জুন ২৩, ২০২১

সাভারের বিভিন্ন জায়গায় যানবাহনে চাঁদাবাজি?

১ min read

মহাসড়কের হেমায়েতপুর, সাভার, বিশমাইল ও নবীনগর বাসস্ট্যান্ডে বাস-মিনিবাস, লেগুনা (হিউম্যান-হলার) ও ইজিবাইক থেকে চাঁদা আদায় করা হচ্ছে। হেমায়েতপুর বাসস্ট্যান্ড এলাকায় প্রতিটি পণ্যবাহী ট্রাক থেকে ২০ টাকা হারে চাঁদা আদায় করা হয়। ওই এলাকা থেকে গড়ে প্রতিদিন অন্তত ২ হাজার টাকা চাঁদা আদায় হয়। ট্রাকচালক আমজাদ হোসেনসহ কয়েকজন বলেন, কোনো ট্রাক হেমায়েতপুর-সিঙ্গাইর সড়কে ঢুকলেই ইব্রাহীম ও লাভলু নামের দুই তরুণ তাঁদের কাছ থেকে চাঁদা নেন।

জানতে চাইলে ইব্রাহীম বলেন, পঙ্গু ও মৃত শ্রমিকদের পরিবারকে সহায়তা করার জন্য আন্তজেলা ট্রাক চালক ইউনিয়নের হেমায়েতপুর শাখা থেকে এ চাঁদা আদায় করা হয়ে থাকে। তাঁরা পারিশ্রমিকের বিনিময়ে চাঁদা আদায় করে দেন। কথা বলার জন্য ইউনিয়নটির কার্যালয়ে গিয়ে গতকাল শনিবার কাউকে পাওয়া যায়নি। কারও মুঠোফোন নম্বরও পাওয়া যায়নি।

পরিবহন শ্রমিক ও মালিকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, সাভার বাসস্ট্যান্ড এলাকায় বাজার রোডের মোড়ে ইজিবাইক থেকে প্রতিদিন ৪৫ টাকা হারে চাঁদা আদায় করা হয়। মনির নামের এক যুবক প্রতিদিন সকালে চাঁদা আদায় করেন।

পশু হাসপাতালের সামনে সাভার-বিরুলিয়া-মিরপুরের মধ্যে চলাচলকারী মিনিবাস থেকে প্রতিদিন ২৭০ টাকা এবং লেগুনা থেকে ৩৫ টাকা হারে চাঁদা আদায় করা হয়। এখানে প্রতিদিন অন্তত ১১ হাজার ৬০০ টাকা আদায় হয়। কয়েকজন শ্রমিক বলেন, লাইনম্যান পরিচয়ে রাজু নামের এক ব্যক্তি তাঁদের কাছ থেকে চাঁদা আদায় করেন।

সিরাজ মার্কেটের সামনে প্রতিটি ব্যক্তিগত গাড়ি থেকে প্রতি মাসে আদায় করা হয় ৬০০ টাকা। বাবু নামের এক ব্যক্তি চাঁদা আদায় করেন বলে শ্রমিকেরা জানিয়েছেন। যোগাযোগ করা হলে বাবু এ বিষয়ে মিলন নামের এক ব্যক্তির সঙ্গে কথা বলার পরামর্শ দেন। মিলনের পরিচয় জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘তিনি (মিলন) বাসস্ট্যান্ডের দায়িত্বে আছেন। তাঁর কাছে সব তথ্য পাবেন।’ মিলনের মুঠোফোন নম্বর চাইলে তিনি দিচ্ছি বলে ফোন কেটে দেন।

জাতীয় মাশরুম উন্নয়ন ইনস্টিটিউটের সামনে প্রতিটি মিনিবাস থেকে দৈনিক আদায় করা হয় ৪০০ টাকা করে। এভাবে ওই স্থান থেকে প্রতিদিন আদায় হয় অন্তত ১২ হাজার টাকা। শ্রমিকেরা বলেন, বাবুল নামের এক ব্যক্তি তাঁদের কাছ থেকে চাঁদা আদায় করেন। কথা বলার জন্য দুই দিন ওই এলাকায় ঘুরে বাবুলকে পাওয়া যায়নি। তাঁর মুঠোফোন নম্বরও কেউ দিতে পারেননি।

বাসস্ট্যান্ড এলাকার নিউমার্কেটের সামনে ইজিবাইক থেকে প্রতিদিন ৭০ টাকা হারে এবং বিরুলিয়া রোডের মোড়ে ইজিবাইক থেকে ২০ টাকা ও লেগুনা থেকে প্রতিদিন ১০০ টাকা হারে চাঁদা আদায় করা হয়।

রানা প্লাজার ধসে পড়া ভবনের সামনে ব্যক্তিগত গাড়ি থেকে মাসে ৭০০ টাকা হারে চাঁদা আদায় করা হয় বলে চালকদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়। রানা প্লাজার উল্টো দিকে মনসুর মার্কেটের সামনে থেকে আদায় করা হয় মাসে ৫০০ টাকা হারে।

মনসুর মার্কেটের সামনে রেখে ভাড়ায় ব্যক্তিগত গাড়ি ও মাইক্রোবাস চালান এমন যানবাহনের কয়েকজন শ্রমিক বলেন, চাঁদার পাশাপাশি প্রতি মাসে তাঁদের কাছ থেকে একটি করে মাইক্রোবাসও নেওয়া হয় পুলিশের ডিউটি করানোর জন্য।

সাভার বাসস্ট্যান্ড থেকে এক কিলোমিটার দূরে রেডিও কলোনি বাসস্ট্যান্ডে ইজিবাইক থেকে প্রতিদিন ৬০ টাকা হারে চাঁদা আদায় করা হচ্ছে। সাভার পৌরসভার একজন কাউন্সিলর এই চাঁদা আদায় করেন বলে শ্রমিকেরা জানিয়েছেন। সরকারি দলে ঢুকতে না পেরে ওই কাউন্সিলর বর্তমানে আত্মগোপনে আছেন বলে আওয়ামী লীগের স্থানীয় একাধিক নেতা জানিয়েছেন।

মহাসড়কের বিশমাইলে বিশমাইল-জিরাব ও বিশমাইল-পানধোয়া সড়কে অন্তত ৬৩০টি ইজিবাইক চলাচল করে। এসব ইজিবাইক থেকে প্রতিদিন ১৩০ টাকা হারে চাঁদা আদায় করা হয়।

কয়েকজন শ্রমিক বলেন, আশুলিয়ার পানধোয়া এলাকার মাসুদ রানার নির্দেশে কয়েকজন তাঁদের কাছ থেকে চাঁদা আদায় করেন। কয়েক দিন আগে মাসুদের বিরুদ্ধে মামলা হওয়ায় চাঁদা আদায় করা হয় গোপনে।

ঢাকা জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) উত্তরের পরিদর্শক এ এফ এম সায়েদ বলেন, যানবাহনে চাঁদাবাজির অভিযোগে মাসুদসহ তিনজনের বিরুদ্ধে গত ১৪ মে আশুলিয়া থানায় দ্রুত বিচার আইনে মামলা করা হয়। তিনজনের বিরুদ্ধেই আদালতে অভিযোগপত্র দেওয়া হয়েছে। মামলার পর ওই এলাকায় চাঁদাবাজি বন্ধ হয়ে গেছে।

নবীনগর এলাকায় ধামরাই ও আব্দুল্লাহপুরের মধ্যে চলাচলকারী বাস-লেগুনা থেকে প্রতিদিন ৩৫ থেকে ১৫০ টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করা হয়।

বাসচালক আবদুর রহমানসহ বেশ কয়েকজন শ্রমিক বলেন, সুজন নামের এক যুবক বাস থেকে চাঁদা আদায় করে থাকেন। আর লেগুনা থেকে আদায় করেন কাদের নামের আরেক যুবক।

যোগাযোগ করা হলে সুজন বলেন, আশুলিয়ার ডেন্ডাবর এলাকার টিটু নামের এক ব্যক্তির কথায় তাঁরা চাঁদা আদায় করেন। টিটু চাঁদা আদায়ের সঙ্গে জড়িত থাকার কথা অস্বীকার করেন।

এ বিষয়ে ঢাকা জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আশরাফুল আজীম বলেন, যানবাহনে চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে পুলিশের অভিযান চলছে। ইতিমধ্যে কয়েকজন চাঁদাবাজের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। বাকিদের গ্রেপ্তারসহ চাঁদাবাজি বন্ধে পুলিশের অভিযান জোরদার করা হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published.

Copyright © notunalonews24.com All rights reserved. | Newsphere by AF themes.