জুন ২৩, ২০২১

নতুন কমিটির অপেক্ষায় ছাত্রদল , সভাপতি হতে মরিয়া ইসহাক সরকার

১ min read

নতুন আলো নিউজ ডেস্ক :  ছাত্রদলের মেয়াদোত্তীর্ণ বর্তমান কমিটিকে অতীতের সবচেয়ে ব্যর্থ কমিটি বলে দাবি করে আসছে খোদ ছাত্রদলের নেতাকর্মীরাই। তাদের অভিযোগ, ছাত্রদলের বর্তমান কমিটি শুধু গ্রুপিং, কমিটি বাণিজ্যের মধ্যে সীমাবদ্ধ থেকেছে। দলের মধ্যে কোনো সমন্বয় তৈরি করতে পারেনি। তারা রাজপথে আন্দোলন, সংগ্রাম করতে না পেরে বছরজুড়েই বিবৃতি, নিন্দা, মিলাদ মাহফিলের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থেকেছে।

 

এদিকে ভবিষ্যৎ আন্দোলন-সংগ্রামের কথা মাথায় রেখে দ্রুতই দল পুনর্গঠনের কাজ সম্পন্ন করতে চায় দীর্ঘদিন রাজপথের আন্দোলন থেকে বাইরে থাকা বিএনপি। এর অংশ হিসেবে ইতোমধ্যে বিভিন্ন অঙ্গ সংগঠনের কমিটি গঠন করা হয়েছে।

 

জানা গেছে, শিগগিরই ঘোষণা করা হবে আন্দোলন-সংগ্রামে বিএনপির ‘নিউক্লিয়াস’ হিসেবে পরিচিত জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের নতুন কেন্দ্রীয় কমিটি। ছাত্রদলের নতুন কমিটি গঠনে তৎপরতা শুরু হওয়ায় পদের জন্য তদবির-লবিং শুরু করেছেন সংগঠনটির নেতাকর্মীরা।

 

এদিকে কেউ কেউ ঠাট্টা করে বলছেন, মেয়াদোত্তীর্ণ বর্তমান কমিটির সভাপতি ছাড়া সংগঠনের সবাই নেতা হতে চান।

সংগঠন সূত্রে জানা যায়, ছাত্রদলের মেয়াদোত্তীর্ণ বর্তমান কমিটির সাধারণ সম্পাদক আকরামুল হাসান ও সিনিয়র সহসভাপতি মামুনূর রশীদ মামুন সংগঠনের শীর্ষপদে থাকতে আগ্রহী। আরও কিছু নেতা ছাত্রদলের সভাপতি পদ পেতে নানাভাবে চেষ্টা করে যাচ্ছেন। তার মধ্যে অন্যতম কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের মেয়াদোত্তীর্ণ বর্তমান কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক ও ঢাকা মহানগর দক্ষিণ ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি ইসহাক সরকার।

 

ইসহাক সরকার দাবি, দুই শতাধিকের বেশি রাজনৈতিক মামলা রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এজন্য তার বাসার সামনে কখনো ডিবি পুলিশ, গভীর রাতে সাইলেন্সার নিয়ে র‌্যাবের অভিযান, সঙ্গে রয়েছে কোতয়ালী থানার প্রতি দিনকার নির্যাতন। শত নির্যাতনেও অবিচল থাকা এই নেতা নতুন কমিটির সভাপতি পদ পাবেন বলেন প্রত্যাশা করে আসছে।

 

জানা যায়, বিএনপির বিগত আন্দোলনগুলোতে ইসহাক সরকারের ভূমিকা ছিল মাঠে সরব। হরতাল-অবরোধসহ নানা রাজনৈতিক কর্মসূচিতে ইসহাক সামনে থেকে নেতৃত্ব দেন। বিশেষ করে ২০১৩ সালে নতুন করে আলোচনায় আসেন তিনি। শাহবাগে গাড়িতে আগুন থেকে শুরু করে লালবাগ, সূত্রাপুর, কোতোয়ালি, গুলিস্তান, পল্টন ও মতিঝিল এলাকার বিভিন্ন নাশকতাতেও নাম বেরিয়ে আসে ইসহাক সরকারের। ২০১৩ ও ২০১৪ সালে রাজপথে আন্দোলন সংগ্রামে ইসহাক সরকারের উপস্থিতি ছিলো চোখে পড়ার মতো।

 

বিএনপির একাধিক সূত্র জানায় , ‘৯৬ সালের শেষের দিকে ঘটনা। বরিশাল জেলা সফরের উদ্দেশে সদরঘাটের দিকে আসছিলেন তৎকালীন বিরোধী দলীয় নেত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার। তখন কয়েক শতাধিক কর্মী সমেত মিছিল-স্লোগানে সদর এলাকা মুখর করে তোলেন ৩৪নং ওয়ার্ডের ছাত্রদল নেতা ইসহাক সরকার। পাশেই গাড়িতে বসেছিলেন তৎকালীন ঢাকা মহানগর ছাত্রদলের সভাপতি প্রয়াত নাসিরউদ্দিন আহমেদ পিন্টু। মধ্যরাতে এতবড় শোডাউন দেখে ইসহাক সরকারকে কাছে ডাকেন তিনি। জিজ্ঞেস করেন নাম-পরিচয়। অনুরোধ করেন নয়াপল্টন কার্যালয়ে যাওয়ার। পরের দিনই হাজির হন নয়াপল্টনে। রাজনীতির প্রতি আগ্রহ দেখে তাৎক্ষণিকভাবেই তাকে কোতোয়ালি থানার দায়িত্ব দেন পিন্টু। এরপর থেকেই তার বিরুদ্ধে ঝড়ের গতি দায়ের হয় মামলা। শুরু হয় কারাগার আর ফেরারী জীবন। তার জন্য নির্যাতিত হয় পরিবারের অন্য সদস্যরাও। তবুও পিছু হটেননি, ছাড়েননি রাজনীতি। শত নির্যাতনেও তিনি ছিলেন অবিচল।

 

সূত্র জানায়, ওয়ার্ড থেকে থানার দায়িত্ব পেয়েই নেমে পড়েন রাজপথে। নিয়মিত অংশ নিতেন মিছিল-মিটিংয়ে। আধাবেলা হরতাল দিলে পুরান ঢাকায় পালন করতেন রাত পর্যন্ত। ৯৮ সালে রমনা পার্কে ছাত্রদলের কর্মসূচিতে ১৪৪ ধারা জারি করে প্রশাসন। ওই কর্মসূচিতে শতাধিক ছাত্রদল কর্মী নিয়ে অংশ নেন তিনি। মিছিল নিয়ে মৎস্য ভবনের মোড় আসতেই ৩৬ জন কর্মীসহ তাকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। থানা হাজতে খালি গায়ে তাদের বসিয়ে রাখা হয়। পরদিন তাদের কারাগারে পাঠিয়ে দেয়া হয়। ছোটভাই খাবার দিতে গেলে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। দেড় মাস পর জামিনে মুক্তি পান তিনি। ইতিমধ্যেই কয়েক ডজন মামলা দায়ের হয়েছে তার বিরুদ্ধে।

 

এর মধ্যে কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য হন তিনি। এদিকে স্কুলে পড়াকালে ছাত্র রাজনীতিতে জড়ালেও ৯৩ সালে এসএসসি পাস করে ভর্তি হন কবি নজরুল সরকারি কলেজে। এরপর ৯৮ সালের শেষের দিকে ডিগ্রি পরীক্ষা দিয়ে অংশ নেন মিছিলে। ওই দিন মিছিল থেকে ফের গ্রেপ্তার হন তিনি। এক মামলায় জামিন পেয়ে মুক্তি পেলেও জেলগেট থেকে ফের গ্রেপ্তার করা হয়। আর ঝুড়িতে যোগ হয় নতুন মামলা।

 

এই সুযোগে শীর্ষ সন্ত্রাসীদের তালিকায় তার নাম ঢুকিয়ে দিয়ে দেয় সরকার। ৯৯ সালে কারাগারে থাকাবস্থায় বাবার মৃত্যুর সংবাদ পান। তখন অপর দুই ভাইও কারাগারে। পেরুলে মুক্তি পেয়ে বাবার জানাজায় অংশ নেন। জেলগেটে তাকে স্বাগত জানান দলের তৎকালীন মহাসচিব মান্নান ভুইয়াসহ সিনিয়র নেতারা।

 

দুই ঘণ্টা পর ফের কারাগারে পাঠানো হয়। ২০০১ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে আড়াই বছর পর মুক্তি পান। এরপর বিএনপি ক্ষমতায় আসার এক সপ্তাহ পর অদৃশ্য কারণে ফের গ্রেপ্তার করা হন তিনি। টানা দেড় বছর কারাভোগ করেন। মুক্তি পেয়ে ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-প্রচার সম্পাদক হন। এরপর লাল্টু-পিন্টু কমিটি থেকে বাদ দেয়া হয় তাকে। ২০০৪ সালে ভালবাসার মানুষের সঙ্গে বিয়ে বন্ধনে আবদ্ধ হন। ওয়ান-ইলেভেনের আগ মুহূর্তে পুরান ঢাকার আওয়ামী লীগের আন্দোলন কর্মসূচি প্রতিহত করায় ভূমিকা রাখেন।

 

সূত্র আর জানায়, এরপর সেনা সমর্থিত মইনউদ্দিন-ফখরুদ্দীন সরকারের বিরুদ্ধে যখন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে আন্দোলন শুরু হয় তখন তিনি সেই ঢেউ ছড়িয়ে দেন পুরান ঢাকায়। দলের দুর্যোগ মুহূর্তে তৎকালীন বিএনপির মহাসচিব খোন্দকার দেলোয়ার হোসেনের সার্বক্ষণিক সঙ্গী ছিলেন। এরপর ২০১১ সালে সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরীকে গ্রেপ্তারের প্রতিবাদে পুরান ঢাকায় মিছিল থেকে ফের গ্রেপ্তার হন। সাড়ে তিন মাস পর জামিনে মুক্তি পান। এরপর দায়িত্ব পান ছাত্রদলের ঢাকা মহানগর দক্ষিণ শাখার সভাপতির।

 

তখন থেকেই শুরু হয় তার ফেরারী জীবন। তাকে গ্রেপ্তারে প্রায় বাসায় অভিযান চালায় পুলিশ। থাকতে পারেননি বাসায়। গ্রেপ্তার এড়াতে কৌশলী অবস্থানে থাকেন। চলাফেরাও করেন হিসাব কষে। মাঝে-মধ্যে রাজনৈতিক কর্মসূচিতে অংশ নিলেও সটকে পড়েন কৌশলে। ২০১৩ সালের অক্টোবরের শেষদিকে নির্বাচন ঠেকানোর আন্দোলন শুরু হলে রীতিমত তার পুরানঢাকার বাসার সামনে পাহারা বসায় পুলিশ। আন্দোলনের তীব্রতার সঙ্গে পাল্টা দিয়ে বাড়ে তার বিরুদ্ধে মামলা। মড়ার ওপর খাঁড়ার ঘা হিসেবে একের পর এক গুম হয়ে যান তার কর্মী। এক মাসের মধ্যেই হারিয়ে যান ৩৫নং ওয়ার্ডের জহির, পারভেজ, সোহেল ও চঞ্চলসহ তার হাতে গড়া সাত নেতা।

 

এরমধ্যে সোহেল হলেন আপন চাচাতো ভাতিজা। এছাড়া ওই আন্দোলনে দেড় শতাধিক কর্মী আহত ও পঙ্গুত্ব বরণ করেন। আন্দোলনে ভূমিকার কারণে পুরস্কারও দেন বিএনপি চেয়ারপারসন। ২০১৪ সালের কমিটিতে দায়িত্ব পান ছাত্রদলের সাংগঠনিক সম্পাদকের। দায়িত্ব পেয়ে পুরান ঢাকার ছাত্রদলের থানা ইউনিটগুলোকে শক্তিশালী করেন।

 

প্রকাশ্যে চলাফেরার না করতে পারলেও ভূমিকা রাখেন নেপথ্যে। ২০১৫ সালের শুরুর দিকে ৯২ দিনের আন্দোলনে তার বিরুদ্ধে দায়ের হয় ডজন ডজন মামলা। ইতিমধ্যে মামলার সংখ্যা দুই শতাধিক ছাড়িয়েছে। এর মধ্যে চার্জশিটভুক্ত মামলার সংখ্যা ২১৮। লাল বাতি জ্বলেছে পারিবারিক ব্যবসায়ও। ইতিমধ্যে বিক্রি করে দিয়েছেন পুরান ঢাকার বংশাল রোডের পার্টসের দোকানও।

 

ইসহাক সরকার বলেন, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের ভ্যানগার্ড বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের সকল নেতাকর্মীরা সকল প্রকার দুঃখ কষ্ট ভেদাভেদ ভূলে ঐক্যবদ্ধ ও শক্তিশালী হতে হবে। আমি আশা করি,  দেশের স্বাধীনতা সার্বভৌমত্ব রক্ষা ও দেশের হারিয়ে যাওয়া গণতন্ত্রকে ফিরিয়ে আনতে শক্তিশালী একটি নতুন কমিটির বিকল্প নেই।

 

তিনি বলেন, আমার বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া সবগুলো মামলাই রাজনৈতিক। আর শুধু রাজনীতি করার কারণেই আজ কাটাতে হচ্ছে পারিবারিক বন্ধনহীন এক দুঃসহ ফেরারী জীবন। সব সময় থাকতে হচ্ছে গ্রেপ্তার আতঙ্কে। এসব দিয়ে আমাকে আমার অবস্থান থেকে কখনোই থামাতে পারবে না সরকার। তৃণমূল থেকে শুরু করে উচ্চ পর্যায়ের সকলের দোয়া ও সহযোগিতায় নতুন কমিটিতে সভাপতি পদ পাবেন বলে প্রত্যাশা করেন তিনি।সুত্র সময়ের কন্ঠস্বর

Leave a Reply

Your email address will not be published.

Copyright © notunalonews24.com All rights reserved. | Newsphere by AF themes.