সেপ্টেম্বর ২৫, ২০২০

সরকারের আকার বাড়ছে বাড়ছে মন্ত্রণালয় বাড়ছে সচিব

সরকারের আকার বাড়ছে। এরই মধ্যে শিক্ষা ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ভেঙে চারটি বিভাগ করা হয়েছে। আরো তিনটি মন্ত্রণালয় ভেঙে ছয়টি বিভাগ করার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। এর মধ্যে একটি মন্ত্রণালয় ভেঙে দুইটি বিভাগ করার প্রক্রিয়া চূড়ান্ত পর্যায়ে। মন্ত্রণালয়ের সংখ্যা বাড়ার কারণে মন্ত্রী বা প্রতিমন্ত্রীর সংখ্যাও বাড়তে পারে। তবে মন্ত্রী বা প্রতিমন্ত্রী না বাড়লেও সচিবের সংখ্যা বাড়ছে। মূলত কাজে গতি আনতেই প্রশাসনিক কাঠামোয় এ পরিবর্তন আনা হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, গেল বছরের প্রথমদিকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কাজের সুবিধার জন্য পাঁচটি মন্ত্রণালয় ভেঙে অন্তত দশটি মন্ত্রণালয় বা বিভাগ করার বিষয়ে নীতিগত সম্মতি দেন। এরপরই মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ (সমন্বয় ও সংস্কার) এ বিষয়ে কাজ শুরু করে। দুইটি মন্ত্রণালয় থেকে সুনির্দিষ্ট প্রস্তাব দেয়ায় ওই সব মন্ত্রণালয় এরই মধ্যে আলাদা দুইটি বিভাগ হয়েছে। নতুন দুই বিভাগে সচিবও নিয়োগ করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, শিক্ষা ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পর স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয় দ্বিখণ্ডিত করার কাজ চলছে। স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় বিভাগ এবং বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়কে ভাগ করার কাজও চলছে। নতুন করে মন্ত্রণালয় বা বিভাগ বাড়ানো হলে মন্ত্রণালয়ের নির্বাহী কর্তৃপক্ষ তথা মন্ত্রী বা প্রতিমন্ত্রী নিয়োগ দেয়া হতে পারে। তবে এতে অন্তত ছয়টি সচিবের পদ বাড়বে। এতে প্রশাসনে গতিশীলতা আসবে এমন বিশ্বাস নিয়ে কার্যক্রম চলছে। এর আগে গত ১৯শে জানুয়ারি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ভেঙে জননিরাপত্তা বিভাগ এবং সুরক্ষা সেবা বিভাগে বিভক্ত করে আলাদা দুইটি বিভাগ গঠন সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ। এ আদেশ অনুযায়ী আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পরিচালনা ও তদারকির দায়িত্ব পালন করছে জননিরাপত্তা বিভাগ। সুরক্ষা সেবা বিভাগ দেখভাল করবে বাংলাদেশ ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স অধিদপ্তর, কারা অধিদপ্তর, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর এবং বহিরাগমন ও পাসপোর্ট অধিদপ্তর। দুইটি বিভাগ গঠনের পরই আলাদা দুই সচিব দায়িত্ব পালন করছেন। রুলস অব বিজনেস অনুযায়ী প্রধানমন্ত্রী স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় পুনর্গঠন করে দুটি বিভাগ গঠন করে দিয়েছেন বলে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের আদেশে উল্লেখ করা হয়। গত বছরের ৩০শে নভেম্বর শিক্ষা মন্ত্রণালয়কে ভেঙে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগ এবং কারিগরি ও মাদরাসা শিক্ষা বিভাগে ভাগ করে সরকার। ওই সিদ্ধান্তের ফলে বিশ্ববিদ্যালয়, কলেজ ও স্কুলসহ সাধারণ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো দেখভাল করছে মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক বিভাগ। মাদরাসা ও কারিগরি ও বিশেষায়িত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো কারিগরি ও মাদরাসা বিভাগ দেখাশোনা করছে। এ দুই বিভাগে আলাদা আলাদা সচিব এরই মধ্যে নিয়োগ করা হয়েছে। একইভাবে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের কাজের গতি বাড়াতে স্বাস্থ্যসেবা বিভাগ এবং স্বাস্থ্যশিক্ষা বিভাগ নামে দুটি বিভাগে ভাগ করা হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রীর এ সংক্রান্ত অনুশাসনের পর গত বৃহস্পতিবার মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে এনিয়ে উচ্চ পর্যায়ের বৈঠক হয়। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় ভাগ হলে স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের অধীনে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরসহ চিকিৎসা ও স্বাস্থ্যের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সবকিছু থাকবে। আর স্বাস্থ্যশিক্ষা বিভাগে পরিবার কল্যাণসহ অন্যান্য বিষয়গুলো থাকবে। দুই বিভাগে আলাদা দুই জন সচিব নিয়োগ করা হবে। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, স্থানীয় সরকার বিভাগ আবারো ভাগ করার চিন্তা ভাবনা রয়েছে। কারণ স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলোর কাজের পরিধি বাড়ায় শুধুমাত্র একটি বিভাগ দিয়ে কাজ করা কষ্টকর হয়ে পড়েছে। এজন্য স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলো যেমন সিটি করপোরেশন,  পৌরসভা, জেলা পরিষদ, উপজেলা পরিষদ ও ইউনিয়ন পরিষদ পরিচালনা ও তদারকিতে একটি বিভাগ করা হবে। আর অবকাঠামোর উন্নয়নে এলজিইডি, জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর, ওয়াসাসহ সংশ্লিষ্ট দপ্তর পরিচালনায় একটি বিভাগ তৈরি হবে। এছাড়া, বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়কেও দুই ভাগে ভাগ করা হবে। পর্যটনকে সম্পূর্ণ আলাদা করা হবে বিমান থেকে। বর্তমানে ৪৭টি মন্ত্রণালয় ও বিভাগের বিপরীতে ৭৭ জন সচিব রয়েছেন (পরিকল্পনা কমিশন, প্রাইভেটাইজেশন কমিশনের সদস্য, ভূমি আপিল ও ভূমি সংস্কার বোর্ডের চেয়ারম্যানসহ)। এছাড়া ৮টি মন্ত্রণালয়ের মধ্যে একাধিক বিভাগ রয়েছে। এদিকে ১৯৭২ সালে শিক্ষা, ধর্ম, খেলাধুলা ও সংস্কৃতিবিষয়ক যে মন্ত্রণালয় গঠন করা হয়েছিল, ১৯৯৩ সালের আগস্ট মাসে সেখান থেকে স্বতন্ত্র শিক্ষা মন্ত্রণালয় প্রতিষ্ঠা পায়। মুক্তিযুদ্ধকালে ১৯৭১ সালের ১০ই এপ্রিল মুজিবনগরে অস্থায়ী সরকার গঠনের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ সরকারের যাত্রা শুরুর সঙ্গে সঙ্গে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের যাত্রা হয়। যুদ্ধকালে অন্যান্য মন্ত্রণালয়ের মতো স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কাজের পরিধি এত ব্যাপক ছিল না। ১৬ই ডিসেম্বরের মহান মুক্তিযুদ্ধে বিজয় অর্জনের পর ঢাকায় সচিবালয় স্থানান্তর করা হয়। যুদ্ধবিধ্বস্ত বাংলাদেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি সামাল দেয়ার মধ্য দিয়েই মূলত এ মন্ত্রণালয়ের সার্বিক কার্যক্রম শুরু হয়। স্বাধীনতার পর স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের যাত্রা শুরু হয়। এ মন্ত্রণালয়ের অধীনে ৫টি বড় প্রতিষ্ঠান রয়েছে। অপরদিকে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয় এর আগেই দুটি ভাগ করা হয়েছে। এর মধ্যে একটি হচ্ছে স্থানীয় সরকার বিভাগ, অন্যটি হচ্ছে পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় বিভাগ। দুই বিভাগের দুজন সচিব রয়েছেন। ১৯৮৬ সালে সরকারি আদেশ অনুসারে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয় প্রতিষ্ঠিত হয়।

Leave a Reply

Your email address will not be published.

Copyright © notunalonews24.com All rights reserved. | Newsphere by AF themes.