ডিসেম্বর ৫, ২০২০

অবাধ সুষ্ঠু নির্বাচনের পূর্বশর্ত সবার জন্য সমান সুযোগ নাবিহা রহমান( প্রেসিডিয়াম সদস্য এনডিপি)

১ min read

প্রেস বিজ্ঞপ্তি:কেবল দেশের গণতন্ত্রকামী জনগন নয়, গণতান্ত্রিক বহির্বিশ্বও বাংলাদেশে একটি অবাধ, সুষ্ঠু, গ্রহণযোগ্য নির্বাচন দেখতে উদগ্রীব। ক্ষমতাসীন সরকার সেনা-সমর্থিত এক-এগারো সরকারের সাজানো মামলায় বিএনপি এবং তার নেতৃত্বাধীন ২০ দলীয় জোটের প্রধান বেগম খালেদা জিয়াকে কারারুদ্ধ করার পর গণতান্ত্রিকবিশ্বের এ তাগিদ আরো বেড়ে গেছে বলে মনে করা যায়। সম্প্রতি আগামী নির্বাচন সামনে রেখেই বাংলাদেশ সফর করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের উপ-সহকারী ও জাতীয় নিরাপত্তা কাউন্সিলের জ্যেষ্ঠ পরিচালক লিসা কার্টিস। সফরকালে তিনি সরকারের দায়িত্বশীল ব্যক্তিদের সঙ্গে বিভিন্ন বৈঠকেই বাংলাদেশে সুষ্ঠু, অবাধ ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। বিশেষ করে পররাষ্ট্রমন্ত্রী আবুল হাসান মাহমুদ আলীর সঙ্গে সাাৎকালে তিনি বাংলাদেশের আগামী নির্বাচন প্রশ্নে যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান বা মনোভাব স্পষ্টভাবেই জানিয়ে দেন। সফরকালে তিনি পৃথকভাবে সাক্ষাৎ করেন প্রধানমন্ত্রীর নিরাপত্তা উপদেষ্টা মেজর জেনারেল (অব) তারিক আহমেদ সিদ্দিক এবং প্রধানমন্ত্রীর আন্তর্জাতিক বিষয়ক উপদেষ্টা ড. গওহর রিজভীর সঙ্গেও। এছাড়া পত্রিকার রিপোর্ট মতে, সাক্ষাতের চেষ্টা করা হয় প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গেও। যুক্তরাষ্ট্রের দূতাবাস থেকে সময় চাওয়া হয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে সাাতের জন্য। কিন্তু যে কারণেই হোক, সেটা শেষ পর্যন্ত সম্ভব হয়নি। সরকারের দায়িত্বশীল বিভিন্ন ব্যক্তির পাশাপাশি তিনি প্রায় ঘন্টাব্যাপী বৈঠক করেন বিএনপি নেতৃবৃন্দের সঙ্গেও। বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরসহ ওই বৈঠকে ছিলেন বিএনপির শীর্ষস্তরের তিন নেতা। বৈঠক সম্পর্কে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী গণমাধ্যমকে বলেন, বাংলাদেশে আইনের শাসন, মানবাধিকার, জননিরাপত্তা এগুলো যে তলানিতে নেমে গেছে তা সবার জানা। বাংলাদেশের গণতন্ত্র, নাগরিক অধিকার, নির্বাচন, বিরোধীদলের ওপর নিপীড়ন এগুলো এখনকার ইস্যু। এসব বিষয়ে বাংলাদেশের উন্নয়ন-সহযোগীদের মধ্যে চিন্তা-ভাবনা চলছে। বোধকরি রাজনীতি সচেতনদের জানা, লিসা কার্টিস যুক্তরাষ্ট্রের একজন গুরুত্বপূর্ণ কর্মকর্তা। তিনি মার্কিন প্রেসিডেন্টের জ্যেষ্ঠ উপদেষ্টা ছাড়াও দেশটির জাতীয় নিরাপত্তা কাউন্সিলের দণি এশিয়াবিষয়ক অন্যতম সিনিয়র পরিচালক। তার সা¤প্রতিক বাংলাদেশ সফর মূলত এই বার্তাই দেয় যে, যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশে অবাধ, সুষ্ঠু ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন দেখতে চায়। যদিও যুক্তরাষ্ট্র ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির ভোটারবিহীন নির্বাচনের সময় থেকেই বাংলাদেশ সরকারকে এ তাগিদ দিয়ে আসছে। স¤প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত মার্শা বার্নিকাটও বাংলাদেশের আগামী নির্বাচন প্রশ্নে যুক্তরাষ্ট্রের প্রত্যাশার কথা নতুন করে সরকারকে জানিয়েছেন। অনুরূপভাবে জানিয়েছেন বিশ্বের আরেক প্রভাবশালী দেশ ব্রিটেনের হাইকমিশনার অ্যালিসন ব্লেক এবং জাতিসংঘ মহাসচিবের মুখপাত্র স্টিফেন ডুজাররিকও। জাতিসংঘ মহাসচিবের প্রত্যাশা তুলে ধরে ডুজাররিক বলেন, ‘নির্বাচন তা বাংলাদেশ অথবা যেকোনো দেশেই হোক না কেন, অবাধ ও সুষ্ঠুভাবে হতেই হবে। এসব ঘটনায় পরিষ্কার, গোটা গণতান্ত্রিক বিশ্বেরই প্রত্যাশা বাংলাদেশে অবাধ, সুষ্ঠু ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন। ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির কথিত নির্বাচনের সময়ও গণতান্ত্রিকবিশ্বের এ প্রত্যাশা বা অবস্থান ছিল। কিন্তু ক্ষমতাসীন আওয়ামী সরকার তা আমলে নেয়নি। ফলে ক্ষমতাসীন সরকারও গণতান্ত্রিকবিশ্বের কাছে জনগণের নির্বাচিত সরকারের স্বীকৃতি পায়নি। এ কারণে দাতা দেশ ও সংস্থাগুলোও উন্নয়নের ক্ষেত্রে বাংলাদেশে ওপর থেকে অনেকটাই মুখ ফিরিয়ে নিয়েছে। ফলে উন্নয়ন থেকে ব্যাপক পিছিয়ে পড়েছে বাংলাদেশ। এ অবস্থায় আগামী নির্বাচনেও যদি ৫ জানুয়ারির পুনরাবৃত্তি ঘটে তবে তার পরিণতি ভয়াবহ হতে বাধ্য। পর্যবেক্ষক, গবেষক ও অভিজ্ঞদের মতে, দেশ ও জাতির সব সঙ্কট থেকে উত্তরণে সবকিছুর আগে জরুরি অবাধ, সুষ্ঠু, অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন, গণতান্ত্রিক সরকার। গণতান্ত্রিক সরকারের জনগণের কাছে দায়বদ্ধতা থাকে যেটা বর্তমান সরকারের নেই। দেশে গণতান্ত্রিক সরকার প্রতিষ্ঠার জন্য দরকার স্বচ্ছ নির্বাচন। আর স্বচ্ছ নির্বাচন অনুষ্ঠানের জন্য দরকার উপযুক্ত পরিবেশ যেখানে সব দলের জন্য থাকবে সমান সুযোগ। এরই মধ্যে গণতান্ত্রিকবিশ্বও তেমন পরিবেশ সৃষ্টির তাগিদ দেয়া শুরু করেছে। সম্প্রতি মার্কিন রাষ্ট্রদূত মাশা বার্নিকাট ঢাকায় সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে বলেন, বাংলাদেশের নির্বাচনী অভিজ্ঞতায় সহিংসতা একটি বড় সমস্যা। কেবল নির্বাচনী দিনের কর্মকান্ড সুষ্ঠু ও অবাধ নির্বাচনের মাপকাঠি নয়। বরং নির্বাচনের পুরো প্রক্রিয়াকে বিবেচনায় নিতে হয়। তাই বলা যায়, নির্বাচনী প্রক্রিয়ার পরিবেশ এখন চলমান। এ জন্য সমাবেশ, প্রতিবাদ বা ভোটারদের কাছে নিজের বার্তা পৌঁছে দেয়ার অধিকারটা মৌলিক। কোনো দল এই অধিকার থেকে বঞ্চিত হলে তা সুষ্ঠু ও অবাধ নির্বাচনী পরিবেশের ওপর প্রভাব ফেলে। নির্বাচনী প্রতিদ্ব›দ্বীদর কোনো ধরনের দমন-পীড়ন ছাড়াই প্রচারণার সুযোগ পাওয়া উচিত। দ্বিমত পোষণের সুযোগ নেই, নির্বাচনের পরিবেশ প্রশ্নে তিনি সমস্যাটি যথার্থই উপলব্ধি করেছেন। সব দলকে সমান সুযোগ দেয়া ছাড়া অবাধ সুষ্ঠু নির্বাচন হতে পারে না। কিন্তু দেখা যাচ্ছে, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা রাষ্ট্রীয় অর্থে দেশের বিভিন্ন স্থানে গিয়ে তার দলের পক্ষে নির্বাচনী প্রচারণা চালাচ্ছেন, আগামী নির্বাচনে দলীয় প্রতীকে ভোট চাচ্ছেন। অথচ বিরোধীদের ওপর চলছে হামলা-মামলা, ধরপাকড়, নির্যাতন। এমনকি বিরোধীদল ও জোটের শীর্ষনেতা বেগম খালেদা জিয়াকেও কারারুদ্ধ করা হয়েছে। সার্বিক পরিস্থিতিই প্রমাণ করে, দেশে সুষ্ঠু নির্বাচনের পরিবেশ নেই। ক্ষমতাসীন মহল আচরণবিধি লক্সঘন করে নির্বাচনী প্রচারণা চালাচ্ছে কিন্তু নির্বাচন কমিশন নির্বিকার। স্বভাবতই এই কমিশনের কাছে সুষ্ঠু নির্বাচন আশাও করা যায় না।

Leave a Reply

Your email address will not be published.

Copyright © notunalonews24.com All rights reserved. | Newsphere by AF themes.