নভেম্বর ২৪, ২০২০

প্রবাসী বাংলাদেশিরা নির্বাচনে অংশ নিতে পারবেন, সন্তানেরা নাগরিকত্ব পাবেন

১ min read

প্রস্তাবিত নাগরিকত্ব আইনে কড়াকড়ি শিথিল হচ্ছে

নতুন আলো নিউজ ডেস্ক : প্রস্তাবিত নাগরিকত্ব আইন-২০১৬ এ প্রবাসী নাগরিকদের স্থানীয় সরকার পদে নির্বাচন ও রাজনৈতিক সংগঠন করার সীমাবদ্ধতাটি তুলে দেওয়া হচ্ছে। প্রবাসীদের সন্তানদের নাগরিকত্ব নেওয়ার সুযোগের ক্ষেত্রে দুই বছরের সময়সীমাও বাদ দেওয়া হচ্ছে। ফলে জন্মের দুই বছরের মধ্যে নয়, যেকোনো সময় প্রবাসীদের সন্তানরা বাংলাদেশের নাগরিকত্ব নেওয়ার সুযোগ গ্রহন করতে পারবেন। এসব বিধান রেখে আইনটি চুড়ান্ত করা হচ্ছে।  
আজ বৃহস্পতিবার সকালে রাজধানীর সোনারগাঁও হোটেল মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত এ সংক্রান্ত গোলটেবিল বৈঠকেশেষে আইনমন্ত্রী মো. আনিসুল হক প্রস্তাবিত আইনের বিষয়ে আগের কড়াকড়ি বাদ দেওয়ার কথা বলেছেন। সংবিধান রক্ষা করে প্রবাসী নাগরিকদের যতটুকু অধিকার রক্ষা করা যায় তাই করা হবে বলে বলে তিনি জানিয়েছেন।  
‘সেন্টার ফর নন রেসিডেন্ট বাংলাদেশি’ নামের প্রবাসীদের একটি সংগঠন এ গোলটেবিল বৈঠকের আয়োজন করে। সেমিনারে প্রবাসী ও আইনজ্ঞরা প্রস্তাবিত আইনের বিভিন্ন বিষয়ে তাদের মতামত তুলে ধরেন। আলোচনা অনুষ্ঠানে মুল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন সেন্টার ফর এনআরবি এর চেয়ারপার্সন এম এস সেকিল চৌধুরী। গোলটেবিল বৈঠকে আলোচনায় অংশ নেন আইন বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রনালয়ের সচিব মো. শহীদুল হক, বিশিষ্ট আইনজীবী শাহদীন মালিক, অ্যাডভোকেট ইউসুফ হোসাইন হুমায়ুন, ব্যারিস্টার সিয়াম আল দীন, জালালাবাদ অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি তোফায়েল সামী, দুবাই প্রবাসী মামুন সরকার, যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী মায়া নেয়াল, ফ্যাশন ডিজাইনার তহুরা চৌধুরী, নারী উদ্যোক্তা প্রীতি চক্রবর্তী প্রমুখ।  
মুল প্রবন্ধে  এম এস সেকিল চৌধুরী বলেন, বিশ্বের ১৫২টি দেশে বাংলাদেশি বংশোদ্ভুত প্রায় ১ কোটি ৩০ লাখ লোক বসবাস করেন। এদের কেউ নাগরিকত্ব গ্রহন করেছেন, কেউ স্থায়ী নিবাসী হিসেবে কাজ করছেন, এদের বেশীর ভাগ বাংলাদেশি নাগরিকত্বের অধীনে নানা দেশে কর্মজীবী হিসেবে আছেন। কেউ কেউ ৩০-৩৫ বছর যাবত বিশ্বের নানা দেশে বাস করছেন। বিপুল সংখ্যক বাংলাদেশি দেশে অবস্থান না করায় এদের ভরণ-পোষণ, চিকিৎসা, বাসস্থান, শিক্ষাসহ যাবতীয় ব্যয়ভার ও আনুসাংগিক সেবা ব্যয় থেকে বাংলাদেশ মুক্ত রয়েছে। দেশের জন্য একটি বড় সাশ্রয়। প্রবাসীদের পাঠানো অর্থ বাংলাদেশের গ্রামীণ অর্থনীতিতে যুগান্তকারী অবদান রেখে চলেছে, গ্রামীণ মানুষের কর্মসংস্থান, দারিদ্র কমানো ক্রয় ক্ষমতা বাড়াতে রাখছে বৈপ্লবিক ভুমিকা। সামগ্রিক পরিস্থিতি বিবেচনায় নাগরিকত্ব আইনের সংশ্লিষ্ট ধারাগুলো পূনর্বিবেচনা করে প্রবাসী ও তাদের উত্তরাধিকারীদের পূর্ণাঙ্গ নাগরিক অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য লাগসই আইন দরকার। প্রস্তাবিত নাগরিকত্ব আইন কোনোভাবেই প্রবাসীদের জন্য প্রতিরোধমূলক হওয়া উচিত নয়। তাদের অবদান ও অংশগ্রহণ সমাজের কল্যাণে অর্ভ্যথনামূলক হওয়া উচিত।  
জানা গেছে, নাগরিকত্ব আইন ২০১৬- এর খসড়া গত বছরের ফেব্রুয়ারিতে মন্ত্রীসভায় অনুমোদন হয়েছে। এটি বর্তমানে আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ে ভেটিংয়ের বা যাছাইয়ের জন্য আছে। সেখান থেকে আবার মন্ত্রীসভায় পাঠানো হবে অনুমোদনের জন্য। মন্ত্রীসভায় অনুমোদন হলে তা সংসদে পাঠানো হবে অনুমোদনের জন্য। এ অবস্থায় আইনের বিভিন্ন অংশ নিয়ে প্রবাসীদের মধ্যে তাদের নাগরিকত্বের বিভিন্ন বিষয় ক্ষুন্ন হবে বলে আশংকা প্রকাশ করে আসছিলেন। নাগরিক হিসেবে নিজ দেশে নিগৃহীত হওয়ার মনোভাব সৃষ্টি হওয়ায় বহু প্রবাসী দেশে বিনিয়োগও কারছেন না। এ অবস্থায় আজ ও গোলটেবিল বৈঠক হয়। বৈঠকে নতুন সিদ্ধান্তের বিষয়টি জানার পর প্রবাসী ও তাদের স্বজনরা কিছুটা হলেও আশ্বস্থ হয়েছেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published.

Copyright © notunalonews24.com All rights reserved. | Newsphere by AF themes.