ডিসেম্বর ৫, ২০২০

জীবনে শত বাধা ও প্রতিকূলতার মধ্যেও থেমে থাকেনি বালাগঞ্জের লুতফা

১ min read
এক নারী পুলিশ সদস্যের সাইকেলে করে কর্মস্থলে যাওয়ার দৃশ্য সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে। তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল থানার কনস্টেবল লুত্ফা বেগমের সাইকেলে করে কর্মক্ষেত্রে যাওয়ার ওই ছবিটি গত সোমবার সকালে ফেইসবুকে পোস্ট করেন ঢাকা মহানগর পুলিশের গুলশান বিভাগের উপ-কমিশনার মোশতাক আহমেদ। লুত্ফা বেগম জীবন যুদ্ধে এক অদম্য নারী। জীবনে শত বাধা ও প্রতিকূলতার মধ্যেও তিনি থেমে থাকেননি। কারও সাহায্য কিংবা দয়া নেননি কখনই। কারো কাছে হাত পাতার কোন গল্পই নেই তার জীবনে। তিনি সবসময় চেষ্টা করেছেন নিজে থেকে কিছু একটা করার। দারিদ্র্যতা ও বেকারত্ব থেকে মুক্তি পেতে ২০০৮ সালের ৪ মার্চ তিনি পুলিশে যোগদান করেন। তার বাড়ি সিলেটের বালাগঞ্জ থানায়। এখন তিনি  রাজারবাগের পুলিশ হোস্টেলে থাকেন। এছাড়া চাকরির পাশাপাশি তিনি হাবিবুল্লাহ বাহার কলেজে রাষ্ট্রবিজ্ঞানে স্নাতকোত্তর করছেন।
গত সোমবার সকালে লুত্ফার ছবি দিয়ে ফেসবুকে ঢাকা মহানগর পুলিশের গুলশান বিভাগের উপ-কমিশনার মোশতাক আহমেদ লিখেছেন,“ পুলিশে পরিবর্তন বিস্মিত, অভিভূত আমি!! আজ সকালে আমি অফিসে আসার সময় মগবাজার মোড়ে দেখলাম একজন নারী কনস্টেবল সাইকেল চালিয়ে অফিসে যাচ্ছেন। তার কাঁধে ব্যাগ, মাথায় হেলমেট।” ১৬ বছরের চাকরি জীবনে পুলিশে বহু ইতিবাচক পরিবর্তন দেখলেও সাইকেলে করে এক নারী সহকর্মীর কর্মস্থলে যাওয়ার এই ঘটনা আলোড়িত করেছে বলে তিনি ফেইসবুকে লিখেছেন। তিনি আরো লিখেছেন, আমি বিশ্বাস করি লুত্ফার এরূপ কর্মস্থলে গমন বাংলাদেশ পুলিশের পরিবর্তন ও উন্নয়নের এক অবিস্মরণীয় মাইলফলক। তার সহকর্মী হতে পেরে আমি গর্বিত।
গতকাল তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল থানার কনস্টেবল লুত্ফা বেগম সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে জানান, ঢাকায় অনেক যানজট দেখে বেশ কিছুদিন ধরে সাইকেলেই যাতায়াত করছি। সাইকেল চড়েই অফিস যান। এমনকি অফিসিয়াল সকল ডিউটিতে যাতায়াতে সাইকেল ব্যবহার করেন।
লুত্ফা বেগম নিজেকে একজন সাধারণ কৃষকের মেয়ে হিসেবে বর্ণনা করে তার সংগ্রামী জীবনের কথা জানান। তিনি বলেন, ছোটবেলা থেকেই সংসারে অনেক অভাব অনটন ছিল, আমি সব সময় ভাবতাম কী করা যায় নিজে থেকে। বেকারত্বকে সবসময় ঘৃণা করে এসেছি, একটা দিনও বেকার থাকতে চাইনি। নবম শ্রেণি থেকেই টিউশনি করে নিজের খরচ নিজে চালিয়েছি।
এভাবেই ২০০৪ সালে সিলেটের বোয়ালপুর বাজার উচ্চ বিদ্যালয় থেকে মাধ্যমিক আর ২০০৬ সালে বালাগঞ্জ ডিগ্রি কলেজ থেকে উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষা পাশ করেন লুত্ফা। তিনি বলেন, ২০০৭ সালে যখন শুনলাম পুলিশের সার্কুলার দিয়েছে, আমার বাবা-মা কেউ রাজি ছিলেন না। মেয়েরা পুলিশে চাকরি করবে-তা আমাদের এলাকায় কেউ কল্পনাও করতে পারত না। শেষ পর্যন্ত বড় ভাই পরীক্ষা দিতে নিয়ে যান। পরীক্ষায় টিকেও যাই।

Leave a Reply

Your email address will not be published.

Copyright © notunalonews24.com All rights reserved. | Newsphere by AF themes.