ফেব্রুয়ারি ২৫, ২০২১

২৯ মার্চ সুনামগঞ্জ পৌরসভার উপ নির্বাচন, কে হবেন পৌর মেয়র?

১ min read

মুুুুহিবুুর রেজা টুনু জগন্নাথপুর :সুনামগঞ্জ সদর পৌরসভার উপ নির্বাচন আগামী ২৯ মার্চ। এই নির্বাচনকে ঘিরে পোস্টার, ব্যানার ও লিফলেটে ছেয়ে গেছে পুরো পৌর এলাকা। প্রার্থীদের পক্ষে চলছে মাইকিং। মধ্যরাত পর্যন্ত চালাচ্ছেন প্রচার-প্রচারণা ঘুম নেই প্রার্থীদের মধ্যে। নির্বাচনে মেয়র পদে ৩ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দিতায় রয়েছেন।
তারা হচ্ছেন- আওয়ামী লীগের প্রার্থী প্রয়াত মেয়র আয়ুব বখ্ত জগলুলের ছোট ভাই নাদের বখ্ত (নৌকা), স্বতন্ত্র প্রার্থী দেওয়ান গণিউল সালাদীন (মোবাইল), বিএনপি’র প্রার্থী দেওয়ান সাজাউর রাজা চৌধুরী সুমন (ধানের শীষ)। নির্বাচনী মাঠ ঘুরে জানা যায়, হাসন রাজার পরিবারের দুই প্রার্থী মাঠে থাকায় আওয়ামী লীগের নাদের বখ্ত এগিয়ে রয়েছেন সুবিধাজনক অবস্থানে। শক্তিশালী প্রার্থী প্রয়াত মেয়র আয়ুব বখ্ত জগলুল এই পৌরসভার দুবারের নির্বাচিত মেয়র ছিলেন।
তিনি এলাকায় বিভিন্ন উন্নয়নমূলক এবং সেবামূলক কাজে ব্যক্তিগতভাবে ব্যাপক অবদান রেখে গেছেন। সজ্জন ব্যক্তি হিসেবে তার সুনাম রয়েছে এলাকায়। তার মৃত্যুতে ভাইয়ের অসমাপ্ত কাজগুলো সমাপ্ত করার জন্য তাঁর ভাই নির্বাচনী মাঠে নেমে প্রচারণা করছেন সভা, বৈঠক ও মতবিনিময়সহ ব্যাপক গণসংযোগ।
এদিকে বিএনপির মনোনয়ন নিয়ে মাঠে নেমেছেন হাসন রাজার বংশধর। স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মাঠে নেমেছেন চার বারের নির্বাচিত উপজেলা চেয়ারম্যান দেওয়ান জাকেরীনের ভাই দেওয়ান গণিউল সালাদীন। তিনিও হাসন রাজার বংশধর। বিএনপির প্রার্থী সাজাউর রাজা বলেন, দল আমাকে মনোনয়ন দিয়েছে। বাড়ি বাড়ি গিয়ে ভোট প্রার্থনা করছি। বিএনপির ভোটার এবং কর্মী-সমর্থকরা ধানের শীষ প্রতীকে ঐক্যবদ্ধ আছেন।
আওয়ামী লীগের প্রার্থী নাদেরর বখ্ত বলেন, আমার ভাই ছিল এই পৌরসভার মেয়র। হঠ্যাৎ উনার মৃত্যু হওয়ায় বিদেশ থেকে দেশে চলে আসি। আর ভাইয়ের অসমাপ্ত কাজগুলো সমাপ্ত করার জন্যই দল আমাকে মনোনয়ন দিয়েছেন। নির্বাচনে জয়ী হলে ভাইয়ের অসমাপ্ত কাজগুলো সমাপ্ত করে সুন্দর ও মডেল পৌরসভা হিসেবে গড়ে তুলব সুনামগঞ্জকে। স্বতন্ত্র প্রার্থী দেওয়ান গণিউল সালাদীন বলেন, গত নির্বাচনেও আমি অংশ গ্রহন করেছি। ভোটাররা আমাকে খুব ভালবাসে। সুষ্ঠু নির্বাচন হলে আমিই নির্বাচিত হবো।
জেলা নির্বাচন কমিশন সূত্রে জানা যায়, সুনামগঞ্জ পৌরসভায় মোট ভোটার সংখ্যা ৪২ হাজার ৩২২জন। তার মধ্যে নারী ভোটার প্রায় ২১ হাজার ১৭৩ জন। পৌরসভার ১নং ওয়ার্ডে মোট ভোটার ৬ হাজার ৩৯৩ জন। এর মধ্যে নারী ভোটার ৩ হাজার ৩৫৫ জন।
এই ওয়ার্ডের নবীনগর এলাকায় নারী ভোটার ৮৪৮ জন, মাইজবাড়ি এলাকায় নারী ভোটার ১১২ জন, মোহাম্মদপুর এলাকা নারী ভোটার ১০৮২ জন, ষোলঘর উত্তর এলাকায় নারী ভোটার ৩১৬ জন এবং ষোলঘর কলোনী রোড এলাকায় ৯৯৭ জন নারী ভোটার রয়েছেন। ২নং ওয়ার্ডে মোট ভোটার ২ হাজার ৯৯২ জন। এর মধ্যে নারী ১ হাজার ৫৪২ জন। ২নং ওয়ার্ডের ষোলঘর কলোনী এলাকায় নারী ভোটার ৭৫১ জন, ষোলঘর দক্ষিণে ৩৩০ জন, হাছননগরে ২৩২ জন, হাছননগর দক্ষিণ এলাকায় ২২৯ জন নারী ভোটার রয়েছেন।
৩নং ওয়ার্ডে মোট ভোটার ৪ হাজার ২১৩ জন। এর মধ্যে নারী ২ হাজার ৮৬ জন। এই ওয়ার্ডের আপ্তাবনগরে নারী ভোটার ৫৩০ জন, কেজাউড়ায় নারী ভোটার ১০২ জন, নতুন হাছন নগরে ৭৭৯ জন, পাঠান বাড়িতে ১২২ জন এবং সুলতানপুরে নারী ভোটার সংখ্যা ৫৫৩ জন।
৪নং ওয়ার্ডে মোট ভোটার ৪ হাজার ৬৮২ জন। এর মধ্যে নারী ২ হাজার ২৮৫ জন। ৪নং ওয়ার্ডের উকিলপাড়া উত্তর এলাকায় নারী ভোটার ২৫৭ জন, উকিলপাড়া দক্ষিণে ২২৮ জন, জেইল রোডে ১৪১ জন, পূর্ব বাজারে ৬৮ জন, মধ্যবাজারে ২৪৩ জন, মোক্তারপাড়া ও রায় পাড়ায় ৩৭৬ জন, সোমপাড়ায় ১৫৬ জন এবং হাছননগর উত্তরে ৮১৬ জন নারী ভোটার রয়েছেন।
৫নং ওয়ার্ডে মোট ভোটার সংখ্যা ৫ হাজার ৪৬৯ জন। এর মধ্যে নারী ২ হাজার ৭৫২ জন। এই ওয়ার্ডের কালীবাড়ি সড়ক এলাকায় নারী ভোটার ২০৫ জন, জামাইপাড়ায় ১৫৬ জন, নতুনপাড়া পশ্চিম এলাকায় ৬২৭ জন, নতুনপাড়া পূর্ব এলাকায় ১০৮৯ জন, মহিলা কলেজ রোড এলাকায় ২৪৯ জন, হাজী পাড়ায় ২৪৯ জন নারী ভোটার রয়েছেন।
৬নং ওয়ার্ডে মোট ভোটার ৩ হাজার ৯৭০ জন। এর মধ্যে নারী ২ হাজার ৪১ জন। এই ওয়ার্ডের উত্তর আরপিননগর এলাকায় নারী ভোটার ৭৬৫ জন, জামতলায় ৩৬৭ জন, দক্ষিণ আরপিননগর এলাকায় ৩৯২ জন, পশ্চিম বাজার ১৮০ জন, মধ্য আরপিন নগর এলাকায় ৩৩৭ জন।
৭নং ওয়ার্ডে মোট ভোটার ৪ হাজার ১০০ জন। এর মধ্যে নারী ভোটার ২ হাজার ১১২ জন। এই ওয়ার্ডের আরপিন নগর দক্ষিণ এলাকায় নারী ভোটার ৩৭ জন, তেঘরিয়া পশ্চিম এলাকায় নারী ভোটার ১০৪৭ জন, তেঘরিয়া পূর্ব এলাকায় ১০২৮ জন নারী ভোটার রয়েছেন।
৮নং ওয়ার্ডে মোট ভোটার ৫ হাজার ৫৭ জনের মধ্যে নারী ভোটার ২ হাজার ৩৪৯ জন। এই ওয়ার্ডের মল্লিকপুরে ১১১২ জন, বড়পাড়ায় ১১০০ জন, পশ্চিম হাজী পাড়ায় ১৩৭ জন নারী ভোটার রয়েছেন।
৯নং ওয়ার্ডে মোট ভোটার ৫ হাজার ৪৪৬ জন। এর মধ্যে নারী ২ হাজার ৬৫১ জন। এই ওয়ার্ডের ইকবালনগরে নারী ভোটার ১২০ জন, ওয়েজখালিতে ১১৩৪ জন, কালীপুরে ৩৩৩ জন, গণিপুরে ১৩৮ জন, জলিলপুরে ৫৬২ জন, পিরিজপুরে ১৩৬ জন এবং হাছনবসত এলাকায় ২২৮ জন নারী ভোটার রয়েছেন।এই বিষয়ে পুলিশ সুপার বরকত উল্লাহ খান জানান, নির্বাচনে ৫ স্তরের নিরপত্তা জোরদার করা হবে। কোনো অপ্রীতির ঘটনা না ঘটার জন্য বিশেষ ভাবে নজর দেয়া হবে। কোনো রকম বিশৃঙ্খলা ছাড়াই সুষ্টুভাবে নির্বাচন অনুষ্টিত হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published.

Copyright © notunalonews24.com All rights reserved. | Newsphere by AF themes.