অক্টোবর ৩১, ২০২০

জগন্নাথপুরে আ’লীগ নেতার বেফাঁস মন্তব্য : মুনিবের অনুমতি ছাড়া নামাজে ও যাওয়া যাবে না !!

১ min read

নিজস্ব প্রতিবেদক : : মনিবের অনুমিত ছাড়া নামাজেও যাওয়া যাবে না বলে মন্তব্য করেছেন যুক্তরাজ্য আওয়ামী লীগের মিডল্যান্ড শাখার সহ-সভাপতি আকমল খাঁন।

এমন অভিযোগ করেছেন সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুরের ইসহাকপুর পাবলিক উচ্চ বিদ্যালয়ের এগারো শিক্ষক।

তাঁদের লিখিত অভিযোগ থেকে জানা যায়, গত ৪ এপ্রিল বিদ্যালয়ের মধ্যাহৃ বিরতীর সময় স্কুলে যান নবগঠিত বিদ্যালয় ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি আওয়ামী লীগ নেতা আকমল খাঁন।

তিনি সেখানে গেলে শিক্ষক মিলনায়তনে উপস্থিত শিক্ষকদের সাথে আলোচনার মধ্যে সম্প্রতি বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রাসেল মিয়া বিয়েতে কে কে গেলেন। তা দেখতে আসছেন। যদিও তিনি বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আবদুজ জাহের-কে ব্যাংকে বলেছেন বিয়েতে ২/৩ শিক্ষককে নিয়ে যাবেন। তার অনুমতি সাপেক্ষে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক বিয়েতে যান। এরপর সভাপতি কেন দেখতে আসছেন ‘কে কে গেলেন’ সেটা জানতে চান শিক্ষকগন।

এছাড়া তাদের অভিযোগে আরেকটি বিষয় উল্লেখ করেন শিক্ষকবৃন্দ। বিষয়টি হলো বিদ্যালয় চলাকালীন সময়ে কোনো বিবাহ বা অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করা যাবে না কেন প্রশ্ন রেখেছেন এবং তাদের ভাষ্য বিদ্যালয় একটি সামাজিক প্রতিষ্ঠান। এই প্রতিষ্ঠানের ক্ষতি হয় না এমন কাজে অংশগ্রহণ করে থাকেন শিক্ষকবৃন্দ। তবে এনিয়ে নতুন নিষেধ কেন? সেটার ব্যাখা চাহিলেন শিক্ষকবৃন্দ।

এসব বিষয় নিয়ে কথা বলতে বলতে সভাপতি আকমল খান হাদিসের উদাহরণ দিয়ে বলেন, ” মনিবের অনুমিত ছাড়া নামাজেও যাওয়া যাবেনা।”

অথচ প্রতি মুসলিম জানেন নামাজ পড়তে হলে একজন মুসলিম হওয়া প্রধান সর্ত, দ্বিতীয়ত নামাজ তার উপর ফরজ যিনি সাবালক। এখানে তো সবাইও সাবালক। সাবালকদের নামাজ পড়তে আর কারো অনুমতি লাগে না। কেননা একজন মুসলিম সাবালক হওয়ার আগেই আল্লাহ তাকে সাবালক হওয়ার পরপরই অনুমিত দিয়েছন।

এখানে ‘মনিব’ বলতে সভাপতি বুঝিয়েছে তিনিই প্রতিষ্ঠানে সভাপতি তাই তিনিই মনিব। এমনটাই নাম প্রকাশের অনিচ্ছা সর্তে বেশ কয়েকজন শিক্ষক জানিয়েছেন। যা মুটোও কার্ম্য নয়।

হাদিসটি কোন হাদিসের কতো নং হাদিস ও কেনো শিক্ষকদের হাদিসের কথা শুনানো হলো সেটার ব্যাখা কি জানতে চান ওই এগারো শিক্ষক।

অভিযোগকারী শিক্ষকরা হলেন- সহকারী সিনিয়র শিক্ষক নারায়ন চন্দ্র পাল, জালাল উদ্দিন, সহকারী শিক্ষক তাজ উদ্দিন, ফিরোজা বেগম, তাজভিনা খাতুন, আশিকুর রহমান, নুরুল হক, মুহাম্মদ জহিরুল হক, মো. রাসেল মিয়া, অফিস সহকারী আবু তাহের।

এনিয়ে কথা বলতে চাহিলে সভাপতি ও প্রতিষ্ঠানের প্রধান শিক্ষকের সাথে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।

ঘটনার পর থেকে সর্বত্র সমালোচনার ঝড় বইছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published.

Copyright © notunalonews24.com All rights reserved. | Newsphere by AF themes.