অক্টোবর ২৮, ২০২০

বিএনপির প্রার্থী চূড়ান্ত ও সরকারি দলে ঠিক হয়নি

১ min read

নতুন আলো নিউজ ডেস্ক : গাজীপুর ও খুলনা সিটি করপোরেশন নির্বাচনের তফসিল আজ শনিবার ঘোষণা করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। এদিন বিশেষ কমিশন সভায় দুই সিটির তফসিল অনুমোদনের পর ঘোষণা দেবে ইসি। সোমবার প্রধান নির্বাচন কমিশনার কে এম নূরুল হুদার সভাপতিত্বে কমিশন সভায় এ সিদ্ধান্ত হয়। ইতোমধ্যে গাজীপুরসহ পাঁচ সিটি কর্পোরেশন নির্বাচন আয়োজন করতে কোনো জটিলতা নেই বলে নির্বাচন কমিশনকে জানিয়েছে স্থানীয় সরকার বিভাগ। সরকারের এমন সিদ্ধান্তের পর আজ শনিবার ইসির সভা অনুষ্ঠিত হবে। এদিকে দুই সিটিতে বিএনপির প্রার্থী প্রায় চুড়ান্ত হলেও এখনো সরকার দলীয় প্রাথী চুড়ান্ত করা হয়নি। দুই সিটিতে আওয়ামীলীগের নতুন মুখ আসছে বলে দলীয় সূত্রে জানা গেছে।
এদিকে গাজীপুর ও খুলনা সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে অংশ নেয়ার ব্যাপারে ইতিবাচক মনোভাব পোষণ করছেন বিএনপির হাইকমান্ড। দলের নীতিনির্ধারকরা সরকারকে কোনো ক্ষেত্রেই বিনা চ্যালেঞ্জে ছেড়ে দিতে রাজি নয়। কারাবন্দি খালেদা জিয়াও নির্বাচনে যাওয়ার পক্ষে ইতিবাচক মত দিয়েছেন। এ জন্য আগামী রোববার সিনিয়র নেতাদের বৈঠক ডাকা হয়েছে। ওই বৈঠকেই সিটি নির্বাচনে যাওয়ার ব্যাপারে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হবে। এ দুই সিটিতে বিএনপির প্রার্থীও প্রায় চূড়ান্ত। গাজীপুরে বর্তমান মেয়র অধ্যাপক আবদুল মান্নানের মনোনয়ন পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। মনোনয়ন পেলে তিনি নির্বাচন করতে চান বলে তার ঘনিষ্ঠজনদের জানিয়েছেন। শারীরিক অসুস্থতার কারণে মান্নান নির্বাচন করতে না পারলে কেন্দ্রীয় নেতা হাসান উদ্দিন সরকারকে মনোনয়ন দেয়া হবে। এছাড়া খুলনায় দলের প্রার্থী পরিবর্তনের সম্ভাবনা নেই। বর্তমান মেয়র মনিরুজ্জামান মনিই ধানের শীষের প্রতীক পাচ্ছেন। তিনি প্রাথী হতে না পারলে অন্য একজনকে দেয়া হবে বলে বিএনপি সূত্রে জানা গেছে। অন্যদিকে সরকারি দলের প্রার্থীদের মধ্যে যাদের নাম শোনা যাচ্ছে তারা হলেন, গাজীপুরে জাহাঙ্গীর আলম. খুলনায় বর্তমান এমপির আব্দুল খালেকের নাম।
এদিকে নির্বাচন ভবনে অনুষ্ঠিত কমিশন সভা শেষে ইসি সচিব হেলালুদ্দীন আহমদ সাংবাদিকদের বলেন, ৫ সিটি করপোরেশনের মধ্যে খুলনা ও গাজীপুর সিটির ভোটের তফসিল শনিবার ঘোষণা করা হবে। নির্ধারিত সময় রেখেই এ ভোটের তারিখ নির্ধারণ করবে ইসি। গাজীপুর সিটি করপোরেশনে ২০১৩ সালের ৬ জুলাই ও খুলনা সিটিতে ২০১৩ সালের ১৫ জুন ভোট হলেও সিটি প্রথম সভা সেপ্টেম্বরে হয়েছিল। সে হিসাবে মার্চ থেকেই ভোটের দিনক্ষণ শুরু হয়েছে। এ দুই সিটির ভোটের মেয়াদ শেষ হবে ২০১৮ সালের ৮ সেপ্টেম্বরের মধ্যে। স্থানীয় সরকার (সিটি করপোরেশন) আইনানুযায়ী মেয়াদ শেষ হওয়ার ১৮০ দিন আগের সময়ে ভোটের বাধ্যবাধকতা রয়েছে। ইসি কর্মকর্তারা জানান, ২ এপ্রিল থেকে ৪ মে সময় পযন্ত এইচএসসি পরীক্ষা রয়েছে। ১৭ মে থেকে মাহে রমজান শুরু হচ্ছে। সেক্ষেত্রে ৪০-৪৫ সময় রেখে মে মাসের দ্বিতীয়ার্ধে দুইটি নির্বাচন এক দিনে করা হবে। বাকি তিন সিটি করপোরেশনের ভোটও একদিনে করার পরিকল্পনা রয়েছে। সেক্ষেত্রে ঈদের পরে সুবিধা জনক সময়ে ভোট করবে ইসি। আসছে রমজানের আগে গাজীপুর ও খুলনা সিটি ভোটের পর যথাসময়েই বাকি তিন সিটিতে ভোট আয়োজনের প্রস্তুতি নিয়ে রাখছে ইসি। যদিও এরই মধ্যে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কেএম নূরুল হুদা বলেছেন, জুলাইয়ের মধ্যে এসব নির্বাচন সম্পন্ন করতে চায় কমিশন। স¤প্রতি রাজশাহীতে সিইসি কে এম নূরুল হুদা বলেন, একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে আগামী জুলাইয়ের মধ্যে পাঁচ সিটি করপোরেশনে নির্বাচন করা হবে। এ নিয়ে কমিশনের সভায় সিদ্ধান্ত হবে। ইসির সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানাগেছে, গাজীপুর সিটি করপোরেশনের ৫ বছর মেয়াদ পূর্ণ হবে ৪ সেপ্টেম্বর, সিলেটের ৮ অক্টোবর, খুলনার ২৫ সেপ্টেম্বর, রাজশাহীর ৫ অক্টোবর এবং বরিশালের ২৩ অক্টোবর। স্থানীয় সরকার (সিটি করপোরেশন) আইন অনুযায়ী করপোরেশনের প্রথম বৈঠক থেকে ৫ বছর মেয়াদ পূর্ণ হওয়ার ১৮০ দিন আগে যেকোনো সময় নির্বাচন করতে হবে। গাজীপুর সিটির প্রথম সভা অনুষ্ঠিত হয় ২০১৩ সালের ৫ সেপ্টেম্বর। সেই হিসাবে আইন অনুযায়ী গাজীপুর সিটি ৮ মার্চ থেকে নির্বাচনের দিন গণনা শুরু হয়েছে। এছাড়া খুলনায় ২০১৩ সালের ১৫ জুন প্রথম সভা অনুষ্ঠিত হয়। সে হিসাবে এই সিটিতে নির্বাচনের দিন গণনা শুরু হবে ৩০ মার্চ। রাজশাহীতে প্রথম সভা হয় ২০১৩ সালের ৬ অক্টোবর। সে হিসাবে দিন গণনা শুরু হবে ৯ এপ্রিল। সিলেটে প্রথম সভা হয় ২০১৩ সালের ৯ অক্টোবর, সে হিসাবে দিন গণনা শুরু হবে ১১ এপ্রিল এবং বরিশাল সিটিতে প্রথম সভা হয় ২০১৩ সালের ২৪ অক্টোবর, সে হিসাবে ২৭ এপ্রিল থেকে নির্বাচনের দিন গণনা শুরু হবে। গাজীপুর, রাজশাহী, খুলনা, বরিশাল ও সিলেট সিটি করপোরেশনের সীমানা, ওয়ার্ড বিভক্তীকরণ, আদালতের আদেশ প্রতিপালন ও প্রাসঙ্গিক বিষয়ে সর্বশেষ অবস্থাসহ মতামত জানাতে স্থানীয় সরকার বিভাগকে দুই দফায় চিঠি দিয়েছিল ইসি। ইসির চিঠির প্রেক্ষিতে মাঠপর্যায়ে খোঁজ নেয়ার পর এই পাঁচ সিটি নির্বাচনে কোনো জটিলতা পাওয়া যায়নি বলে ইসিকে জানায় মন্ত্রণালয়।
গত ২৪ মার্চ নয়াপল্টনে দলের যৌথসভায় সিটি নির্বাচনে যাওয়ার বিষয়টি আলোচনা হয়। একাধিক নেতা এ ব্যাপারে দলের অবস্থান জানতে চান। তখন দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর জানান, এই ব্যাপারে চেয়ারপারসনের সঙ্গে পরামর্শ করে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়া হবে। সিটি নির্বাচনে অংশ নেয়াসহ সার্বিক পরিস্থিতিতে করণীয় চূড়ান্ত করতে কারাবন্দি খালেদা জিয়ার সঙ্গে দেখা করার জন্য দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর গত বৃহস্পতিবার তিনটায় দেখা করার অনুমতি পেলেও শেষ মুহূর্তে তা বাতিল করা হয়। খালেদা জিয়া অসুস্থ এমন দাবি করে কারা কর্তৃপক্ষ ফখরুলকে দেখা করার অনুমতি দেয়নি। আগামী সংসদ নির্বাচনের আগে সিটির মতো গুরুত্বপূর্ণ নির্বাচনে অংশ না নিলে তারা বিষয়টি ভালোভাবে নেবে না। এছাড়া অতীতের যে কোনো নির্বাচনের চেয়ে এ নির্বাচন দলটির কাছেও বেশ গুরুত্বপূর্ণ। আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে দলের জনপ্রিয়তার পাশাপাশি সাংগঠনিক অবস্থা সম্পর্কে একটা ধারণা পাওয়া যাবে। নির্বাচনকে কেন্দ্র করে নেতাকর্মীরা ভোটারদের কাছে যাওয়ার সুযোগ পাবে। সক্রিয় হওয়ার পাশাপাশি তাদের মধ্যে একটা চাঙ্গাভাব ফিরে আসবে। শেষ পর্যন্ত এসব নির্বাচনে জয়ের ধারা অব্যাহত রাখতে পারলে নেতাকর্মীদের মধ্যে আত্মবিশ্বাস বাড়বে। পাশাপাশি ধানের শীষের জনপ্রিয়তা বাড়ছে এমন একটি বার্তাও সাধারণ জনগণের মাঝে পৌঁছাবে, যা পরবর্তী জাতীয় নির্বাচনে ইতিবাচক ভূমিকা পালন করবে। ২০১৩ সালের ১৫ জুন একই দিন সিলেট, খুলনা, রাজশাহী ও বরিশাল এবং একই বছরের ৬ জুলাই গাজীপুর সিটি করপোরেশনে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছিল।

Leave a Reply

Your email address will not be published.

Copyright © notunalonews24.com All rights reserved. | Newsphere by AF themes.