ডিসেম্বর ৩, ২০২০

সিলেটে তিনঘন্টাব্যাপী সংঘর্ষে নিহত ২, আহত ৩০

১ min read

নতুন আলো নিউজ ডেস্ক :সিলেটের দক্ষিণ সুরমায় দুই গ্রামবাসীর সংঘর্ষে এক স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতাসহ দুইজন নিহত হয়েছেন। নিহতরা হচ্ছেন বরইকান্দি ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক লীগের সহ-সভাপতি বরইকান্দির মাঝপাড়া গ্রামের মাসুক মিয়া (৫০) ও একই এলাকার বাবুল মিয়া (৩৫)।

নিহত মাসুক মিয়া সদর উপজেলা শ্রমিকলীগ নেতা। তিনি সিলেট মহানগর যুবলীগের আহ্বায়ক কমিটির সদস্য ও সিলেট সরকারী কলেজ ছাত্র সংসদের সাবেক জিএস ফারুক আহমদের আপন বড় ভাই। আর বাবুল মিয়া বরইকান্দি ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতা।

টানা আড়াই থেকে তিনঘন্টাব্যাপী সংঘর্ষে আহত হয়েছেন অন্তত ৩০ জন। আহতদের মধ্যে সুজেল আহমদ, রুহেল মিয়া, সলিমুদ্দিন, তৈয়ব আলী, আবুল কাহের, নাজিম উদ্দিন, আহমদ হোসেন, তাজুল ইসলাম, ইলিয়াস ও দুলাল আহমদকে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

মঙ্গলবার রাতে দক্ষিণ সুরমা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খায়রুল ফজল জানিয়েছেন, এ ঘটনায় এখনো কেউ মামলা করেনি। এলাকায় অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

ওসি জানান, সংঘর্ষকালীন সময়ে ব্যবহৃত অবৈধ আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধারের চেষ্টা করছে পুলিশ।

পুলিশের ধারণা, নিহতরা এলজি অথবা শর্টগানের গুলিতে মারা গেছেন।

দক্ষিণ সুরমা থানা পুলিশ নিশ্চিত করেছে, সংঘর্ষকালীন সময়ে পুলিশ কোন গুলি বা টিয়ারশেল ছুঁড়েনি। শুধু লাঠিচার্জ ও ধাওয়া দিয়েই উভয়পক্ষকে নিবৃত্ত করার চেষ্টা করেছে। তবে পরিস্থিতি সামাল দেয়ার জন্য সংঘর্ষ শুরুর ঘন্টাখানেকের মধ্যে বিশেষ যান এপিসি নেয়া হয়।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, দ্রুতগতিতে মোটরসাইকেল চালানো নিয়ে গত সোমবার রাতে বরইকান্দি ১০ নম্বর রোডের দুখির পাড়ার বাসিন্দা কোম্পানীগঞ্জের তেলিখাল ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আব্দুল লতিফ আখলু মিয়ার ছেলের সঙ্গে বরইকান্দি এলাকার ৩ নম্বর রোডের মাঝপাড়া এলাকার বাসিন্দা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি গৌছ মিয়ার ছেলের কথা কাটাকাটি হয়। এর জেরে রাতেই আওয়ামী লীগ নেতা গৌছ মিয়া বিপুল সংখ্যক লোকজন নিয়ে দুখিরপাড়ায় আখলু মিয়ার বাড়িতে হামলা করেন। তখন দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা তৈরি হয়। এসময় অন্যান্য এলাকার লোকজন মিলে উভয় পক্ষকে নিবৃত্ত করেন। গতকাল মঙ্গলবার সকালে সালিশের মাধ্যমে বিষয়টি সমাধানের কথা ছিল।

কিন্তু সকাল হওয়ার সাথে সাথেই পাল্টে যায় দৃশ্যপট। কোম্পানীগঞ্জ থেকে চেয়ারম্যান আখলু পক্ষে বিপুল সংখ্যক লোক চলে আসেন বরইকান্দি থেকে। সকালে তাদেরকে সাথে নিয়ে আখলু চেয়ারম্যান সকাল ১০টায় আওয়ামী লীগ নেতা গৌছের বাড়িতে এসে হামলা চালান। এসময় দুই পক্ষের লোকজন সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। সংঘর্ষ চলাকালিন সময়ে পাল্টাপাল্টি গুলি বিনিময় হয়। ইটপাটকেল নিক্ষেপ হয়। এসময় বরইকান্দি এলাকার রণক্ষেত্রে পরিণত হয়।

সংঘর্ষ চলাকালিন সময়ে নিহত মাসুক মিয়া ও বাবুল মিয়া আওয়ামী লীগ নেতা গৌছ মিয়ার পক্ষের লোক। আখলু চেয়ারম্যানের পক্ষের লোকজনের ছোঁড়া গুলিতেই তাদের মৃত্যু হয়েছে বলে দাবি করেছেন গৌছ মিয়ার পক্ষের লোকজন। স্থানীয় একাধিক সূত্রও এমন তথ্য জানিয়েছে। এদিকে এ সংঘর্ষের পর থেকে বরইকান্দির এ দু’টি গ্রাম পুরুষশূণ্য রয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published.

Copyright © notunalonews24.com All rights reserved. | Newsphere by AF themes.