মে ১১, ২০২১

আমরা সত্যিই অভাগা এক নেত্রীর কর্মী — নিক্সন চৌধুরী

১ min read

স্বাধীনতা সার্বভৌমত্ব ও গণতন্ত্রের অতন্দ্র প্রহরী, গণমানুষের সবচেয়ে প্রিয় নেত্রী বেগম খালেদা জিয়া হিংস্র হাসিনার প্রতিহিংসার স্বীকার হয়ে কারাগারের অন্ধকার প্রকোষ্ঠে ছিলেন দুই বছরেরও বেশি। এক বছরের অধিক সময় ধরে আছেন নিজ গৃহে কারাবন্দী।

দেশনেত্রী করোনা আক্রান্তের সংবাদ শোনার পর দেশ বিদেশে অগণিত নেতাকর্মী থেকে শুরু করে দেশের প্রতিটি বিবেকবান মানুষ উদ্বেগ উৎকণ্ঠার মধ্যে আছেন। গণমানুষের প্রিয় এই নেত্রীর জন্য সবাই প্রাণ খুলে দোয়া করার পাশাপাশি সবার মনে একটা প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছে; কাদের আন্তরিকতার অভাবে দেশনেত্রী এখনো কারাবন্দী রয়েছেন?? মিথ্যা মামলায় নেত্রীকে কারান্তরীন করার পর কেন্দ্রীয় নেতারা তথাকথিত শান্তিপূর্ণ আন্দোলনের নামে লোক দেখানো কিছু মানববন্ধন, প্রতিবাদ কর্মসূচি দিয়ে দায় সারছেন।দলের নীতি-নির্ধারকরা সরকারকে চাপে রেখে তার মুক্তি আদায় করার মতো কার্যকর কিছুই করতে তিন বছরে ব্যর্থ হয়েছেন।

প্রতিটি ক্ষেত্রেই তৃণমূলের কর্মীদের বার্তা দেয়া হয়েছে দেশনেত্রীর নির্দেশেই নাকি তথাকথিত শান্তিপূর্ণ আন্দোলন কর্মসূচি দিয়েছেন। এর পর নির্বাচনে অংশগ্রহণ করে বিজয়ী এক হালি দুইজন, শপথ গ্রহণ, সভা-সমাবেশ, আইনি প্রক্রিয়া আদালত সহ নানান আশ্বাস!!! কিন্তু নেত্রীর মুক্তি না হওয়ায় সিনিয়র নেতাদের এসব কথায় আর আস্থা রাখতে পারছি না আমরা তৃণমূলের কর্মীরা। বিক্ষোভ-মিছিল দিয়ে নেত্রী কোনদিনই মুক্তি পাবেন না। কঠোর কর্মসূচি দিয়ে সরকারকে বাধ্য করা ছাড়া কোন বিকল্প আছে বলে আমার মনে হয় না।

দলের জেলা-উপজেলা, বিভাগীয় যে স্থানেই নীতিনির্ধারণী নেতারা সভা-সমাবেশে গেছেন স্থানীয় নেতাকর্মীরা দাবি জানিয়েছেন কঠোর কর্মসূচি ঘোষণার। জীবন বাজী রেখে তারা সেসব কর্মসূচি সফল করার অঙ্গীকার করেন। কিন্তু তিন বছরেও কার্যকর কোন কর্মসূচি কিংবা আন্দোলন গড়ে তুলতে পারেননি আমাদের নেতারা। নেতাদের এমন নিরব ভূমিকা দেখে আমার মতো একজন নগন্য কর্মী বলতেই পারি নেত্রীর আজকের এই অবস্থার জন্য শুধু হিংস্র হাসিনা কেনো আপনারাও কম দায়ী নয়।

দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে বিএনপি
সরকার গঠনের পর দলটির অনেক নেতাই আঙুল ফুলে কলা গাছ হয়েছেন। যে নেত্রীর বদান্যতায় অনেকেই এমপি-মন্ত্রী, ধন-সম্পদের মালিক বনেছেন সেই নেতাদের অনেককেই এখন রাজপথে খুঁজে পাওয়া যায়না। এমনকি সর্বশেষ একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে বেগম খালেদা জিয়ার জনপ্রিয়তাকে ব্যবহার করে যে ৮জন এমপি হয়েছেন তারাও গত দুই বছরে কোন সভা-সমাবেশ বা কোন আন্দোলন কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ করেছেন বলে আমার চোখে পড়েনি।

আমরা সত্যিই অভাগা এক নেত্রীর কর্মী। যিনি শুধু দিয়েই গেছেন, বিনিময়ে পেলেন জেল-জুলুম, লজ্জা আর অপমান।

নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থী হতে চাইলেন সাড়ে ৪ হাজারের বেশি, তাদের মধ্যে ৩০০ জন মনোনয়ন পেলেন। এদের মধ্যে যদি ১০০জন প্রার্থী ও ৩০০ জন কেন্দ্রীয় নেতা রাজপথে সামনে থেকে নেতৃত্ব দেন তাহলে যেকোন আন্দোলন সফল হতে বাধ্য। দলের হাইকমান্ডের পক্ষ থেকে সার্কুলার জারি করা উচিত যাদেরকে পদ দেয়া হয়েছে তাদের প্রত্যেককে দল ঘোষিত প্রতিটি কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ করতে হবে। পদের যে দায়বদ্ধতা সেটি দৃশ্যমান হতে হবে।

স্বাধীনতা সার্বভৌমত্বের প্রতীক-গণতন্ত্রের অতন্দ্র প্রহরী। সুখী-সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ার একজন কারিগর। সমস্ত জাতি আজ তাঁর নেতৃত্বের অপেক্ষায়। মুক্তি চায় এই দুঃশাসন হতে। মাথা উঁচু করে দাঁড়াতে চায়। এই মাফিয়াতন্ত্রের হাত থেকে দেশ ও জাতিকে মুক্ত করে একটি গণতান্ত্রিক, আধুনিক, সমৃদ্ধ রাষ্ট্র নির্মাণে দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার নেতৃত্বের কোনো বিকল্প নেই। প্রিয় দেশনেত্রী যেনো দ্রুত সুস্থ হয়ে ওঠেন, যেনো বেঁচে থাকেন দীর্ঘদিন, পবিত্র রমজান মাসে শুধু এই প্রার্থনা করা ছাড়া আমার মতো একজন নগন্য কর্মী বা সমর্থকের আর কি বা করার আছে।

>>>>>>নিক্সন চৌধুরী<<<<<<
সিনিয়র যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক
যুক্তরাজ্য বিএনপি, ওল্ডহ্যাম শাখা।

Copyright © notunalonews24.com All rights reserved. | Newsphere by AF themes.