অক্টোবর ২৬, ২০২০

৬৫ বছরের উর্ধ্বের সবাই ভাতা পাবেন: প্রতিমন্ত্রী এমএ মান্নান

১ min read

মো. মুন্না মিয়া :: সরকার ধারবাহিক ভাবে উন্নয়ন করে যাচ্ছে। ধারাবাহিক আওয়ামী লীগ সরকার রাষ্ট্র পরিচালনা করায় দেশের প্রত্যন্ত আঞ্চলে উন্নয়ন করা সম্ভব হচ্ছে। উন্নয়ন ধারাবাহিক। উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রাখতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সরকারে বিকল্প নাই। আগামী একাদশ সংসদ নির্বাচনে পুনরায় সরকার গঠন করতে পারলে ৬৫ বছরের উর্ধ্বে যতো লোক আছেন তাঁরা সবাই সরকারি ভাতা পাবেন। এমটাই বলছিলেন সরকারের অর্থ ও পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী এমএ মান্নান।

বৃহস্পতিবার (২৭ সেপ্টেম্বর) তাঁর নির্বাচনী এলাকার জগন্নাথপুর উপজেলার আশারকান্দি ইউনিয়নের দাওরাই বাজারস্থ “ষড়পল্লী স্কুল এন্ড কলেজে” ৪তলা বিশিষ্ট একাডেমিক ভবনের ভিত্তিপ্রস্তরস্থাপন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তৃতা তিনি বলেন- একদল দেশ বিরোধী লোক দেশের জনগণের কাছে না এসে লন্ডন আমেরিকার গিয়ে ষড়যন্ত্রে লিপ্ত রয়েছে। সেখানে গিয়ে বিশ্বের বিভিন্ন নেতাদের কাছে তদরিব করে যাচ্ছে। তাঁরা এদেশের জনগণ থেকে বিচ্ছিন্ন। এরা জনগণের কাছে তদবির করতে পারে না। ওরা জেনেও তদবির ও ষড়যন্ত্রে লিপ্ত রয়েছে। এদের রুখতে হবেৃ দেশ বিরোধী সকল ষড়যন্ত্রকারীদের অতীতের মতো রুখে দিতে হবে। নতুবা বাংলাদেশকে ধ্বংশ করে ফেলবে। এদের হাতে দেশ নিরাপদ নয়। এদেশের সকল ক্ষমতার উৎসই জনগণ। জনগণের রায়ে এদেশের সবকিছু চলে। জনগণ যে রায় দিবেন সেই রায় মেনে নিবেন বলে আমার নেত্রী ইতিমধ্যে বলে দিয়েছেন।

তিনি আওয়ামী লীগ সভাপতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্বাচনের ঘোষণার কথা উল্লেখ করে বলেন- “জনগণ ভোট দিলে ক্ষমতায় আসবো ; নতুবা ক্ষমতায় আসবো না।”

আওয়ামী লীগ দিয়েছে স্বাধীনতা। আওয়ামী লীগ দিয়ে যাচ্ছে উন্নয়ন। এই উন্নয়নের ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে আওয়ামী লীগকে আবার ক্ষমতায় আনতে সকলে আহ্বান জানান কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের সাবেক কার্যনির্বাহী সংসদের সদস্য মান্নান।

সুনামগঞ্জ-৩ আসনের এ সাংসদ বলেন – “আমাদের সরকার প্রতিটি প্রাথমিক বিদ্যালয়কে অষ্টম শ্রেণিতে উন্নতি করার পরিকল্পনা করেছে। যা শুরু হয়েছে। বাকিগুলো পর্যায়ক্রমে হবে। শুধু প্রাথমিক নয় ; মাধ্যমিক বিদ্যালয়কে মহাবিদ্যালয়ে ও মহাবিদ্যালয়কে ভার্সিটি করার পরিকল্পনা করেছে। ইতিপূর্বে বেশ প্রতিষ্ঠানকে এর আওতায় আনা হয়েছে। তৃনমূলে সর্ব্বোচ্চ শিক্ষার ব্যবস্থায় কাজ করে যাচ্ছে শেখ হাসিনার সরকার।”

” আওয়ামী লীগ সরকার প্রতিটি অঞ্চলের সকল নাগরিকের মৌলিক অধিকার পৌঁছে দিতে কাজ করছে। দেশের সকল ক্ষেত্রে উন্নয়ন হচ্ছে। এই উন্নয়ন পূর্ব কখনো করতে পারেনি কোনো দল। আমরা সেটা প্রমাণ করতে পেরেছি বঙ্গকণ্যার সুদক্ষ নেতৃত্বগুণে।”

প্রতিষ্ঠানের গর্ভনিং বডির সভাপতি ওয়াহিদ মিয়ার সভাপতিত্বে ও প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক মাওলানা সাইফুল ইসলামের পরিচালনায় বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন ও উপস্থিত ছিলেন- সুনামগঞ্জ জেলা পরিষদ সদস্য ও জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য মাহতাব উল হাসান সমুজ, জগন্নাথপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাহফুল আল মাসুম, উপজেলা পরিষদেরর ভাইস চেয়ারম্যান বিজন কুমার দেব, উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক রেজাউল করিম রিজু, আশারকান্দি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শাহ আবু ঈমানী, সাবেক চেয়ারম্যান আবদুল আহাদ মদরিছ, আইয়ুব খাঁ প্রমুখ।

এসময় প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন- “আমাদের প্রচুর অর্থ আছে। এসব অর্থের যোগানদাতা আমাদের সূর্য সন্তান প্রবাসীরা। যারা খুবই পরিশ্রম করে আমাদের স্বয়ং সম্পন্ন করেছেন। তাঁদের কারণে আমাদের দেশ এগিয়ে যাচ্ছে।আমি তাদের স্যালুট জানাই।”

তিনি উপস্থিত শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে বলেন- এদেশের আগামীর কর্ণধার তোমরাই। আমরা বয়োবৃদ্ধ হয়ে গেছি। এদেশ পরিচালন করতে হবে তোমাদের। তোমরা নিজেকে যোগ্য হিসেবে গড়ে তুলতে এখনো কাজ করতে হবে। কারণ আমি বিশ্বাস করি “তোমাদের হাতে হাসবে বাংলাদেশ।”

প্রতিমন্ত্রী কওমী মাদ্রাসা প্রসঙ্গে বলেন- আমরা কওমী মাদ্রাসার শিক্ষাকে স্বাগত জানাই। ইতিমধ্যে প্রধানমন্ত্রী দাওরায়ে হাদিসকে মাস্টার্সের সমমান করে দিয়েছেন। তাদের রাষ্ট্রের সকল কাজে অংশগ্রহণ করার সুযোগ করে দিয়েছেন। আমরা চাই কওমী মাদ্রাসার সঙ্গে কাজ করতে তবে প্রতিবন্ধকতা রয়েছে। এসব প্রতিবন্ধকতা দূর করে আমরা কওমী মাদ্রাকে এগিয়ে নিয়ে যেতে চাই।

অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন- ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি আজাদ কবেরী, সাধারণ সম্পাদক আবুল কয়েছ ইসরাইল, প্রতিমন্ত্রী একান্ত রাজনৈতিক সহকারী আবুল হাসনাত, উপজেলা যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক আবুল হোসেন লালন, যুগ্ম সম্পাদক ফারুক মিয়া, জুবেদ খাঁন, সাংগঠনিক সম্পাদক কাউন্সিলর গিয়াস উদ্দিন মুন্না, দপ্তর সম্পাদক দিলদার হোসেন মিটু, যুবলীগ নেতা এনামুল হক এনাম, উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি সাফরোজ ইসলাম মুন্না, সহ-সভাপতি আবদুল মমিন নাসির, মুহিবুর রহমান রাসেল, তোফায়েল আহমদ, যুগ্ম সম্পাদক আমির খাঁন সাব্বির, লুকমান মিয়া তালুকদার, দপ্তর সম্পাদক মো. মুন্না মিয়া, জগন্নাথপুর উপজেলা সেচ্ছাসেবকলীগের সহ- সভাপতি ও আশারকান্দি ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সাবেক সহ-সভাপতি রাজু চৌধুরী, আশারকান্দি ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সাধারন সম্পাদক এনায়েল খান, ইউনিয়ন ছাত্রলীগের নেতৃবৃন্দের মধ্যে রিজু সুলতান, আরিজ মিয়া, বেলাল, হোসাইন, জাবেদ, কয়েছ, জুবেল, ইকবাল, সুহেব, হিমেল, রফি, সাকিল, মাহিদ, সাকারিয়া, জুবায়েল, খালেদ, নুরুল আমিন, জুয়েল, সুজিত, সুকুর, মিসবাহ, শিমু, মামুন, শাহজাহান, সাকিল, রেজুয়ান, ফয়সল, হোসেন, উজ্জল, শাহীন, তুহিনুর প্রমূখ।

এছাড়া প্রতিমন্ত্রী সারাদিন উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় উন্নয়নমূলক একাধিক কাজের উদ্বোধন ও ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published.

Copyright © notunalonews24.com All rights reserved. | Newsphere by AF themes.