অক্টোবর ৩০, ২০২০

শহীদ জিয়া — আঁধারে বাতিঘর  – শায়রুল কবির খাঁন

১ min read
শায়রুল কবির খাঁন

 

মে ৩০, বাংলাদেশের মানুষের জন্য ঘোর অন্ধকারাচ্ছন অভিশপ্ত এক দিন।  শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান বীর উত্তম এর শাহাদতবার্ষিকী। বছর ঘুরে ঘুরে এই দিনটি যখন বারে বারে আসে, তখন আমরা কি এক মহান ভিশনারি স্টেটম্যানকে হারালাম, সেই ভাবনায় ঘুমকাড়া বিষাদে বিচলিত হয়ে উঠি। বাংলাদেশের রাজনীতির মঞ্চে স্বল্প সময়ের জন্য উনি কাজ করতে পেরেছিলেন, কিন্তু পাঁচ বছরের তাঁর কাজ তাঁকে করেছে কালজয়ী এক মহা পুরুষ।

তাই ঐতিহাসিকভাবেই উনাকে সামনে রেখে তাঁর দেখানো পথে নতুন উদ্যমে শুরু করতে হবে আমাদের আগামীর প্রতিটি ভাবনা। তিনি আমাদের অগ্রগতির বাতিঘর। শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান বাংলাদেশকে বিশ্ব সম্প্রদায়ের সঙ্গে আমাদের ঐতিহ্য ও প্রগতির মধ্যে ঐকতান স্থাপনের প্রতিনিধিত্ব করছেন।

রাষ্ট্রযন্ত্রের মাধ্যমে ক্ষমতাসীনরা গণতন্ত্রপন্থী বিএনপি নেতা-কর্মী-সমর্থকদের ওপর দমন-পীড়নের মধ্য দিয়ে গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা পুরোপুরি ধ্বংস করেছে।

মিথ্যা ও ষড়যন্ত্রমূলক মামলায় ‘গণতন্ত্রের মা’ দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে কারাবন্দি করে রেখেছে জানুয়ারি ৫, ২০১৪ এর ভোটারবিহীন নির্বাচনে জবরদস্তি অবৈধ সরকার।

এ পরিস্থিতিতে বিএনপির নেতৃত্বের ওপর ন্যস্ত হয়েছে ঐতিহাসিক দায়িত্ব —

১. দলকে সাংগঠনিকভাবে মজবুত করে গড়ে তোলা। দেশের জনগণকে উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ গড়তে সাহায্য করা। যার মধ্য দিয়ে এই দীর্ঘমেয়াদি  কার্যক্রম নিরবচ্ছিন্ন থাকবে। ত্যাগী নেতাকর্মীদের নেতৃত্বে কাউন্সিলের মাধ্যমে কমিটি গঠন করতে তাদের সহযোগিতা করতে হবে যাতে  তারা তাদের ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব তৈরি করতে সক্ষম হয়।

২. গত কয়েক বছরে বিএনপির ওপর দিয়ে একাধিক ঘূর্ণিঝড়ের তাণ্ডব বয়ে গেছে। ঝড়ে গাছটি উপড়ে পড়ে যাওয়ার কথা কিন্তু পড়েনি, কারণ ‘বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদ’-এ বিএনপির আদর্শিক জায়গাটি মজবুত। ২০০৭-এর এক-এগারোতে মইন-ফখরুদ্দীন চক্র বিএনপি এবং জিয়া পরিবারকে ধ্বংস করতে প্রচণ্ড আঘাতের যে পরিকল্পনা করেছিল সেটা এখনও থামেনি। শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের স্মৃতিবিজড়িত বাসভবন থেকে দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে জোরপূর্বক উচ্ছেদ করা হয়েছে। দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া আগামীর কাণ্ডারী তারেক রহমান, জননেতা মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরসহ সারা দেশে লাখ লাখ নেতা-কর্মীর বিরুদ্ধে হাজার হাজার হয়রানিমূলক মামলা, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী দিয়ে ক্রমাগত নিপীড়ন, গুম-খুনের মধ্যে আমরা আমাদের আদর্শের নেতা শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের বিখ্যাত উক্তি ‘জনগণই সকল ক্ষমতার উৎস’ – সম্পর্কে অামাদের উপলব্ধি যতো বাড়বে আমাদের শক্তি তত বৃদ্ধি পাবে।

৩. ‘সুশাসনের জন্য পরিবর্তন’ এই শতকের চ্যালেঞ্জ। সব মানুষকে, নারী-পুরুষ সবাইকে পূর্ণ সম্ভাবনায় বিকশিত করার সুযোগ দিয়ে, পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে আমাদের অভিন্ন সমৃদ্ধি আসতে পারে। সামাজিক ব্যবস্থায় পুরুষের সক্ষমতা অর্জনের জন্য পুরুষদের মতো নারীরাও যারা তাদের ঐতিহ্যবাহী ভূমিকা বেছে নিতে পারে সে পরিবেশ অানতে হবে। সর্বাধিক কাঙ্ক্ষিত সুশাসনে আমাদের সমাজ, পরিবার, ঐতিহ্য ও ধর্মবিশ্বাস লালিত হলে সমাজের অগ্রগতি সাধিত হয়।

৪. দক্ষিণ কোরিয়া ও জাপানের মতো দেশগুলো তাদের নিজস্ব সংস্কৃতি বজায় রেখেই অর্থনীতির প্রভূত উন্নয়ন সাধন করছে। একইভাবে প্রযোজ্য কুয়ালালামপুর থেকে দুবাই পর্যন্ত মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশের বিস্ময়কর অগ্রগতির ক্ষেত্রে। যে কোনো উন্নয়ন কৌশল শুধুই দেশের প্রাকৃতিক সম্পদ নির্ভর হতে পারে না। বরং বেশি করে দরকার  বেকার জনশক্তিকে নিয়োজিত রাখা । তেলের কারণে উপসাগরীয় দেশগুলো বিশাল সম্পদের অধিকারী হয়েছে ঠিকই কিন্ত তারা তাদের সেই সম্পদ নিয়ন্ত্রণ করতে পারে না। অর্জিত সম্পদ যে পাশ্চা্ত্যে নিয়োজিত রাখে তার অাদৌ নির্ভযোগ্যতা নেই। তাই সেখানকার কোনো কোনো দেশ এখন ব্যাপক উন্নয়নের ওপর আলোকপাত করছে। কিন্তু সবাইকে এটা স্বীকার করতে হবে সুশাসনেই দিয়েছে শিক্ষা ও উদ্ভাবনী শক্তিকে কাজে লাগিয়ে অর্থনীতির প্রভূত উন্নয়ন সাধন করার । আমরা পিছিয়ে আছি সুশাসনের অভাবে। তাই আমাদের এই শতকের স্লোগান ‘পরিবর্তনের জন্য সুশাসন-সুশাসনের জন্য পরিবর্তন’ সুশাসন ফিরে এলে তবেই দক্ষিণ কোরিয়া, জাপান, মালয়েশিয়া, দুবাইয়ের মতো মাথা উঁচু করে দাঁড়াতে পারব, অংশীদারির ভিত্তিতে, শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের সুবিচার ও সমৃদ্ধির নীতি অনুসরণ করে।

  • লেখক বিএনপি চেয়ারপার্সন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার মিডিয়া টিমের সদস্য।

Leave a Reply

Your email address will not be published.

Copyright © notunalonews24.com All rights reserved. | Newsphere by AF themes.