে পরিণত করার জন্য এই সরকার চক্রান্ত করছে। এই সরকারের অধীনে কোনো নিরপেক্ষ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে পারে না। তিনি বলেন, খালেদা জিয়াকে মুক্তি দিতে হবে। সংসদ ভেঙে দিতে হবে। সবার জন্য সমান সুযোগ তৈরি করতে হবে।
বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেন, দেশ নাকি ডিজিটাল? অথচ নিম্ন আদালত থেকে হাইকোর্টের দূরত্ব তিন মাইলের দূরত্ব। এই তিন মাইল পার হয়ে ১০ দিনেও খালেদা জিয়ার মামলার নথি হাইকোর্টে এল না।
 স্থায়ী কমিটির আরেক সদস্য মওদুদ আহমদ বলেন, এই সরকার একটি ‘মিথ্যা’ ও ‘ভুয়া’ মামলায় খালেদা জিয়াকে শাস্তি দিয়েছে। সরকার খালেদা জিয়ার আইনি অধিকার, জামিন পর্যন্ত দিচ্ছে না। তিনি বলেন, নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচন দিতে এই সরকারকে বাধ্য করা হবে।
মানববন্ধনে সাবেক মেয়র ও স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস বলেন, লোভে পাপ, পাপে মৃত্যু। অনেক দিন শোষণ, লুট, খুন করেছে সরকার—এ সবকিছুর জবাব দিতে হবে।
বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান, ভাইস চেয়ারম্যান বরকত উল্লাহ বুলু, আবদুল আউয়াল মিন্টু, এ জেড এম জাহিদ হোসেন, আহমেদ আযম খান, কামাল ইবনে ইউসুফ, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা জয়নাল আবদিন ফারুক, আবদুস সালাম আজাদ, মহানগর উত্তর বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি বজলুল বাসিত, দক্ষিণের সাধারণ সম্পাদক কাজী আবুল বাশার, সুলতান সালাউদ্দিন টুকু, শফিউল বারী বাবু, ২০-দলীয় জোট নেতা মেজর জেনারেল (অব) সৈয়দ মুহাম্মদ ইবরাহিম, শাহাদাত হোসেন প্রমুখ মানববন্ধনে বক্তব্য দেন। মানববন্ধন সঞ্চালনা করেন শহীদ উদ্দিন চৌধুরী।

Leave a Reply

Your email address will not be published.

Copyright © notunalonews24.com All rights reserved. | Newsphere by AF themes.