ডিসেম্বর ২, ২০২০

সব রাজনৈতিক হিসাব পাল্টে দেয়া “জগন্নাথপুর উপজেলা নির্বাচন “

১ min read

সৈয়দ মাহফুজ আহমদ : 

আলোচনা ,সমালোচনা এবং সোশ্যাল মিডিয়া পোস্ট কমেন্ট ও অন লাইন পত্রিকায় নিউজ পোর্টালে  খবর নিয়ে সরগরম সদ্য অনুষ্ঠিত বহুল আলোচিত জগন্নাথপুর উপজেলা নির্বাচন ।

প্রশ্ন হলো কেন জগন্নাথপুর উপজেলা নির্বাচন আলোচনায় ? নির্বাচনে বিএনপি প্রার্থী আতাউর রহমান ধানের শীষে ভোট পেয়েছেন ২৯ হাজার ৯১৪টি, আওয়ামীলীগের মূল প্রার্থী আকমল হোসেন নৌকা প্রতীক নিয়ে পেয়েছেন ২৫ হাজার ১৯৮ ভোট, আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী মুক্তাদীর আহমদ মুক্তা আনারস প্রতীক নিয়ে পেয়েছেন ১৩ হাজার ৬১৫ ভোট। ভাইস চেয়ারম্যান পদে নির্বাচিত হয়ে আওয়ামীলীগের মুখ রেখেছেন বিজন কুমার দেব। নৌকা প্রতীক নিয়ে তিনি ভোট পেয়েছেন ২০ হাজার ২৪২ ভোট। তার প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপি প্রার্থী হাজি সোহেল আহমদ খান টুনু ধানের শীষ প্রতীকে ভোট পেয়েছেন ১৫ হাজার ৩৩৮টি।  চেয়ারম্যান পদে  বিএনপি প্রার্থীর কাছে হার মানতে হয়েছে আওয়ামীলীগ প্রার্থীকে। মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান  বিএনপির প্রার্থী ফারজানা আক্তার বিজয়ী হয়েছেন আওয়ামীলীগ প্রার্থী কে হারিয়ে জমিয়তের প্রার্থী ছালিম আহমদ কাসেমী ভাইস চেয়ারম্যান পদে নির্বাচন করায় বিএনপির প্রার্থী হাজি সুহেল আহমদ খান টুনুর পরাজয় হয়েছে বলে ভোটাররা মনে করেন।

সাবেক পররাষ্ট্র মন্ত্রী ভাটি বাংলার জাতীয় নেতা মরহুম আবদুস সামাদ আজাদের নিজ এলাকা এবং স্বাধীনতা পরবর্তী গোপালগঞ্জের পর নৌকার ঘাঁটি বলে পরিচিত জগন্নাথপুর উপজেলায় বিএনপির ধানের শীষের জয়জয়কারই আলোচনার মূল কারণ ।

প্রবাসীদের এলাকা বিশেষ করে যুক্তরাজ্যে বসবাসরত প্রবাসীরা জগন্নাথপুরের সামাজিক, অর্থনৈতিক , ও রাজনীতিতে মূখ্য ভূমিকা পালন করেন এবং বাংলাদেশের পর বর্হিবিশ্বে বাংলাদেশের রাজনীতিতে দুই প্রধান শক্তি আওয়ামীলীগ এবং বিএনপির প্রভাব বিস্তার করা নেতৃত্ব যুক্তরাজ্যের আওয়ামীলীগ ও বিএনপির সাধারণ সম্পাদক যথা ক্রমে  সৈয়দ সাজিদুর রাহমান ফারুক ও  এম কয়সর আহমদ দুজনের ই জগন্নাথপুরের সন্তান।  আর এজন্যই জগন্নাথপুর উপজেলা নির্বাচন এর রেশ বিলেতে বাংলাদেশী কমিনিউটিতে বিশেষ করে জগন্নাথপুর প্রবাসীদের আলোচনার বিষয় এবং নির্বাচনের ফলাফল  টক্ অব দা নিউজ ছিল গত এক সপ্তাহ ।বর্তমান সরকারের প্রধান মন্ত্রী শেখ হাসিনার আস্থাভাজন ইউকে আওয়ামিলীগের সাধারণ সম্পাদক  সৈয়দ সাজিদুর রাহমান ফারুক আহমদ লন্ডনে আকমল হুসেনের জন্য সভা করেছেন অন্য দিকে জগন্নাথপুর ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি বর্তমান যুক্তরাজ্যের .বিএনপির সাধারণ সম্পাদক বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমানের আস্থাভাজন এম কয়সর আহমেদ লন্ডনের বিভিন্ন শহরে সভা সমাবেশ করে দলীয় প্রার্থী আলহাজ্ব আতাউর রহমান কে বিজয়ী করে সফল হন। এই উপলক্ষে ইতি মধ্যে বিলেতের অনেক জায়গায় ইউকে বিএনপি মিষ্টি বিতরণ করে। অন্যদিকে আওয়ামীলীগ এর নেতা কর্মীরা নিজেদের মধ্যে আলোচনা সমালোচনা করে বিপর্যয়ের কারণ নিয়ে বিভিন্নআলোচনা  সমালোচনা করেছেন।

নির্বাচন প্রসঙ্গে যুক্তরাজ্য আওয়ামিলীগ এর সাধারণ সম্পাদক বলেন ঐতিহ্যবাহী জগন্নাথপুর নৌকার ঘাঁটি জাতীয়নেতা সাবেক পররাষ্ট্র মন্ত্রী মরহুম আজাদের এলাকা নৌকা প্রতীক স্বাধীনতার প্রতীক । আমাদের প্রার্থী আকমল হুসেন সব কিছুর পর উল্লেখ যোগ্য  ভোট পেয়েছেন নেতা কর্মীরা আরেকটু বেশী চেষ্টা করল তিনি পুনরায় নির্বাচিত হতে পারতেন।  তিনি আরো বলেন যুক্তরাজ্যে আওয়ামিলীগ এর দায়িত্ব পালনে ব্যস্ততার কারণে অনেক সময় ইচ্ছা থাকা সত্ত্বেও উপজেলা আওয়ামিলীগের সব সংবাদ রাখা সম্ভব হয় না ।

এই বিষয়ে যুক্তরাজ্য বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এম কয়সর আহমেদ বলেন জগন্নাথপুর বিএনপি ঐক্যবদ্ধ এবং জনগন গত কয়েক বৎসর জগন্নাথপুরের সরকারী দলের উপজেলা চেয়ারম্যান থাকা স্বত্ত্বে ও কাঙ্কিত তেমন উন্নয়ন হয়নি । জনগণ খুন গুম সন্ত্রাস ও বিনা ভোটের নির্বাচনের জবাব দিতে তাকিয়ে ছিল ।তার জবাব হচ্ছে উপজেলা নির্বাচনের ফলাফল ।জনগণ গণতন্ত্রের প্রতীক শহীদ জিয়ার প্রতীক স্বাধীনতা সার্বভৌমত্বের  প্রতীক ধানের শীষে ভোট দিয়েছে ।দল নিরেপেক্ষ নির্বাচন হলে এই ধারা অব্যাহত থাকবে জাতীয় নির্বাচনে ও। এদিকে জগন্নাথপুরে আওয়ামীলীগে ডন গ্রুপ বনাম সিদ্দিক গ্রুপ ইমন গ্রুপ বিভেদ প্রকাশ্যে চলে এসেছে যার প্রমান বিদ্রোহী প্রার্থী মুক্তাদির আহমেদ মুক্তা  

অন্য দিকে বিএনপি নিজেদের মধ্যে ভুলবুঝাবুঝি ফেলে এক হয়ে কর্নেল অব : সৈয়দ আলী আহমদ  ও আবু হুরায়রা সাদ মাস্টার, আখতার হুসেন ,মল্লিক সুহেল,  কবির আহমেদ এক হয়ে যার যার অবস্থান থেকে কাজ করেন ।তবে বিভেদ সৃষ্টি হয় জোটের অন্যতম শরিক জমিয়ত নেতা সাবেক এমপি শাহিনুর পাশার খেচুর গাছে ভাইস চেয়ারম্যান প্রার্থী নিয়ে ।যে কারণে বিএনপি ভাইস চেয়ারম্যান প্রার্থী পরাজিত হন । বর্তমানে জগন্নাথপুরের  নির্বাচন নিয়ে চলেছে চুলচেরা বিশ্লেষণ।বিশেষ করে বর্তমান সময়ের জনপ্রিয় সোশ্যাল মিডিয়া ফেইসবুকে মূলত নির্বাচনের দিন এবং পরবর্তীতে ফেইসবুকে কিছু পোস্ট করে বিতর্কে ঘি ডেলে দিলেন সাবেক এমপি জমিয়ত নেতা শাহিনুর পাশা  এবং সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান সাবেক আওয়ামীলীগ নেতা কবি দীনুল ইসলাম বাবুল ।নিজ প্রার্থীর বিভিন্ন অনিয়ম তুলে ফেইসবুক সরগরম করে রেখেছিলেন এবং আওয়ামিলীগের নেতাকর্মীরা তাঁকে কমেন্ট পাল্টা কমেন্টের মাধ্যমে উৎসাহ দিচ্চিলেন।

শাহিনুর পাশার বিষয়ে বিএনপি নেতাকর্মীদের অভিযোগ তিনি ধানের শীষ তথা জোট প্রার্থী হয়ে বিএনপির সহযোগিতায় এমপি নির্বাচিত হন এর আগে নিজ দল থেকে নির্বাচন করে খেচুর গাছ নিয়ে হাজার পাঁচেক ভোট পেয়েছিলেন যে ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে নির্বাচিত হলেন সেই প্রতীকের নেতা কর্মীদের পাশ কাটিয়ে সম্পূন ব্যাক্তি স্বার্থ ও একক আধিপত্য বিস্তার করতে গিয়ে হাজার হাজার বিএনপি নেতাকর্মীদের মনে দুঃখ দিয়েছেন ।জোটের কথা ও অতীত ভুলে গিয়ে তিনি  যে প্রার্থী  দিয়েছেন সেজন্য প্রার্থী পরাজয় বরণ করেন ।

সোশ্যাল মিডিয়া থেকে নেওয়া কিছু স্ট্যাটাস :

জগন্নাথপুরের সন্তান যুক্তরাজ্য বিএনপি নেতা মিসবাউজ্জামান সুহেল : গত উপজেলা নির্বাচনে দক্ষিণ সুনামগঞ্জে একই ভাবে ক্ষমতাসীন দলের সাথে আঁতাত করে উনার ভাইস চেয়ারম্যন বিজয়ী যে ভাবে করেছিলেন টিক সেই ভাবে তিনি জগন্নাথপুরেও চেষ্টা করেছিলেন, কিন্তু এবার আর শেষ রক্ষা হয়নি, উনার প্রার্থী পরাজিত হয়েছেন সেই সাথে খালেদা জিয়ার মনোনীত ধানের শীষের প্রার্থীকে পরাজিত করতে ভূমিকা রেখেছেন |

নির্বাচন শেষ হয়ে গেছে কিন্তু নির্বাচন পরবর্তী উত্তাপ চলছে অনলাইন ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে | বিএনপি নেতাকর্মীরা তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করছেন ২০ দলীয় জোটের নাম সর্বস্ব ওই নেতার প্রতি, ওই নেতাও কম নয় উনিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নিজেকে মরহুম আব্দুস সামাদ আজাদ এর সমকক্ষ দাবি করে স্টেটাস দিচ্ছেন | উনি হয়তো ভুলে গেছেন যে নির্বাচনে তিনি ধানের শীষ নিয়েই এমপি হয়েছিলেন 

দীনুল ইসলাম বাবুলের পোস্ট থেকে নেওয়া :“আর যাই হোক দালাল-বাটপার দিয়ে বঙ্গবন্ধুর দল ও আদর্শকে  টিকিয়ে রাখা মুস্কিল !”

উনার আরেকটি স্ট্যাটাস হচ্ছে : বিএনপির প্রর্থীদের বিজয়ে আমরা যতোটুকু খুশী নই ,তারচে বেশী নৌকার বাটপারদের পরাজয়ে।

যুক্তরাজ্য বিএনপির যুব বিষয়ক সম্পাদক  আব্দুল হামিদ খান হেভেন এর স্টেটাস :জগন্নাথপুরে যদি জমিয়তের খেজুর গাছ মার্কা প্রার্থী এত জনপ্রিয় হয়, তাহলে বিএনপির প্রার্থী হাজী সুহেল খান টুনুর চেয়ে এত কম ভোট পায় কেন ।

এসডি নাথ সঞ্জয় লিখেছেন  :জগন্নাথপুর উপজেলা নির্বাচনে বিজ্ঞদের সমন্বয়ে অজ্ঞতার প্রকাশ

পেয়েছিল (নমিনেশন)সেদিন, আজ শুধুমাএ আনুষ্ঠানিকতা হল। নির্বাচনী পর্যবেক্ষকরা বলছেন এই দায়বার কার? আমলা নেতা  নাকি বিগবস লিডারের …

আওয়ামী নামদারী কিছু চামচা ও তৈলবাজদের,সেলফিবাজ,ফেবুনেতাদের,অনুদানে টাকা ভাগবাটোয়ারা করে খাওরাদের,টেন্ডারবাজদের,? নাকি কুন্দলের ?

যদি_কোন্দলের  হয় তা হলে ফ্যাক্ট কে? ডন, মুক্তা, বিগবস অফ দ্যা জগন্নাথপুর? 

নাকি সাধারণ  মানুষ ও ভোটারা?

এ জয় জগন্নাথপুর উপজেলার সাধারণ মানুষের নিরব প্রতিবাদের জয়।  আজ যতটা না ধানের জয় হয়েছে তার চেয়ে বেশি জয় হয়েছে সাধারণ মানুষের  যারা স্বঘোষিত নেতা,চামচা,তৈলবাজদের কারনে হাইকমান্ডের  ধারেকাছে ভিরতে পারেননি,সুখ দুঃখের কথা বলতে পারেননি, মেডিকেলে গিয়ে সেবা পাননি,থানায় গিয়ে দালালদের কারনে সঠিক বিচার পাননি,জগন্নাথপুর টু সিলেটের রাস্তায় চলাচল করে পেইনকিলার ট্যাবলেট খেয়েছেন,ভূমি/সাবরেজিষ্টারী অফিসে গিয়ে দালালদের কপ্পরে পরে কান্না করছেন আমি বলব জয় হয়েছে তাদের ।

অভিনন্দন জগন্নাথপুর উপজেলার নবনির্বাচিত চেয়ারম্যান আতাউর রহমানকে।, আশা করি আপনার কাছে আমাদের মত সাধারণ(আওয়ামীপন্থী) মানুষের মূল্য তাকবে।এদিকে সাবেক এমপি  শাহিনুর পাশা তার অনেক বড়  ফেইসবুক স্টেটাস থেকে নেওয়া :

জাতীয় নেতা মরহুম আব্দুস সামাদ আজাদ পরবর্তি এই আসনে শাহীনূর পাশা র জনপ্রিয়তা এক শ্রেণীর হিংসুটে রাজনীতিবিদদের জন্য অন্তর্জ্বালার কারণ হয়েছে। তারা নিজেদের প্রার্থীর পক্ষে যতটুকু সময় দিয়েছে — তার চেয়ে বেশী সময় ব্যয় করেছে খেজুর গাছের বিরোধিতায়।

অপরিণামদর্শী সেই শ্রেণী নিজেদের অস্থিত্ব বিসর্জন দিয়ে হিন্দু প্রার্থীকে ভোট দিতে কুন্ঠাবোধ করেনি।

 এদিকে সৈয়দপুর শাহারপাড়া ইউনিয়ন ছাত্রদলের ফেইসবুক পেজ থেকে কড়াকড়ি স্ট্যাটাস দেওয়া হয় :

সৈয়দপুর হচ্ছে আওয়ামীলীগ, বিএনপির উর্বর ভূমি।প্রতিটি নির্বাচনে তাদের ভোট প্রায় সমানে সমান।কিন্তু  সম্প্রতি অনুষ্টিত উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে ভাইস চেয়ারম্যান পদে আঞ্চলিকতার দোহাই দিয়ে সৈয়দপুরবাসী ঐক্যবদ্ধ ভাবে খেজুর গাছে ভোট দিয়ে ছিল।ফলে সৈয়দপুরে খেজুর গাছ ৯০ ভাগ ভোট পেয়েছিল।কিন্তু এখন  কিছু পাতি নেতারা এ ভোট তাদের ভোট বলে হুংকার দিচ্ছে।।আরে আবুল এই ভোট গুলো যদি তাদের হয় তাহলে আওয়ামীলীগ, বিএনপি,খেলাফত মজলিস,জামায়াতে ইসলাম এসব দলের ভাট গেল কই?

বাংলাদেশ মানবাধিকার  কমিশন উপজেলা শাখার ভাইস চেয়ারম্যান –বদরুল ইসলাম খান এর জরিপেনির্বাচনের এক নজর ফলা ফল। আনারস- ধানের শীষ  প্রায় সমান সমান। নৌকা ৩য় স্থান আর সেইসাথে চমক দেখা যেতে পারে।

ভাইস চেয়ারম্যান  খেজুর গাছ সবার উপরে – ২ য় নৌকা ৩য় তালা ৪ নং ধানের শীষ। দেখাযাক ভোটারের কথায় ও কাজে কত ঠুকু মিল আছে। 

আওয়ামীলীগের গ্রপিং এবং বিএনপির সাথে ব্যাক্তি পাশার দূরত্ব সব কিছুই আগামী দিনের জগন্নাথপুর তথা দক্ষিণ সুনামগঞ্জে রাজনীতি ,আঞ্চলিক ও জাতীয় নির্বাচনে বিরাট প্রভাব ফেলবে  একথা  বলা যায় তবে রাজিনীতিতে শেষ কথা বলতে কিছুই নেই, ভবিষ্যৎই বলে দিবে ।  

জগন্নাথপুরবাসি  বর্তমানে শুধু উন্নয়নের অপেক্ষায় । তাদের প্রত্যাশা যেই তাদের কাংখিত উন্নয়ন নিয়ে আসবে তাদের পাশে জনগন থাকেবে ।

Leave a Reply

Your email address will not be published.

Copyright © notunalonews24.com All rights reserved. | Newsphere by AF themes.