অক্টোবর ৩০, ২০২০

আওয়ামী লীগ নেতাদের ক্ষমতার অপব্যবহার

১ min read

নতুন আলো নিউজ ডেস্ক : মাত্র এক ঘণ্টার ব্যবধানে আওয়ামী লীগের ও ছাত্রলীগের দুই নেতা দুটি অপ্রীতিকর ঘটনার জন্ম দিয়েছেন। গ্রেপ্তার হওয়া আসামিকে ছেড়ে দিতে রাজি না হওয়ায় গতকাল শনিবার দুপুরে ময়মনসিংহের গৌরীপুর থানায় ঢুকে এক এএসআইকে মারধর করেছেন আওয়ামী লীগ নেতা মো. রোকনুজ্জামান পল্লব। পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করেছে। তিনি গৌরীপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং গৌরীপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি মরহুম খালেদুজ্জামানের পুত্র। শরীয়তপুর সদর উপজেলায় তুচ্ছ ঘটনায় শুক্রবার রাত ৯টার দিকে প্রতিপক্ষের বাড়িতে ঢুকে নারীসহ ৫ জনকে পিটিয়ে জখম করেছেন শরীয়তপুর সরকারি কলেজ ছাত্রলীগের সদস্য সচিব আসাদুজ্জামান এরশাদ।গৌরীপুর থানার এএসআই হাসানুজ্জামান হাসান জানান, শুক্রবার রাত ২টার দিকে গৌরীপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সামনে থেকে আবু হানিফ (১৮), মনোয়ারুল হক (১৯) ও হাবিবুর রহমান(২০) নামে স্থানীয় ৩ যুবককে উচ্ছৃঙ্খল আচরণ করা অবস্থায় আটক করে থানায় নিয়ে আসেন তিনি। গতকাল দুপুর ১টার দিকে পল্লব থানার ডিউটি রুমে এসে উল্লেখিত তিন মাদকসেবী যুবককে গ্রেপ্তারের কৈফিয়ত চান। তিনি বিস্তারিত ঘটনা বলার পর আটককৃতদের ছেড়ে দিতে বলেন পল্লব। এতে অপারগতা প্রকাশ করলে তুমুল বাগতি-ায় জড়ান ওই নেতা। একপর্যায়ে ডিউটি রুমেই তাকে মারধর করে পুলিশের পোশাক টেনে ছিঁড়ে ফেলেন পল্লব। সহকর্মীরা আওয়ামী লীগ নেতার হাত থেকে তাকে উদ্ধার করেন। গৌরীপুর থানার অফিসার ইনচার্জ দেলোয়ার আহম্মদ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, থানার ভেতর পুলিশকে মারধর করার ঘটনায় এএসআই হাসানুজ্জামান হাসান বাদী হয়ে মামলা দায়ের করেছেন। সে মামলায় পুলিশ পল্লবকে গ্রেপ্তার করেছে।এদিকে শরীয়তপুর সদর উপজেলায় বাড়িতে ঢুকে এক পরিবারের নারীসহ পাঁচজনকে পেটানোর অভিযোগে শরীয়তপুর সরকারি কলেজ শাখা ছাত্রলীগের সদস্য সচিব আসাদুজ্জামান এরশাদের বিরুদ্ধে শনিবার সকালে পালং মডেল থানায় অভিযোগ করা হয়েছে। শুক্রবার রাত ৯টার দিকে সদর উপজেলার ডোমসার ইউনিয়নের কোয়ারপুর গ্রামে প্রতিপক্ষের বাড়িতে ঢুকে আসাদুজ্জামান পাঁচজনকে মারপিট করেন। আহতরা হলেনÑ ওই গ্রামের আবুল কালাম ঢালীর স্ত্রী সুইটি বেগম (৪০), মেয়ে লামিয়া আক্তার (১৭) ও চাঁদনী আক্তার (১৫), ভাতিজি বৃষ্টি আক্তার (১৭) এবং অনামিকা আক্তার (১২)। তাদের মধ্যে তিনজনকে শরীয়তপুর সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। আর দুইজনকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। তবে ঘটনার ব্যাপারে পরস্পরবিরোধী বক্তব্য পাওয়া গেছে।স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, কোয়ারপুর গ্রামের একটি উঠানে শুক্রবার দুপুরে ধান শুকাতে দেন গৃহবধূ সুইটি বেগম। এরশাদ সেই ধানের ওপর দিয়ে মোটরসাইকেল চালিয়ে যান। এতে নিষেধ করেন সুইটি। এ বিষয় নিয়ে তাদের মধ্যে বাগবিত-া হয়। রাত ৯টার দিকে এরশাদ তার লোকজন নিয়ে সুইটির ঘরে ঢুকে রড ও লাঠি দিয়ে পিটিয়ে পাঁচজনকে আহত করেন।আবুল কালাম ঢালীর স্ত্রী সুইটি বলেন, এরশাদ আমাদের মারধর ও বাড়িঘর ভাঙচুর করেছে। আমরা এর বিচার চাই। আমরা থানায় অভিযোগ করেছি। এরশাদ অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, কথাকাটির জের ধরে আবুল কালাম ঢালী ও তার সহযোগীরা আমার বাড়ি-ঘরে ভাঙচুর এবং আমাকে ও খালাতো ভাই অভিকে পিটিয়ে আহত করে। এ ব্যাপারে আমি পালং থানায় অভিযোগ করেছি। এ ব্যাপারে শরীয়তপুর জেলা ছাত্রলীগের আহ্বায়ক মহসিন মাদবর বলেন, এরশাদ যদি এমন ঘটনা ঘটিয়ে থাকেন, তাহলে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published.

Copyright © notunalonews24.com All rights reserved. | Newsphere by AF themes.