জানুয়ারি ২০, ২০২১

জগন্নাথপুরে ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুল হাশিম ৫ ঘন্টা অবরুদ্ধ

জগন্নাথপুর প্রতিনিধি : জগন্নাথপুরে এক ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানকে ৫ ঘন্টা অবরুদ্ধ করে রাখেন বিক্ষুব্দ জনতা। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধার করেছে ওই ইউপি চেয়ারম্যানকে।
বৃহস্পতিবার তিন সদস্য বিশিষ্ট একটি তদন্ত কমিটির সদস্যরা ঘটনাটি তদন্ত শুরু করেছেন।
এলাকাবাসী জানান, উপজেলার কলকলিয়া ইউনিয়ন পরিষদে ভিজিডির কার্ডপ্রাপ্ত লোকজনের মধ্যে বুধবার সরকারী চাল বিতরণ চলছিল। জনপ্রতি ৩০ কেজি করে চাল বিতরণ করার কথা থাকলেও ২৫ কেজি করে চাল দেওয়া হচ্ছে এমন অভিযোগ এনে প্রতিবাদ করেন ওই পরিষদের ইউপি সদস্য ইকবাল হোসেন সাজ্জাদ। এ খবর ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয় লোকজন বিক্ষুব্দ হয়ে পরিষদ প্রাঙ্গনে জড়ো হয়ে বিকেল ৫টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান যুক্তরাজ্য প্রবাসি আলহাজ্ব আব্দুল হাসিমকে তাঁর কার্যালয়ে অবরুদ্ধ করে রাখা করে বিক্ষোভ মিছিল করতে থাকেন। এ খবর পেয়ে জগন্নাথপুরের ইউএনও মোহাম্মদ মাসুম বিল্লাহর নেতৃত্বে একদল পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে চেয়ারম্যান আব্দুল হাসিমকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসেন। এ ঘটনাটি তদন্তের জন্য জগন্নাথপুর উপজেলা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশলী আবদুর রবকে প্রধান করে তিন সদস্য বিশিষ্ট একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে তদন্তের নির্দেশ দেন ইউএনও মোহাম্মদ মাসুম বিল্লাহ। তদন্ত কমিটির অপর দুই সদস্য হচ্ছেন উপজেলা খাদ্য কর্মকর্তা ধীরাজ নন্দী চৌধুরী ও জগন্নাথপুর থানার এসআই সাইফুল ইসলাম।
স্থানীয় একটি সুত্র জানায়, সম্প্রতি কলকলিয়া ইউনিয়নের সাদিপুর গ্রামের হাওরে বসন্ত মেলার নামে তিনদিন ব্যাপি অশ্লীল যাত্রানুষ্ঠান ও জুয়ার আসরসহ অসামাজিক কার্যকলাপের প্রচেষ্ঠা চালায় একটি প্রভাবশালী মহল। এসব অনৈতিক কার্যকলাপ বন্ধের প্রতিবাদে ইউপি চেয়ারম্যানের নেতৃত্বে সাদিপুর গ্রামবাসী ধারাবাহিক কর্মসুচীর পালন করতে থাকলে পুলিশ তা পন্ড করে দেয়। এ ঘটনায় মেলার আয়োজকরা চেয়ারম্যানের ওপর ক্ষুব্দ হয়ে চাল আত্মসাতের অভিযোগ এনে বিক্ষোভ করেছে বলে ওই সুত্র জানিয়েছে।
ইউনিয়ন পরিষদের ইউপি সদস্য ইকবাল হোসেন সাজাদ জানান, চেয়ারম্যানের নির্দেশে জনপ্রতি ৫ কেজি করে চাল কম দেওয়া হচ্ছিল। এসময় আমরা তার প্রতিবাদ করি। কিন্তু চেয়ারম্যান তা মানেন নি। পরে আমরা বিষয়টি পুলিশকে অবহিত করেছি।
এব্যাপারে কলকলিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আলহাজ্ব আব্দুল হাসিমের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, প্রবাস থেকে নাড়ির টানে এসে এলাকার উন্নয়নে কাজ করছি। পরিবার পরিজন প্রবাসে ফেলে দেশে রয়েছি। এঘটনাটি ষড়যন্ত্র।
তিনি বলেন, কিছু দিন আগে ইউনিয়নবাসীকে নিয়ে একটি অশ্লীল যাত্রানুষ্টানের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়ে তা প্রতিহত করেছি। আর এই যাত্রানুষ্টানে আয়োজরাই আমার বিরুদ্ধে জনগনকে ফুসলিয়েছে।
তদন্ত কমিটির প্রধান কর্মকর্তা জগন্নাথপুর উপজেলা জনস্বাস্থ্য কর্মকর্তা আবদুর রব জানান, অভিযোগের প্রেক্ষিতে আমরা তদন্ত শুরু করেছি। এরই মধ্যে ২১ টন চাল ইউনিয়ন পরিষদের গুদামে সিলগালা করা হয়েছে।
জগন্নাথপুরের ইউএনও মোহাম্মদ মাসুম বিল্লাহ বলেন, বিষয়টির তদন্ত চলছে। তদন্তে অনিয়মের প্রমান পাওয়া গেলে আইনানুগত ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published.

Copyright © notunalonews24.com All rights reserved. | Newsphere by AF themes.