বৃহঃ. সেপ্টে ২৪, ২০২০

অবৈধভাবে পাথর উত্তোলন জাফলংয়ে বোমা মেশিনের গর্তে বালু চাপায় দুজন নিহত

১ min read

সিলেটের গোয়াইনঘাট উপজেলার জাফলংয়ে এবার বোমা মেশিনের (পাথর উত্তোলনের যন্ত্র) গর্তে বালুচাপা পড়ে মারা গেলেন দুই শ্রমিক। গতকাল বৃহস্পতিবার সকালে ডাউকি নদীর তীরে নয়াবস্তি এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

এ নিয়ে এই উপজেলায় গত এক মাসের কিছু বেশি সময়ের মধ্যে পাথর উত্তোলন করতে গিয়ে আটজন নিহত হলেন। আর প্রায় দেড় মাসে গোয়াইনঘাট ও এর পার্শ্ববর্তী কোম্পানীগঞ্জ উপজেলায় পাথর উত্তোলনের নয় ঘটনায় প্রাণ হারালেন ১৬ জন।

পরিবেশ অধিদপ্তর সিলেটের সহকারী পরিচালক মোস্তাফিজুর রহমান জানান, ২০১৫ সালের ১৮ ফেব্রুয়ারি জাফলংকে প্রতিবেশ সংকটাপন্ন এলাকা (ইসিএ) ঘোষণা করে যন্ত্র দিয়ে পাথর উত্তোলনসহ পরিবেশ ধ্বংসকারী কর্মকাণ্ড নিষিদ্ধ করেন উচ্চ আদালত। এরপরও বিভিন্ন কৌশলে অবৈধভাবে পাথর উত্তোলন চলতে থাকায় প্রশাসন টাস্কফোর্স গঠন করে অভিযান শুরু করে। সর্বশেষ গত মঙ্গলবার মন্দিরজুম এলাকায় অভিযানে বোমা মেশিনসহ ২৩টি যন্ত্র জব্দ করা হয়। এর দুদিনের মাথায় মেশিনের গর্তে পড়ে নিহত হলেন দুই শ্রমিক।

গতকাল বৃহস্পতিবার সকাল আটটার দিকে ডাউকি নদীর তীরে নয়াবস্তি এলাকায় বোমা মেশিনের পরিত্যক্ত গর্তে নিহত হওয়া দুই শ্রমিক হলেন আকরাম হোসেন (৩৫) ও তাঁর শ্যালক লেচু মিয়া (২৫)। দুজনের বাড়ি সিলেট সদর উপজেলার টুকেরবাজার গ্রামে। তাঁরা দৈনিক মজুরির ভিত্তিতে শ্রমিকের কাজ করতেন। পরে পুলিশ তাঁদের লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য সিলেট এম এ জি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠায়।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, নয়াবস্তি এলাকায় ডাউকি নদীর তীরে বোমা মেশিনে সৃষ্ট অসংখ্য গর্ত সাম্প্রতিক পাহাড়ি ঢলে বালুতে ঢাকা পড়েছে। এ রকম একটি গর্তের পাশে বালু খুঁড়ে পাথর তুলছিলেন আকরাম, লেচু মিয়াসহ সাত-আটজন পাথরশ্রমিক। হঠাৎ গর্তের একটি স্থানে বালু দেবে গেলে আকরাম ও লেচু চাপা পড়েন। আশপাশের শ্রমিকেরা বালু খুঁড়ে বের করে দেখেন তাঁরা মারা গেছন।

গোয়াইনঘাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) দেলোয়ার হোসেন বলেন, বোমা মেশিনের পরিত্যক্ত গর্তে বালুচাপা পড়ে দুজন নিহত হয়েছেন। এ কারণে অন্যান্য ঘটনার মতো এ ঘটনায় কারও বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ পাওয়া যায়নি। পুলিশ একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছে।

এর আগে ৮ মার্চ গোয়াইনঘাট উপজেলার জাফলংয়ের মন্দিরজুম এলাকায় গর্ত ধসে এক ও ৯ ফেব্রুয়ারি চুনাকোয়ারিতে গর্ত ধসে দুই এবং ১০ ফেব্রুয়ারি উপজেলার বিছনাকান্দি পাথর কোয়ারিতে গর্ত ধসে তিন পাথরশ্রমিক মারা যান। এ বছরের ২৩ জানুয়ারি পাথর তুলতে গিয়ে গর্ত ধসে শ্রমিক হতাহতের প্রথম ঘটনা ঘটে কোম্পানীগঞ্জ উপজেলায়। শাহ আরেফিন টিলা এলাকায় পাঁচজন শ্রমিক নিহত হন। পরে ১১ ফেব্রুয়ারি একই জায়গায় ফের গর্ত ধসে নিহত হন আরেক শ্রমিক। এরপর ১ মার্চ আরেফিন টিলায় গর্ত ধসে এক পাথর ব্যবসায়ী ও ৬ মার্চ উৎমা পাথর কোয়ারিতে এক শ্রমিক নিহত হন।

Leave a Reply

Your email address will not be published.

Copyright © notunalonews24.com All rights reserved. | Newsphere by AF themes.