নভেম্বর ২৯, ২০২০

বিপরীত মতের প্রভাবশালী দুই নেতার বৈঠকের দিকে তাকিয়ে বিশ্ব

প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং জার্মান চ্যান্সেলর আঙ্গেলা ম্যার্কেল তর্কসাপেক্ষ পশ্চিমা বিশ্বের সবচেয়ে প্রভাবশালী দুই নেতা। মেজাজ এবং শরনার্থী ইস্যুসহ বিভিন্ন বিষয়ে তাদের দৃষ্টিভঙ্গিতেও রয়েছে বিস্তর ফারাক।

ট্রাম্প ও মার্কেলের মধ্যেকার শুক্রবারের এই বৈঠকটি মূলত গত মঙ্গলবারের জন্য নির্ধারিত ছিল কিন্তু ওয়াশিংটন ডিসির আবহাওয়ার কারণে তা স্থগিত করা হয়েছিল।

বৈঠকটিকে আটলান্টিকের উভয় পক্ষই অত্যন্ত ঘনিষ্ঠভাবে দেখছেন। বিশেষ করে নতুন প্রেসিডেন্টের ‘আমেরিকা প্রথম’ নীতির কারণে দেশ দুটির মধ্যে উদ্বেগের কারণে বৈঠকটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

 তবে, এই উদ্বেগের মধ্যেই মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও জার্মানির মধ্যকার দীর্ঘদিনের  ঘনিষ্ঠ সম্পর্ককে ঢেলে সাজানো হতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।

বার্লিনে জার্মান মার্শাল ফান্ডের সিনিয়র ট্রান্সআটলান্টিক ফেলো সুধা ডেভিড উইল্প বলেন, ‘হোয়াইট হাউস ও বিভিন্ন সংস্থার পক্ষ থেকে পরস্পরবিরোধী বিভিন্ন বার্তা আসার পরিপ্রেক্ষিতে আমরা এখনো নতুন প্রশাসনের দৃষ্টিভঙ্গি বুঝার পর্যায়ে রয়েছি।’

তিনি আরো বলেন, ‘তাই আমি মনে করি নির্দিষ্ট ট্রান্সআটলান্টিক বিষয়ে তার (ট্রাম্পের) অনুভূতি সম্পর্কে শীর্ষ পর্যায় থেকে শোনা চ্যান্সেলর এঙ্গেলা মার্কেলের জন্য অবশ্যই সহায়ক হবে।’

বৈঠকটি ট্রাম্পের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ হবে, বিশেষকরে ন্যাটো এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নের মত প্রতিষ্ঠানের প্রতি তার দৃষ্টিভঙ্গি স্পষ্ট করার ক্ষেত্রে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, কিছু কমন বিষয় খুঁজে পেতে এটি ট্রাম্প ও মার্কেলের জন্য একটি সম্ভাব্য সুযোগ, বিশেষত অর্থনৈতিক বিষয়ে।

রাজনৈতিক বিজ্ঞানী ও জার্মান টিভি নেটওয়ার্ক ‘এআরডি’র সাংবাদিক ফিলিপ বারগার্ড বলেন, ‘আমি মনে করি এ বিষয়ে জার্মানির উপলব্ধি সম্ভবত সবচেয়ে কঠিন এবং মার্কেলের দীর্ঘ কর্মজীবনে ট্রাম্পের সঙ্গে তার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ মিটিং হবে এটি কারণ বৈঠকটি জার্মানির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।’

 

এই দুই রাজনীতিবিদের মধ্যকার বৈঠকের গুরুত্ব অত্যন্ত জটিল কেননা তাদের মধ্য কখনোই অন্তরঙ্গ সম্পর্ক ছিল না। ট্রাম্প দীর্ঘদিন ধরে মার্কেলের সমালোচনা করে আসছে, বিশেষ করে উদ্বাস্তুদের আশ্রয় দেয়ায় মার্কেলের কঠোর সমালোচনা করেন ট্রাম্প।

 

নির্বাচনী প্রচারাভিযানের সময় ট্রাম্প তার ডেমোক্রেটিক প্রার্থী হিলারি ক্লিনটনকে ব্যঙ্গ করে তাকে ‘আমেরিকার অ্যাঞ্জেলা মার্কেল’ বলে অভিহিত করেন এবং মার্কেলকে উদ্দেশ্য করে তিনি মন্তব্য করেন, ‘এই নারীর উদ্বাস্তু নীতির কারণে জার্মানরা ধ্বংসের দিকে এগুচ্ছে।’

 

আরো আগে ২০১৫ সালে মার্কেল টাইম ম্যাগাজিনের ‘পারসন অফ দ্য ইয়ার’ খেতাবে ভূষিত হলে ট্রাম্প তার হতাশা প্রকাশ করে টুইট করেন ‘মার্কেল জার্মানিকে ধ্বংস করে দিচ্ছে’।

 

যদিও ট্রাম্পের এসব সমালোচনায় মার্কেল তার প্রতিক্রিয়া দেখানো থেকে বিরত থাকেন।

 

সোমবার মিউনিখে এক অনুষ্ঠানে মার্কেল বলেন, ‘আমি বিশ্বাস করি একে অপরের সম্পর্কে কথা বলা চেয়ে সরাসরি কথোপকথন সবসময়ই অনেক গুরুত্বপূর্ণ।’

 

তিনি বলেন, ‘একে অপরের সম্পর্কে কথা বলার পরিবর্তে একসঙ্গে কথা বলাই হচ্ছে আমার এই সফরের স্লোগান। আমি সত্যিই এই সফরের জন্য উন্মুখ হয়ে আছি।’

 

তা সত্ত্বেও, তিনি বেশ কিছু বিষয়ে কথা বলেন যা ট্রাম্পের কথা এবং কর্মে তার (মার্কেল) অনভিপ্রায় প্রকাশ করে।

 

নভেম্বরে ট্রাম্পের নির্বাচনের পর মার্কেল এক বিবৃতিতে উল্লেখ করেন যে, জার্মানি এবং যুক্তরাষ্ট্র ‘অভিন্ন মূল্যবোধে আবদ্ধ। দেশ দুটি গণতন্ত্র, স্বাধীনতার সঙ্গে আইনের শাসন ও মানুষের উৎপত্তি, গায়ের রঙ, ধর্মমত, লিঙ্গ, যৌন প্রবৃত্তি, বা রাজনৈতিক মতামত নির্বিশেষে প্রতিটি ব্যক্তির মর্যাদাকে সম্মান করে থাকে।

 

এসব মূল্যবোধের উপর ভিত্তি করে তিনি ট্রাম্পকে সহযোগিতার প্রস্তাব দিয়েছেন বলে মার্কেল জানান।

 

Leave a Reply

Your email address will not be published.

Copyright © notunalonews24.com All rights reserved. | Newsphere by AF themes.